প্রত্যয়ন পত্র লেখার নিয়ম এবং কিভাবে লিখবেন প্রত্যয়ন পত্র

প্রত্যয়ন পত্র লেখার নিয়ম

প্রায় সকল মানুষের জীবনে একটি জরুরী বিষয় হচ্ছে প্রত্যয়ন পত্র। বিভিন্ন কারনে বিভিন্ন প্রয়োজনে আমাদের প্রত্যয়ন পত্রের দরকার হয়ে থাকে। প্রত্যয়ন পত্র লেখার নিয়ম প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষই জানেন না। আর অজানাকে জানানোর জন্যই আমরা এই আর্টিকেলটি লিখছি। এই আর্টিকেলে আলোচনা করা হবে কিভাবে লিখবেন প্রত্যয়ন পত্র এবং প্রত্যয়ন পত্র লেখার নিয়ম। এছাড়াও এটিতে আলোচনা করব যে প্রত্যয়ন পত্র কি, প্রত্যয়ন পত্র english এ কিভাবে লিখবেন, প্রত্যয়ন পত্র ফরমেট এর কিছু ডেমো ইত্যাদি।

প্রত্যয়ন পত্র বিভিন্ন কারনে বিভিন্ন সময়ে দরকার পড়ে থাকে। ভিন্ন ভিন্ন প্রত্যয়ন পত্র ভিন্ন ভিন্ন ধরনের প্রত্যয়ন পত্র দরকার হয়ে থাকে। প্রত্যয়ন পত্রের কাজের ধরন অনুযায়ি বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। এই আর্টিকেলে আমি আলাদা আলাদা প্রত্যয়ন পত্র আলাদা আলাদা ভাবে আলোচনা করে থাকবো। আর আমি চেষ্টা করব এই আর্টিকেলে প্রত্যয়ন পত্রের PDF File এটাচ করে দিবো।

আমাদের এই বাংলাদেশে বিভিন্ন রকমের প্রত্যয়ন পত্র রয়েছে। যেমনঃ স্কুলের জন্য আলাদা প্রত্যয়ন পত্র, চাকরির জন্য প্রত্যয়ন পত্র, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আলাদা প্রত্যয়ন পত্র, কোম্পানির জন্য আলাদা প্রত্যয়ন পত্র, ইত্যাদি। এই আর্টিকেলের নিম্নে বিস্তারিত বর্ননা সহ বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। সবকিছু জানতে এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ন পড়ুন।

প্রত্যয়ন পত্র কি? – What is an attestation letter?

কোনো এক বিষয়ে অনাপত্তি সত্যায়ন করাকে প্রত্যয়ন পত্র বলা হয়। এর অর্থ হলো কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কোনো আপত্তি নেই। কখনও কখনও এটি একটি নির্দিষ্ট কারণের সাথে একজন ব্যক্তির জড়িত থাকাকে উল্লেখ করে।

আরও পড়ুনঃ  Chinstrap Penguin: যে পেঙ্গুইন মাত্র ৪ সেকেন্ড ঘুমায়, অসাধারন একটি পাখি

প্রত্যয়ন পত্র লেখার নিয়ম – Rules for writing an affidavit

একটি প্রত্যয়ন পত্রকে শুধুমাত্র একটি হলফনামা বলা যেতে পারে যদি এর নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলি থাকে। বৈশিষ্ট্যগুলি নীচে ব্যাখ্যা করা হলোঃ

  • 1) প্রত্যয়ন পত্র সর্বদা একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার একটি বিশেষ নোটপ্যাডে মুদ্রিত বা লেখার কপি থাকতে হবে।
  • 2) প্রত্যয়ন পত্রের শিরোনাম হিসাবে “প্রত্যয়ন পত্র” শব্দ অবশ্যই থাকতে হবে।
  • 3) প্রত্যয়ন পত্র প্রদানকারী ব্যক্তির নাম এবং ঠিকানা (পূর্ণ), সম্পূর্নভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
  • 4) প্রত্যয়ন পত্রটি দুটি ভাগে বিভক্ত যা মনের অভিব্যাক্তি বা সম্পূর্ন ভাব প্রকাশ করে থাকে।
  • 5) প্রত্যয়ন পত্রে স্বাক্ষরকারী ব্যক্তির নাম এবং সংশ্লিষ্টতা অবশ্যই উল্লেখ থাকা লাগবে।
  • 6) এগুলি ছাড়াও, প্রত্যয়ন পত্র প্রদানকারীর সীলমোহর, সংশ্লিষ্ট কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠানের সিল স্পষ্টভাবে নির্দেশ করতে হবে।

প্রত্যয়ন পত্র লেখার নিয়ম এর ডেমো

নমুনা প্রত্যয়ন পত্র দেখার আগে, উপরে উল্লিখিত নিয়মগুলি জানা এবং বোঝা উচিত। আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রত্যয়ন পত্র লেখার উদাহরণ প্রস্তুত করেছি। যা এই আর্টিকেলে দেয়া থাকবে।

প্রত্যয়ন পত্র লেখার নিয়ম English

বাংলা ও ইংরেজিতে প্রত্যয়ন পত্র লেখার নিয়ম প্রায় একই। প্রত্যয়ন পত্র বাংলায় লেখা হলে অবশ্যই বাংলা ভাষায় লিখতে হবে। আর প্রত্যয়ন পত্র ইংরেজিতে হলে ইংরেজী ভাষায় লিখতে হবে। অন্যথায়, প্রত্যয়ন পত্র লেখার নিয়ম-কানুন একই থাকবে। ইংরেজিতে প্রত্যয়ন পত্র লেখার নিয়মগুলি শিখতে উপরে উল্লেখ করা বিষয়গুলি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

আরও পড়ুনঃ প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্থিক সাহায্যের আবেদন করে কিভাবে?

প্রত্যয়ন পত্র ফরমেট – Certification letter format

প্রত্যয়নপত্রের নমুনা সম্পর্কে বর্ণনা করার মতো তেমন কিছুই নেই। বর্ণনা দ্বারা প্রত্যয়নপত্রের নমুনা ব্যাখ্যা করা কঠিন। একটি নমুনা বা একটি চিত্র সহ নীচে দেখানো হয়েছে দেখে নিন।

প্রত্যয়ন পত্র ফরমেট এর একটি ডেমো

প্রত্যয়ন পত্র চেয়ে আবেদন লেখার নিয়ম

কোনো প্রতিষ্ঠান হতে কোনো ব্যাক্তির যখন প্রত্যয়ন পত্র নেওয়ার প্রয়োজন হবে,তাকে তখন উক্ত প্রতিষ্ঠানে প্রত্যয়নপত্র চেয়ে আবেদন করতে হবে। সেই আবেদনে কি কারনে কোন বিষয়ে প্রত্যয়ন পত্রের দরকার তা উল্লেখ থাকতে হবে। প্রয়োজনে ব্যাক্তি, প্রতিষ্ঠান – ব্যাক্তিকে প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করবে। এমন অনেক সংগঠন অর্থাৎ প্রতিষ্ঠান আছে যে জায়গা থেকে প্রত্যয়ন পত্র পাবার জন্য আবেদনের প্রয়োজন পড়ে না।

আরও পড়ুনঃ  জেনে নিন ৭ই মার্চের ভাষণের বিষয়বস্তু কয়টি ছিল

প্রত্যয়ন পত্রের একটি ডেমো

মৌখিকভাবে শুধুমাত্র আবেদন এপ্লাই করে প্রত্যয়ন পত্র উত্তোলন করা যায়। এই জিনিসটি কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাক্তির স্বইচ্ছার উপর নির্ভর করে থাকে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নিম্নে প্রত্যয়ন পত্র চেয়ে আবেদন করার নিয়ম লেখা উল্লেখ করা হলো।

স্কুলের প্রত্যয়ন পত্রের জন্য আবেদন

স্কুলের জন্য প্রত্যয়ন পত্রের আবেদন করতে হলে প্রধান শিক্ষকের কাছে আবেদন পত্র প্রদান করতে হবে। উক্ত আবেদন পত্রে ব্যাক্তির নাম, রোল নাম্বার,পাশের সাল, ঠিকানা, পিতা-মাতার নাম ইত্যাদি বিষয়াদি যুক্ত থাকতেই হবে।

স্কুলের প্রত্যয়ন পত্রের জন্য আবেদন

কলেজ থেকে প্রত্যয়ন পত্রের জন্য আবেদন

কলেজ থেকে প্রত্যয়ন পত্রের জন্য কলেজের প্রিন্সিপালের নিকট আবেদন করতে হবে। উক্ত আবেদন পত্রে শিক্ষার্থীর নাম,রোল,পিতার নাম, পাসের সাল, ঠিকানা ইত্যাদি বিষয়াদি উল্লেখ করতে হবে। যারা প্রত্যয়ন পত্র লেখার নিয়ম জানেন না বা লিখতে পারেন না তারা অবশ্যই মনোযোগ দিয়ে এই পোষ্টটি সম্পূর্ন অধ্যায়ম করুন।

কলেজ থেকে প্রত্যয়ন পত্রের জন্য আবেদন

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রত্যয়ন পত্র –  PDF File 

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রত্যয়ন পত্র PDF File 

যুবলীগের প্রত্যয়ন পত্র –  PDF File 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যয়ন পত্র চেয়ে আবেদন – প্রত্যয়ন পত্র

বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রত্যয়ন পত্র পাবার জন্য সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট প্রধানের বরাবর আবেদন পত্র লিখতে হবে। সেই আবেদনে ছাত্র-ছাত্রীর নাম,পিতার নাম, ঠিকানা,যে ডিপার্টমেন্টে আপনি সে ডিপার্টমেন্ট ইত্যাদি উল্লেখ থাকতে হবে। যে সব শিক্ষার্থী আবেদন করার নিয়ম জানেন না যার ফলে আবেদন পত্র লিখতে পারছেন না সেজন্য ভালোভাবে আমাদের এই লেখাটি পড়ুন।

আরও পড়ুনঃ ভাষার মূল উপাদান ও উপকরণ সম্মন্ধে সাধারন ধারনা।

স্কুলের প্রত্যয়ন পত্র

স্কুল কর্তৃক শিক্ষার্থীকে যে প্রত্যয়ন পত্র দেওয়া হয় তাকে স্কুল এর প্রত্যয়ন পত্র বলে। স্কুল এর প্রত্যয়ন পত্র সাধারণত স্কুল কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রদান করা হয়। এসএসসি পাস এবং কলেজে ভর্তি হওয়ার সময় স্কুল এর প্রত্যয়ন পত্রের প্রয়োজন হয়ে থাকে। এছাড়াও অনেক সময় এক স্কুল থেকে অন্য স্কুলে ভর্তির জন্য আগের স্কুলের প্রত্যয়নপত্রের দরকাএ লাগে।

কলেজের প্রত্যয়ন পত্র

কলেজ কর্তৃক শিক্ষার্থীদের প্রদান করা প্রত্যয়ন পত্রকে কলেজ প্রত্যয়ন পত্র বলে। একটি কলেজ প্রত্যয়নপত্র সাধারণত কলেজ এর কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রদান করা হয়। এইচএসসি পাসের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য কলেজের প্রত্যয়ন পত্র লাগে। এছাড়াও অনেক সময় এক কলেজ থেকে অন্য কলেজে ভর্তি হতে হলে আগের কলেজের প্রত্যয়ন পত্রের দরকার লাগে।

আরও পড়ুনঃ  কিভাবে ধ্বংস হলো মঙ্গল গ্রহে জীবন তা নিয়ে এই Informative পোষ্ট

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যয়ন পত্র

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক শিক্ষার্থীদের জন্য যে প্রত্যয়ন পত্র দেওয়া হয় তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যয়ন পত্র বলে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যয়ন পত্র সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা প্রদান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন চাকরির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যয়ন পত্রের প্রয়োজন হয়।

আরও পড়ুনঃ কিভাবে এবং কেন পরীক্ষায় পাস নম্বর ৩৩ হলো?

কোম্পানির প্রত্যয়ন পত্র

কোম্পানি কর্তৃক চাকরিজিবী বা কর্মচারীদেরকে ইস্যু করা প্রত্যয়ন পত্রকে কোম্পানি প্রত্যয়ন পত্র বলে। একটি কোম্পানির প্রত্যয়ন পত্র / শংসাপত্র সাধারণত কোম্পানি দ্বারা প্রদান করা হয়। একটি কোম্পানির একজন কর্মচারী তার পেশাদার প্রত্যয়ন পত্র হিসাবে কোম্পানির প্রত্যয়নপত্র দেখাতে পারেন। একজন ব্যক্তির তার পেশা প্রমাণ করার জন্য কোম্পানি থেকে একটি প্রত্যয়ন পত্রের অবশ্যই প্রয়োজন হয়। তাই কম্পানীর প্রত্যয়ন পত্র অবশ্যই নিয়ে নিন।

কোম্পানির প্রত্যয়ন পত্র

চাকরির প্রত্যয়ন পত্র

বন্ধুরা চাকরি বা কোম্পানির প্রত্যয়ন পত্র মূলত একই হয়। কোম্পানি কর্তৃক কর্মচারী বা কর্মচারীকে ইস্যু করা প্রত্যয়নপত্রকে কোম্পানি বা কর্মসংস্থান প্রত্যয়ন পত্র বলে। চাকরির শংসাপত্র / প্রত্যয়ন পত্র সাধারণত কোম্পানি দ্বারা জারি করা হয়। একটি কোম্পানির একজন কর্মচারী তার পেশাগত প্রত্যয়ন পত্র / শংসাপত্র হিসাবে কর্মসংস্থান এর প্রত্যয়ন পত্র দেখাতে পারেন। একজন ব্যক্তির তার পেশা প্রমাণ করার জন্য একটি কর্মসংস্থান প্রত্যয়ন পত্র / শংসাপত্র প্রয়োজন।

 সরকারি ওয়েবসাইটে প্রত্যয়ন পত্র আবেদন 

FAQs

No schema found.

উপসংহার

সকল ব্যক্তিদের প্রত্যয়ন পত্র / হলফনামা লেখার নিয়ম জানতে হবে। অনেকেই প্রত্যয়ন পত্র / সার্টিফিকেট লেখার নিয়ম না জানার কারণে প্রত্যয়ন পত্র লিখতে পারছেন না। তারা দয়া করে আমাদের এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আশাকরি আপনি আমাদের আর্টিকেলটি পড়েছেন। এবার আপনি সুন্দর ভাবে প্রত্যয়ন পত্র লেখার ফর্মেট জেনে গিয়েছেন। আপনি চাইলে আমাদের এই লেখাটি আপনার বন্ধুদের সাথেউ শেয়ার করতে পারেন। আমাদের ওয়েবসাইটে আপনি লেখালেখি করতে চাইলে আমাদের ই-মেইলে যোগাযোগ করতে পারেন।

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these

Share via
Copy link