স্বদেশ প্রেম রচনা PDF সংগ্রহ করুন এখানে | দেশপ্রেম রচনা

স্বদেশ প্রেম রচনা ২০ পয়েন্ট
Contents
স্বদেশ প্রেম রচনা PDFভূমিকা:তাই কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন-স্বদেশপ্রেম কী:স্বদেশপ্রেমের উৎস:স্বদেশপ্রেমের স্বরূপ:কবি ঈশ্বচন্দ্র গুপ্ত তাই লিখেছেন-স্বদেশপ্রেমের প্রকাশ:তাই কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় বলতে হয়-দেশপ্রেমের ভিন্নতর বহিঃপ্রকাশ:স্বদেশপ্রেম ও বিশ্বপ্রেম:সাহিত্যের আয়নায় দেশপ্রেম:ছাত্রজীবনে স্বদেশ প্রেমের শিক্ষা:স্বদেশপ্রেমের প্রভাব:স্বদেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত:বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতি ও দেশপ্রেম:উগ্র দেশপ্রেম:উপসংহার:স্বদেশ প্রেম রচনা ক্লাস ১০ভূমিকাঃস্বদেশ প্রেম কিঃস্বদেশপ্রেমের রুপরেখাঃস্বদেশ প্রেমের উৎসঃস্বদেশপ্রেমের উপায়ঃ স্বদেশপ্রেমের শিক্ষাঃছাত্রজীবনে স্বদেশ প্রেমঃমানবজীবনের স্বদেশপ্রেমের প্রভাবঃ অন্ধ স্বদেশ প্রেমঃ উপসংহারঃ আপনি পড়তে পারেনঃ স্বদেশ প্রেম রচনা Class 7ভূমিকাঃস্বদেশ প্রেমের সংজ্ঞাঃসংকীর্ণ ও প্রগতিশীল স্বদেশ প্রেমঃআমার দেশপ্রেমঃআমার দেশের স্বাজাত্যপ্রেমের ইতিহাসঃআমার উদ্বেলিত স্বদেশপ্রেমের কারণঃস্বদেশপ্রেমের গুরুত্বঃউপসংহারঃস্বদেশ প্রেম রচনা ১৫ পয়েন্টভূমিকা:স্বদেশপ্রেম কী:স্বদেশপ্রেমের উৎস:স্বদেশপ্রেমের বৈশিষ্ট্যঃস্বদেশপ্রেমের অভিব্যক্তি:স্বদেশপ্রেমের প্রভাব:স্বদেশপ্রেমের স্বরূপ:দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ:দেশপ্রেমের উগ্রতা:স্বদেশপ্রেমের অনুভূতিঃছাত্রজীবনে স্বদেশপ্রেমের শিক্ষা:বাঙালির স্বদেশপ্রেম:স্বদেশপ্রেম শিক্ষা:স্বদেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত:স্বদেশপ্রেমের বিকাশ:দেশপ্রেমের উপায়:সাহিত্যের আয়নায় দেশপ্রেম:বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতি ও দেশপ্রেম:উপসংহার:শেষ কথাঃFAQs: স্বদেশ প্রেম রচনাস্বদেশপ্রেম কী? স্বদেশপ্রেমের উৎস কি?

মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকের বাংলা ২য় পত্র পরীক্ষার প্রশ্নে স্বদেশ প্রেম রচনা বা দেশ প্রেম রচনা বারবার এসে থাকে। আর এই রচনা যেহেতু বার বার পরীক্ষাতে আসে সেজন্য আপনাদের এই রচনা যাতে তারাতারি শিখা হয় সেজন্য আমি সহজ ভাষায় স্বদেশ প্রেম রচনা PDF উল্লেখ করেছি।

আপনারা অনেকেই স্বদেশ প্রেম রচনা সার্চ করেছিলেন। তাই বিভিন্ন বই থেকে পয়েন্ট সংগ্রহ করে রচনাটি আপনাদের মাঝে স্বদেশ প্রেম রচনা উপস্থাপন করলাম। 

স্বদেশ প্রেম রচনা PDF

মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিকের বাংলা ২য় পত্র পরীক্ষায় ঘুরেফিরেই স্বদেশপ্রেম রচনাটি আসে। রচনাটি শিক্ষার্থীদের জন্য নিম্নে তুলে ধরা হলোঃ

ভূমিকা:

নিজ দেশ ও জন্মভূমির প্রতি মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসাই স্বদেশপ্রেম। স্বদেশের প্রকৃতি ও ধূলিকণা আমাদের নিকট অতি প্রিয় ও পবিত্র। শিশুকাল থেকেই মানুষ স্বদেশের মাটিতে বেড়ে ওঠে। মায়ের বুক যেমন সন্তানের নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত আশ্রয়, স্বদেশের কোলে মানুষ তেমনি নিরাপদ ও নিশ্চিত আশ্রয় লাভ করে। স্বদেশকে ভালোবাসার মাঝেই মানব জীবনের চরম সার্থকতা নিহিত। 

তাই কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন-

সার্থক জন্ম আমার জন্মেছি এই দেশে। সার্থক
জনম মাগো তোমায় ভালোবেসে।

স্বদেশপ্রেম কী:

স্বদেশপ্রেম মানব জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ ও সহজাত প্রবৃত্তি। মানুষ যে দেশে জন্মগ্রহণ করে সেটিই তার জন্মভূমি। জন্মভূমির প্রতি, স্বজাতির প্রতি, মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা ও গভীর শ্রদ্ধাবোধই স্বদেশপ্রেম। দেশপ্রেমীর নিজ দেশের প্রতি রয়েছে অকৃত্রিম ভালোবাসা, সীমাহীন আনুগত্য। বিশ্বের উন্নত জাতিগুলো স্বদেশের জন্য আত্মত্যাগ করেই উন্নতির স্বর্ণশিখরে আরোহণ করেছে। স্বদেশপ্রেম না থাকলে দেশ ও জাতির উন্নতি আশা করা যায় না। স্বয়ংসম্পূর্ণ ও সুখী দেশ গড়তে হলে তাই নাগরিকদের অবশ্যই স্বদেশপ্রেমী হতে হবে।

স্বদেশপ্রেমের উৎ:

প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের দেশকে ভালোবাসে। সকল জীবের মধ্যেই এ গুণ বিদ্যমান। বন্যপশুকে বনভূমি ছেড়ে লোকালয়ে আনলে, পাখিকে নীড়চ্যুত করলে তারা আর্তনাদ শুরু করে। এটি করে নিজ আবাসস্থানের প্রতি ভালোবাসার টানে। নিজ আবাসের প্রতি ভালোবাসা থেকে জন্ম নেয় স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা। স্বদেশের মাটি, পানি, আলো, বাতাস যেন আমাদের জীবনেরই অঙ্গ। এগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া অঙ্গহানির শামিল। এগুলোর প্রতি মমত্ববোধ থেকেই সৃষ্টি হয় স্বদেশপ্রেম। দেশের মাটির প্রতি মমত্ববোধের সাথে মিশে থাকে শ্রদ্ধা, প্রীতি ও গৌরববোধের আকাঙ্ক্ষা।

স্বদেশপ্রেমের স্বরূপ:

মানুষ সমগ্র বিশ্বের বাসিন্দা হলেও একটি নির্দিষ্ট ভূখন্ডে সে বেড়ে উঠে। একটি বিশেষ দেশের অধিবাসী হিসেবে সে পরিচয় লাভ করে। এ দেশই তার জন্মভূমি, তার স্বদেশ। মানুষ স্বদেশে জন্মগ্রহণ করে ও স্বদেশের ভালোবাসায় লালিত-পালিত হয়। নিজেকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার সকল উপাদান সে স্বদেশ থেকে পায়। ফলে স্বদেশের প্রতি প্রবল মমত্ববোধ সৃষ্টি হয়। এ জন্য মানুষ স্বদেশের গৌরবে গৌরবান্বিত হয় এবং স্বদেশের অপমানে অপমাণিত হয়। স্বদেশের স্বাধীনতা ও মান-মর্যাদা রক্ষার জন্য নিজের প্রাণ উৎসর্গকরতেপ্রস্তুতথাকে।

কবি ঈশ্বচন্দ্র গুপ্ত তাই লিখেছেন-

“মিছা
মনিমুক্তা হেম স্বদেশের প্রিয় প্রেম তার
চেয়ে রত্ন নাই আর।”

স্বদেশপ্রেমের প্রকাশ:

স্বদেশপ্রেম মানব হৃদয়ে লালিত হয়। আর স্বদেশপ্রেম প্রকাশ পায় জাতীয় জীবনের দুঃসময়ে মানুষের কর্মেরমাধ্যমে। স্বদেশের স্বাধীনতা রক্ষায়, স্বদেশের মানুষের কল্যাণ সাধনে মানুষের মনে স্বদেশপ্রেম জেগে ওঠে। যাঁরা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকরেছেন, দেশের জন্য সংগ্রাম করেছেন তাদের নাম ও কীর্তি চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁদের সে প্রেম ও আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেদেশপ্রেমেউদ্বুদ্ধকরবেচিরকাল।স্বদেশেরতরেজীবনউৎসর্গকারীরা সমগ্র বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সন্তান। 

তাই কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় বলতে হয়-


আমার দেশের মাটি,
তোমার পরে ঠেকাই মাথা। তোমাতে
বিশ্বময়ীর তোমাতে বিশ্বমায়ের আঁচল পাতা।

দেশপ্রেমের ভিন্নতর বহিঃপ্রকাশ:

কেবল দেশকে ভালোবাসার মধ্যে দেশপ্রেম সীমাবদ্ধ নয়। দেশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে নেওয়া যেমন শিল্প সাহিত্য, বিজ্ঞান, অর্থনীতি, সমাজনীতি প্রভৃতির ক্ষেত্রে অবদান রাখাও দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ। সম্প্রতি ২৬ মার্চ জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা গাইতে ২ লক্ষ ৫৪ হাজার ৬৮১ জন মানুষের একত্রিত হওয়া দেশপ্রেমরই বহিঃপ্রকাশ। দেশের কল্যাণ ও অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখে বিশ্বসভ্যতায় গৌরব বাড়ানো যায়। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, ড. মুহাম্মদ ইউনুস, সাকিব আল হাসান প্রমুখের গৌরবময় অবদানের জন্য বিশ্বে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। দেশপ্রেমের উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ আমরা। 

নবী করীম (স.) এর মধ্যে দেখতে পাই, দেশকে
ভালোবেসে তিনি বলেছিলেন-

“হে মাতৃভূমি তোমার লোকেরা যদি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র না
করত তবে আমি কখনই তোমাকে ছেড়ে যেতাম না।”

স্বদেশপ্রেম ও বিশ্বপ্রেম:

স্বদেশকে ভালোবাসার মধ্য দিয়ে বিশ্বকে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। স্বদেশপ্রেম কখনও বিশ্বপ্রেমের বাধা হয় না। দেশপ্রেম যদি বিশ্ববন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের সহায়ক না হয় তবে তা প্রকৃত দেশপ্রেম হতে পারে না। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলকেই দেশপ্রেমের চেতনায় উৎসাহিতহতেহবে।যেনিজেরদেশকেভালোবাসেনাসেঅন্যদেশ, ভাষা, গোষ্ঠী তথা মানুষকে ভালোবাসতে পারবে না। তাই দেশপ্রেমের মধ্যেই বিশ্বপ্রেমের প্রকাশ ঘটে।

সাহিত্যের আয়নায় দেশপ্রেম:

বিভিন্ন কবি সাহিত্যিক তাদের কবিতা, কাব্য, নাটক, গান, উপন্যাস প্রভৃতি লেখনির মাধ্যমে তাদের দেশপ্রেমকে ফুটিয়ে তুলেছেন। আধুনিক যুগে বাংলা সাহিত্যে দেশপ্রেমের বিকাশ ঘটে ব্রিটিশ আমল থেকেই। নীলদর্পণ, আনন্দমঠ, মেঘনাদ বধ প্রভৃতি গ্রন্থে দেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটেছে। এছাড়া নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ দাশ প্রমুখের সাহিত্যে দেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটেছে।

ছাত্রজীবনে স্বদেশ প্রেমের শিক্ষা:

স্বদেশপ্রেম মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি হলেও এ গুণটি তাকে অর্জন করতে হয়। তাই ছাত্রজীবন থেকেই দেশপ্রেমের দীক্ষা গ্রহণ করতে হয়। দেশের মাটি ও মানুষকে ভালোবাসতে হবে। ছাত্রজীবনে যে দেশপ্রেম মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয় তা মনে আজন্ম লালিত হয়। আজকের ছাত্ররাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।ভবিষ্যতে দেশের ভালো-মন্দ তাদের উপর অর্পিত হবে।সবার আগে দেশের বিপদে-আপদে ও প্রয়োজনে ছাত্রদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনে দেশের স্বার্থে ছাত্রদেরকে জীবন উৎসর্গ করতে হবে।যেমনটি ছাত্ররা করেছিল ১৯৫২ সালের মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার আন্দোলনে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে অকাতরে প্রাণ উৎসর্গ করে।

স্বদেশপ্রেমের প্রভাব:

স্বদেশেপ্রেমের মহৎ চেতনায় মানবচরিত্রের সৎ গুণাবলি বিকশিত হয়।মানুষের মন থেকে সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতা দূর হয়। স্বদেশপ্রেম মানুষকে উদার ও মহৎ করে, পরার্থে জীবন উৎসর্গ করতে প্রেরণা দেয়। স্বদেশপ্রেমের কারণেই মানুষ আত্মসুখ ত্যাগ করে দেশ ও জাতির কল্যাণ করে, দেশবাসীকে ভালোবাসো।

স্বদেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত:

যুগে যুগে অসংখ্য মনীষী স্বদেশের কল্যাণে নিজেদের জীবন উৎসর্গকরেছেন।এউপমহাদেশেমহাত্মাগান্ধী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং নাম না জানা লক্ষ লক্ষ শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা দেশের জন্য জীবন দিয়ে অমর হয়েছেন। বিশ্ব অঙ্গনে দেশপ্রেমের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত রেখেছেন চীনের মাওসেতুং, রাশিয়ার লেলিন ও স্ট্যালিন, আমেরিকার জর্জ ওয়াশিংটন প্রমুখ ব্যক্তি। দেশেপ্রেমের জন্যেই তাদের সকলের নাম বিশ্বের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতি ও দেশপ্রেম:

নগর কেন্দ্রীক সভ্যতায় মানুষ তার পাশের বাড়ির মানুষের কথাই ভুলে গেছে। মানুষ আজ নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। দেশের মানুষের চিন্তা করার মানসিকতা তার নেই। মানুষের মধ্যে বাঁচার তাগিদ আজ আর কেউ অনুভব করে না। কেননা মানুষের মধ্যে বাঁচা মানে দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য বাঁচা। কিন্তু সবাই এখন নিজের জন্য বাঁচতে চায়। তাই দেশ ও জাতির জন্য আমাদের এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

উগ্র দেশপ্রেম:

দেশপ্রেম দেশ ও জাতির জন্য গৌরবের। কিন্তু উগ্র দেশপ্রেম ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দুটি বিশ্বযুদ্ধ উগ্র জাতীয়তাবাদ তথা উগ্র দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ। জার্মানির হিটলার ও ইতালির মুসোলিনির উগ্র জাতীয়তা ও দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তাই উগ্র দেশপ্রেম সব সময় অশুভ, চির অকল্যাণকর ও চির অশান্তির।

উপসংহার:

জন্মভূমি সকলেরই প্রিয়, তা রক্ষার দায়িত্বও সকলের। তবে মনে রাখতে হবে নিজের দেশকে রক্ষার নামে অপরকে আক্রমণ করা মানবতাবিরোধী। স্বদেশপ্রেমের মতো পবিত্র গুণ আর নেই। তাই জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের উচিত স্বদেশকে ভালোবাসা। প্রকৃত দেশপ্রেমী মানুষ সকলের কাছে পরম পূজনীয়। দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মত্যাগকারী ব্যক্তিই বিশ্ববরেণ্য।

স্বাধীনতাহীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়

দাসশৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়।

বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্য আবেদন পত্র

স্বদেশ প্রেম রচনা ক্লাস ১০

আজ তোমাদের বাংলা দ্বিতীয় পত্রের আরো ১টি ‘স্বদেশ প্রেম রচনা ক্লাস ১০’ নিয়ে আলোচনা করব। প্রবন্ধ রচনা লেখার সময় সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটাবে না। প্রবন্ধ রচনা পয়েন্ট করে লিখবে ও কবিতার উদ্ধৃতি দেবে। তাহলে তোমরা বেশি নম্বর পাবে।

আরও পড়ুনঃ  একটি গ্রীষ্মের দুপুর প্রবন্ধ রচনা | গ্রীষ্মের দুপুর রচনা

ভূমিকাঃ

সার্থক জন্ম  আমার জন্মেছি এই দেশে।

সার্থক জনম মাগো তোমায় ভালোবেস ‘’।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

স্বদেশ প্রেম রচনা প্রতিটি মানুষের সবচেয়ে বড় আশ্রয় স্থল তার নিজের মাতৃভূমি। আলো, জল, মাটি স্পর্শে আমাদের ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা। দিন শেষে একটি পাখির নীড়ে ফিরে যায়, কারণ সে তার আশ্রয় স্থল কে ভালোবাসে। দেশপ্রেম মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। এটি প্রতিটি মানুষ অন্তর  সুপ্ত অবস্থায় থাকে। শৈশব থেকে যে মাটিতে আমাদের বেড়ে ওঠা তার প্রতিটি ধূলিকণা আমাদের নিকট অধিক প্রিয় পবিত্র। স্বদেশ প্রেম প্রতিটি মানুষকে দেশের কল্যাণে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে।

স্বদেশ প্রেম কিঃ

প্রতিটি মানুষের কাছে স্বদেশ প্রেম একটি মজাদার বিষয়। আমরা যে দেশে জন্মগ্রহণ করি সেটি আমাদের মাতৃভূমি। এই মাতৃভূমির সাথে আমাদের সম্পর্ক গভীর। জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, মমত্ববোধ হচ্ছে স্বদেশ প্রেম। স্বদেশ প্রেম রচনা উন্নত, শান্তি ময় দেশ গড়ার  প্রথম শর্ত হচ্ছে দেশের নাগরিকদের দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা থাকতে হবে। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বলেছেনঃ-

স্বদেশের শাস্ত্র মতে, চল সত্য ধর্ম পথে

সুখের করো জ্ঞান আলোচন।

বৃদ্ধি বৃদ্ধিকরণ মাতৃভাষা,

পুরা ও তাহার আশা।

দেশে করো বিদ্যা বিতরণ

স্বদেশপ্রেমের রুপরেখাঃ

আমরা যে দেশে জন্মগ্রহণ করি ,সেদেশে বেড়ে ওঠে সে দেশের মাটি, জল,  বাতাস,   জনবসতি, ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা, সবকিছু নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। স্বদেশের প্রতি ধূলিকণা সাথে আমাদের সম্পর্ক আর্থিক। স্বদেশ প্রেম রচনা কোন কিছুর মাপকাঠিতেই ভালোবাসা  পরিমাপ নাই। স্বদেশের প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা থেকে জন্ম নেয় মাতৃভূমির প্রতি শ্রদ্ধা। এই শ্রদ্ধার সাথে নিয়ে মানুষের কল্যাণে  কাজ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় ।কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ভাষায়ঃ-

’’  মনে মনে স্থির ভাবে  প্রতিদান,,

‘’যাহাতে দেশের   হয়  কুশন  বিধান,,

স্বদেশ প্রেমের উৎসঃ

প্রতিটি মানুষ সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি নিজেকে। নিজের প্রতি ভালোবাসা থেকেই সৃষ্টি হয় স্বদেশ প্রেমের। কারণ জন্মের পর আমাদের স্বদেশ প্রেম রচনা সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হচ্ছে জন্মের পর আমাদের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হচ্ছে মা ও মাতৃভুমি। তাই মাতৃভূমির প্রতি আমাদের সকলের গভীর মমত্ববোধ সৃষ্টি হয়। মাছ যেমন জল থেকে তুলে আনলে ছটফট করতে থাকে তেমনি নিজ মাতৃভূমিতে দূরে গেলে মানুষ স্বদেশের প্রতি গভীর আবেগ অনুভব করতে পারে। কবি ভাষায়ঃ-

স্বদেশের  প্রেম যত  এইমাত্র অবগত’’

বিদেশেতে অধিবাস যার’’

ভাব তুলি ধ্যানে ভোলে, চিত্রপট চিত্র করে’’

স্বদেশের সকল ব্যাপার।

অজান্তেই বেজে ওঠে’’

আমার কুটির হানি’’

সে যে আমার হিদয়   রানী’’।

স্বদেশপ্রেমের উপায়ঃ 

প্রকৃত দেশপ্রেম প্রকাশ পায় দেশের জন্য কিছু করার চিববো ইচ্ছার মাধ্যমে। আমরা সকলে নিজের অবস্থান থেকে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারি। যদি আমরা অন্যায় কে প্রশ্রয় না দেই, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হই, দেশের  ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, তবে সেটি হবে আমাদের তরফ থেকে দেশের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার। স্বদেশ প্রেম রচনা প্রত্যেক দেশে এমন কিছু মানুষ থাকে যারা নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য দেশের ক্ষতি সাধন হয় না। কবি আবদুল আবদুল হাকিমের পশুর সাথে করে বলেছেনঃ-

স্বদেশের উপকারে নাই যার মন,

কে বলে মানুষ তারে? পশু সেই জন।

স্বদেশপ্রেমের শিক্ষাঃ

স্বদেশ প্রেম মানুষকে হতে শিক্ষা দেয়। ভোগে নয়, ত্যাগেই সুখ’’ এই কথাটি সেই ব্যক্তি বিশ্বাস করে যার মনে দেশের জন্য অগাধ ভালোবাসা থাকে। দেশ প্রেম মানুষকে সংকীর্ণতার বেড়া জাল থেকে মুক্ত করে উদারমনা হওয়ার শিক্ষা দেয়। দেশপ্রেমী নাগরিক সর্বদা অন্যের কল্যাণে এগিয়ে আসতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকে। কারণ সে জানে দেশের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ থাকলে প্রয়োজনীয়তা কত। স্বদেশ প্রেম রচনা দেশ প্রেম একটি মানুষকে সুশিক্ষিত হতে সাহায্য করে। আর একজন সুশিক্ষিত মানুষ পারে দেশের উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। কবি গোবিন্দ চন্দ্র দাস বলেছেনঃ-

জননী জন্মভূমি তোমারি পরশে জীবন।

দিতেছে জীবন মরে  নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাস ‘’

সুন্দর মুখ উজ্জ্বল তপন।

হেরেছি প্রথমে আমি তোমারি আকাশে’’

মায়ের কোলেতে শিখিয়াছি’’

ঝুলি  খেলা তোমারি ধূলিতে।

ছাত্রজীবনে স্বদেশ প্রেমঃ

স্বদেশপ্রেম কোন দেশের ভবিষ্যৎ কান্ডারি সে দেশের ছাত্ররা। তারা একটি দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার। ছাত্রদের কর্তব্য স্বদেশ প্রেম শুধু বইয়ের পাতা তে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনে তার চর্চা করা। বলা হয়ে থাকে ছাত্র জীবন জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। যদি ছাত্ররা এভাবে দেশের দলবদ্ধ ভাবে কাজ করার শপথ নেয় তবে সেটি হবে প্রকৃত দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় তবে সেটি হবে   প্রকৃত  দেশ প্রেম। স্বদেশ প্রেম রচনা দেশপ্রেম ছাত্রজীবনকে সাফল্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেই। তাই প্রত্যেক ছাত্রজীবনে স্বদেশপ্রেমের গুরুত্ব অপরিসীম । তাই বলেছেন বিদ্রোহী কবিঃ-

কারার ঐ লৌহ কপা ‘’

ভেঙ্গে ফেল কর রে লোপাট’’

রক্ত-জমাট শিকল পূজার পাষাণ-বেদী।

মানবজীবনের স্বদেশপ্রেমের প্রভাবঃ 

স্বদেশপ্রেমের মানবীয় গুনাবলীর মধ্যে অন্যতম। দেশের প্রতি অনুগত একজন কখনো অন্যের ক্ষতি করার চিন্তা করতে পারে না। তার মধ্যে দেশের সমাজের কোন উন্নতি না হলেও কোন ক্ষতি হয় না। স্বদেশপ্রেমের মন থেকে দূর করে সে মনের সঠিক আলোর দিশা জাগ্রত স্বদেশ প্রেম রচনা করে। একজন প্রকৃত দেশ প্রেমিক নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে দেশের মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসে। একজন মানুষের মনকে প্রকৃত সত্যের সাহিত্য করার ক্ষমতা রাখে। প্রকৃত দেশ প্রেমিক এর সকল দেশের সেরা। যে দেশে মানুষ জন্মগ্রহণ করে সে তার মাতৃভূমি। পৃথিবীর যেকোন স্থানে যায় না কেন আমরা আমরা আমাদের কাছেই একদিন না একদিন আসতে হয়। আর সেটি হচ্ছে আমাদের নিজ নিজ স্বদেশ।  সমুদ্রগুপ্তের ভাষায়ঃ-

স্বদেশ প্রেম থেকে বিশ্ব প্রেম। যে নিজের দেশকে ভালোবাসে, সে বিশ্ব প্রেমিক, মানব প্রেমিক মানবতা বাদী।

অন্ধ স্বদেশ প্রেমঃ 

দেশের নাগরিকদের মধ্যে স্বদেশপ্রেম বিরাজমান থাকা অবশ্যই সকল নষ্টের জন্য কল্যাণকর। কিন্তু এই স্বদেশ যদি কোনো নাগরিক সৃষ্টি করে তবে  তা হতে পারে ভয়ানক । আমার দেশকে আমি ভালোবাসি তাই আমি অন্য রাষ্ট্রের ক্ষতি কামনা করব এমন মনোভাব কোন কোন রাশির জন্য শুভ ফলাফল বয়ে আনতে পারে না। এমন স্বদেশ প্রেম রচনা দেশ প্রেম হতে পারে না, এটি অন্ধ স্বদেশ প্রেম বলা যেতে পারে। প্রতিবেশীর হারিয়ে যেমন কখনো কাউকে মানসিক শান্তিতে খেতে পারে না তেমনি অকারণে অন্যের ক্ষতি করে কোন রাষ্ট্রের পক্ষে উন্নয়ন সম্ভব নয়। অন্য রাষ্ট্রের নিজের পায়ে কুড়াল মারা কবিগুরু উক্তি থেকে বোঝা যায়ঃ- 

যারে তুমি নীচে ফেল সে তোমারে বাঁধিবে যে নীচ ‘’

পশ্চাতে রেখেছ যারে সে তোমারে পশ্চাতে টানে সে।

উপসংহারঃ 

স্বদেশ প্রেম মানে দেশের সকল জনগণ একত্রিত হয়ে হিংসা ভেদাভেদ, সম্প্রদায়িক বৈষম্য কল্যাণে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবেন। যে জাতি যত একতাবদ্ধ তাদের উন্নয়ন ঠিক ততটাই মজবুত। জনগণ দেশের ভিত্তি আর দেশপ্রেমী এই ভিত্তি মূল স্তর। যে কোন জাতির পতনের উপাখ্যানের সূত্রপাত হয় স্বদেশ প্রেমহীনতায়। স্বদেশ প্রেম রচনা যে জাতি স্বদেশ প্রেম থাকে না সে জাতি নিজেদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। তাই আমাদের সকলের উচিত স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা। কোন কাজ  করলে স্বদেশের উন্নয়ন ঘটবে সেটা যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করানো। দেশের যে কোন বিপদ আপদে সকলে ঝাঁপিয়ে পড়া আমাদের স্বদেশপ্রেমের একটি উদাহরণ।

আপনি পড়তে পারেনঃ 

  1. বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনা ২০ পয়েন্ট | বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনা
  2. সময়ের মূল্য রচনার ২০ পয়েন্ট | সময়ের মূল্য রচনা
  3. পড়ুন বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা | বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা ২০ পয়েন্ট
  4. সত্যবাদিতা রচনা ২০ পয়েন্ট | সততা ও সত্যবাদিতা রচনা
  5. শীতের সকাল রচনা ২০ পয়েন্ট | একটি শীতের সকাল রচনা
স্বদেশ প্রেম রচনা Class 7

স্বদেশ প্রেম রচনা Class 7

ভূমিকাঃ

সৃষ্টির সেই আদি লগ্ন থেকে মানুষ যখন জীবনধারণের জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে শিখলো, সেই দিন থেকে এই পৃথিবীর বুকে জাতির গোড়াপত্তন হয়ে গিয়েছিল। তারপর সময়ের বিবর্তনে মানুষ খাদ্য সংগ্রহকারী থেকে খাদ্য উৎপাদনকারীর পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে, সেই সঙ্গে মানুষের যাযাবর তকমা ঘুচে গিয়ে মানুষ শিখেছে একটি নির্দিষ্ট স্থানে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করতে।

কোন নির্দিষ্ট জায়গায় স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপনের সাথে সাথে সুপ্রাচীন যুগে গড়ে ওঠা ঐক্যবদ্ধ জাতি সময়ের এবং সুযোগের সঙ্গে আরও বিকশিত হয়েছে। দীর্ঘদিন কোন একটি নির্দিষ্ট ভূমিতে বংশানুক্রমে জীবনযাপনের ফলে সেই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে সভ্যতা; যা সময়ানুক্রমে স্বদেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। আর সেই স্বদেশে নিয়ত জীবনযাপনকারী মানুষের জন্মভূমির প্রতি আবেগ পরিচিতি পেয়েছে স্বদেশ প্রেম রূপে।

স্বদেশ প্রেমের সংজ্ঞাঃ

এককথায় স্বদেশ প্রেম বলতে বোঝায় স্বদেশের প্রতি সংশ্লিষ্ট দেশবাসীর ভালোবাসার আবেগকে। কিন্তু খানিকটা গভীরে গিয়ে পর্যালোচনা করলেই বোঝা যাবে স্বদেশ প্রেম নেহাতই কোন ভুঁইফোড় সস্তা আবেগের বিষয় নয়। এই আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দীর্ঘকালীন সভ্যতার ইতিহাস, জীবন সংগ্রাম তথা দেশীয় সংস্কৃতির দোত্যনা। মানুষ যেখানে বংশানুক্রমে বসবাস করে, যেখানে মানুষের জন্ম হয় সেই ভূমির প্রতি মানুষের টান নাড়ির টানের অনুরূপ। সেই ভূমির সংস্কৃতিতে গড়ে ওঠে মানুষের রুচিবোধ ও জীবনচর্যা। তাই এই আবেগকে অবজ্ঞা করা পৃথিবীর যেকোন মানুষ মাত্রই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এই আবেগের মাধ্যমে মানুষ ও স্বদেশভূমি পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে এক অলঙ্ঘ্য বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে থাকে। এই স্বদেশপ্রেম দ্বারা মানুষ নিজের জন্মভূমির ইতিহাস সংস্কৃতি তথা সভ্যতার প্রতি গর্ব অনুভব করে।

আরও পড়ুনঃ  আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস রচনা ২০ পয়েন্ট | একুশ আমার অহংকার রচনা

সংকীর্ণ ও প্রগতিশীল স্বদেশ প্রেমঃ

পৃথিবীর প্রতিটি বিষয়েরই ভাল ও মন্দ দুটি দিক রয়েছে। সাধারণ মানুষের পরম আবেগ স্বদেশ প্রেমও তার ব্যতিক্রম নয়। পৃথিবীর ইতিহাসে শঙ্খিনী এবং প্রগতিশীল এই দুই ধরনের স্বদেশপ্রেম লক্ষ্য করা যায়। ইতিহাসের এই সংকীর্ণ এবং প্রগতিশীল স্বদেশ প্রেম সম্পর্কে জানার পূর্বে শান্তিপূর্ণ স্থিতির জন্য প্রাথমিক শর্তাবলীকে জানা প্রয়োজন। এ পৃথিবী পরিচালিত হয় মানুষের মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতার নীতি দ্বারা। সে কারণে ‘বাঁচো এবং বাঁচতে দাও’ এই চিরন্তন পালনীয় কর্তব্যের অন্যথা হলেই পৃথিবীর বুকে অশান্তির অভিশাপ নেমে আসে। স্বদেশ প্রেমের ক্ষেত্রেও এই কথা ভীষণভাবে প্রযোজ্য। তাই ‘আমার দেশ শ্রেষ্ঠ’- স্বদেশ সম্বন্ধে এই উক্তি বিবেচিত হয় প্রগতিশীল স্বদেশ প্রেম রূপে; আর ‘একমাত্র আমার দেশই শ্রেষ্ঠ’- স্বদেশের ব্যাপারে এই ধারণা বিবেচিত হয় সংকীর্ণ মানসিকতার প্রতীকরূপে।

একদিকে প্রগতিশীল স্বদেশ প্রেম যেমন স্বজাতির উন্নতি ঘটিয়ে স্বদেশকে আন্তর্জাতিক বিশ্বের দরবারে সম্মানীয় উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়। আর অন্যদিকে সংকীর্ণ দেশপ্রেম স্বার্থান্বেষী মানসিকতার বশবর্তী হয়ে পৃথিবীর বুকে অশান্তির অভিশাপ ডেকে এনে স্বদেশের জন্য আদপে অন্ধকারের বার্তা বয়ে আনে।

এধরনের সংকীর্ণ দেশপ্রেমের উদাহরণ হিসেবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়ে হিটলারের নেতৃত্বাধীন জার্মানি কিংবা ইতিহাসের বুকে দীর্ঘকালব্যাপী রাজত্ব করা উপনিবেশিক মানসিকতাসম্পন্ন ব্রিটেনের কথা উল্লেখ করা যায়। আধুনিক বিশ্বায়িত পৃথিবীতে মানব সভ্যতার উন্নতিকল্পে সর্বদা প্রগতিশীল স্বদেশপ্রেমই কাম্য।

আমার দেশপ্রেমঃ

আমি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি ছোট দেশ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের একজন বাসিন্দা। এ পৃথিবীর অন্যান্য যেকোনো মানুষের মতই নিজের দেশের প্রতি আমার অতুলনীয় স্বদেশ প্রেম বর্তমান। আমি আমার দেশকে নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসি; শ্রদ্ধা করি আমার দেশের ইতিহাস, সমাজ তথা সংস্কৃতিকে। আমার দেশের ইতিহাস আমায় প্রতিনিয়ত শেখায় জীবন যুদ্ধে সংগ্রাম করতে, আমার দেশের প্রকৃতি আমায় শেখায় জীবনের স্নেহময় হয়ে উঠতে, আমার দেশের সমাজ আমায় শেখায় জীবনের অবিরত সংগ্রামে জয়ী হয়ে উঠতে। একথা সত্য যে বাংলাদেশের মানুষ পৃথিবীর অন্যান্য অংশের তুলনায় স্বদেশ প্রেমের ব্যাপারে খানিকটা বেশিই আবেগপ্রবণ। তবে সেই আবেগ সংকীর্ণতার নয়, বরং অনেকখানি প্রগতিশীল। প্রগতিশীল এই ব্যাপক দেশপ্রেমের লালনকারী হয়েও আমরা জানি আধুনিক বিশ্বে চলতে গেলে পৃথিবীর প্রতিটি দেশ তথা প্রতিটি সমাজকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে হয়। স্বদেশের প্রতি প্রেমের বশবর্তী হয়েই প্রতি মুহূর্তে আমরা বাংলাদেশের নাগরিকেরা নিজের দেশকে জগত সভায় শ্রেষ্ঠ আসনে তুলে ধরার জন্য নিজেদের যথাসম্ভব উৎসর্গ করে চলি।

আমার দেশের স্বাজাত্যপ্রেমের ইতিহাসঃ

পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় আমার স্বদেশ বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে অনেকখানিই নবীন। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম দ্বারা পরম কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা অর্জনের পর আমরা সবে মাত্র অর্ধশতাব্দীর এসে পৌঁছেছি। তবে এই অর্ধশতাব্দীর মধ্যেই বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে যে সকল নিদর্শন স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে তার পেছনে লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের মানুষের ব্যাপক দেশপ্রেম। আমরা আমাদের দেশের ইতিহাসকে প্রতিমুহূর্তে পরম শ্রদ্ধা সহকারে স্মরণ করে থাকি। তাছাড়া আমাদের দেশের সকল মানুষের কাছে আমাদের স্বদেশ প্রেমের অপর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো মাতৃভাষার প্রতি আমাদের প্রেম ও আবেগ। এই মাতৃভাষা রক্ষার জন্য সংগ্রাম করতে গিয়েই একসময় প্রাণ দিয়েছিলেন আমাদের দেশের অসংখ্য তরুণ নাগরিকেরা। তারপর স্বজাতিকে রক্ষা করার বাসনায় আমাদের দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ একদিন ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামে। দেশের এই সকল ইতিহাস প্রতি মুহূর্তে আমাদের সকলকে দেশকে আরো বেশি করে ভালবাসার প্রতি উদ্বুদ্ধ করে চলে।

আমার উদ্বেলিত স্বদেশপ্রেমের কারণঃ

খুব ছেলেবেলা থেকেই আমার মধ্যে অন্যান্যদের তুলনায় খানিক অধিক স্বদেশপ্রেম জাগরিত হয়েছিল। ছেলেবেলায় এর প্রকৃত কারণ অনুধাবন করতে না পারলেও, কৈশোর ও যৌবনের এই সন্ধিক্ষণে বুঝতে পারি আমার বাড়ির ইতিহাস সচেতন, রুচিশীল ও সংস্কৃতিময় পরিবেশের কারণেই আমার মধ্যে এই স্বাজাত্যপ্রেমের উদ্ভব ঘটেছিল।

বয়স যত বেড়েছে, আমি যত দেশকে কাছ থেকে চিনতে শিখেছি, ততই আমার মধ্যে স্বদেশ প্রেমের আবেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমার দেশের অনিন্দ্য সুন্দর প্রকৃতি যা আমায় প্রতিমুহূর্তে স্নেহ ও মায়ার জালে জড়িয়ে রাখে, আমার স্বদেশের অবর্ণনীয় ইতিহাস গাঁথা, আমার জাতির প্রাচীন ঐতিহ্য আমায় প্রতি মুহূর্তে স্বদেশপ্রেমের প্রেরণা জোগায়।

স্বদেশপ্রেমের গুরুত্বঃ

যেকোনো মানব সভ্যতার কাঙ্খিত অগ্রগতির পথে স্বদেশপ্রেমের ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে। পৃথিবীতে প্রতি মুহূর্তে যে ব্যাপক অভাবনীয় উন্নতি সাধিত হয়ে চলেছে তার পেছনেও বহুলাংশে স্বদেশপ্রেমের অবদান রয়েছে। প্রতিটি মানুষ চায় তার নিজের দেশের উন্নতিকল্পে কিছু না কিছু অবদান রেখে যেতে। সেই নিমিত্ত প্রত্যেকটি মানুষ জীবনের কর্মযজ্ঞে অগ্রসর হয়। দেশের জন্য মানুষের এই প্রেরণা আসতে পারে সার্থক স্বদেশ প্রেমের মধ্যে দিয়েই। স্বদেশপ্রেমের বশবর্তী হয়েই প্রতি মুহূর্তে দেশের অসংখ্য বীর সেনানী শত কষ্ট সহ্য করেও দেশকে নিরাপত্তা দান করে চলেছে। দেশপ্রেম দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়েই প্রতিদিন দেশের অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী দেশকে নেতৃত্ব দানের উদ্দেশ্যে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে চলেছে।

সর্বোপরি এই উদ্বেলিত স্বদেশপ্রেম দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েই প্রতিক্ষণে আমাদের দেশের অসংখ্য মানুষ সারা বিশ্বজুড়ে কোনো না কোনোভাবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে চলেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ছেলেবেলায় দেশের একজন সার্থক সেনা হতে চাইতাম। তবে শারীরিকভাবে দুর্বল হওয়ার কারণে একজন সার্থক সেনাপ্রধান সক্ষমতা আমি হারিয়েছি। কিন্তু তবুও জীবনে বড় হয়ে কোনো না কোনোভাবে আমি আমার স্বদেশের উন্নতিকল্পে আত্মনিয়োগ করতে চাই।

উপসংহারঃ

বাংলাদেশের বুকে স্বদেশ হল প্রতিটি বাংলাদেশেবাসীর কাছে একটি আবেগের নাম; আর স্বদেশ প্রেম সেই আবেগেরই যত্নলালিত বহিঃপ্রকাশ। এই আবেগের দ্বারাই তাড়িত হয়েই বাংলাদেশের বুকে প্রতিমুহূর্তে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে। এই আবেগ তাড়িত মানুষের কাঁধে ভর করেই আজ বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত সম্মানজনক জায়গা করে নিয়েছে। এই আবেগই মানুষকে শিখিয়েছে ‘যদি এক মুহূর্তও বাঁচো, দেশের জন্য বাঁচতে শেখো।’ তাই সেই আবেগের সুরেই সুর মিলিয়ে পরিশেষে আমিও বলতে পারি বাংলাদেশ যদি একটি হৃদপিণ্ড হয়, তাহলে তা প্রতিমুহূর্তে স্পন্দিত হয়ে চলেছে প্রতিটি দেশবাসীর শিরায়-শিরায়, ধমনীতে থেকে ধমনীতে।

স্বদেশ প্রেম রচনা ১৫ পয়েন্ট

স্বদেশ প্রেম রচনা ১৫ পয়েন্ট

ভূমিকা:

মানুষ স্বাভাবিকভাবেই তার জন্মভূমিকে ভালোবাসে। জন্মস্থানের আলো, জল, হাওয়া, পশুপাখি,সবুজ প্রকৃতির সাথে তার নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জন্মস্থানের প্রতিটি ধুলিকণা তার কাছে মনে হয় সোনার চেয়েও দামি। সে উপলব্ধি করে-

“মিছা মণি-মুক্তা হেম স্বদেশের প্রিয় প্রেম
তার চেয়ে রত্ন নাই আর।”

বিশাল অর্থে প্রত্যেক মানুষ এই পৃথিবীর সন্তান। সাধারণভাবে জন্মের পর বেড়ে উঠার স্থানই স্বদেশ।

স্বদেশপ্রেম কী:

স্বদেশপ্রেম হচ্ছে নিজের দেশের প্রতি, জাতির প্রতি, ভাষার প্রতি গভীর আকর্ষণ অনুভব করা। দেশের প্রতি প্রবল অনুরাগ, নিবিড় ভালোবাসা এবং যথার্থ আনুগত্যকে দেশপ্রেমবলে। গর্ভধারিনী জননীকে যেমন সন্তান ভালোবাসে, তেমনি দেশ মাতৃকাকেও মানুষ জন্মলগ্ন থেকেই শ্রদ্ধা করতে এবং ভালোবাসতে শেখে। দেশ ও দশের প্রতি মানুষের যে বন্ধন ও আকর্ষণ তা থেকেই স্বদেশপ্রেমের জন্ম। জননী, জন্মভূমি স্বর্গের চেয়েও গরীয়সী ও মহিমায় দীপ্ত। কবির ভাষায় স্বদেশপ্রেমী মানুষের একটাই প্রার্থনা-
আমার এ দেশেতেই জন্ম যেন এ দেশেতেই মরি।

স্বদেশপ্রেমের উৎস:

প্রত্যেক ব্যক্তি নিজেকে ভালোভাসে। আর নিজের প্রতি ভালোবাসা থেকেই জন্ম নেয় স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা। প্রতিটি জীবের মধ্যেই এই গুন বিদ্যমান পশু বনভূমি ছেড়ে লোকালয়ে ছটফট করে। আবার পাখিকে নীড়চূৎ করলে তার মর্মভেদী আর্তনাদ বাতাস ভারি করে তোলে। এটি হয় নিজ আবাসের প্রতি ভালোবাসা থেকে। আর নিজ আবাসের প্রতি ভালোবাসা থেকেই জন্ম নেয় স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা। সদেশের মাটি, বাতাস, পানির সাথে আমরা অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে আবদ্ধ। তাই এগুলোর প্রতি মমত্ববোধ থেকেই সৃষ্টি হয় স্বদেশপ্রেম।

স্বদেশপ্রেমের বৈশিষ্ট্যঃ

আশ্রস্থলের প্রতি আকর্ষণ জীবনের স্বভাবজাত ধর্ম। গরুর জন্য গোয়াল, বাঘের জন্য গুহা, পাখির জন্য নীড় প্রত্যেকের নিজস্ব আবসস্থল আছে। মানুষের স্বদেশপ্রেম একটি বিশেষ আদর্শ্তাড়িত আন্তরিক প্রেরণা। অন্যান্য প্রাণীর ঐতিহ্যবোধ নেই, নেই সংস্কৃতি চেতনা-মানুষের এগুলো আছে। সেই সাথে আছে ইতিহাসের পাতা থেকে আহরিত জ্ঞান। তাই দেশের মাটির প্রতি মমত্ববোধের সাথে মিশে থাকে শ্রদ্ধা, প্রীতি ও গৌরববোধের আকাঙ্খা। কবির ভাষায়-

“স্বদেশের প্রেম যত সেই মাত্র অবগত
বিদেশেতে অধিবাস যার,
ভাব তুলি ধ্যানে ধলে, চিত্রপটে চিত্র করে
স্বদেশের সকল ব্যাপার।”

স্বদেশপ্রেমের অভিব্যক্তি:

স্বদেশের প্রতি আমাদের ভালোবাসা প্রকাশ পায় স্বদেশের বিপর্যয়ের মুহুর্তে। দেশের দুর্দিনে দেশপ্রেমের পূর্ণ বিকাশ ঘটে এবং জন্মভূমি জননীর মতো সন্তানের দিকে কাতর নয়নে তাকায়, আর জননীর বেদনায় সন্তানের হৃদয় হয় বিদীর্ণ। জলাশয় থেকে বিচ্ছিন্ন করলে মাছ যেমন জলের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারে তেমনি প্রবাস জীবনে ও মানুষের ভেতর স্বদেশপ্রীতি মূর্ত হয়ে উঠে। দীর্ঘ প্রবাস জীবনের পর স্বদেশে ফিরলে মনের অজান্তেই বেজে উঠে-

“আমার কুটির খানি
সে যে আমার হৃদয় রাণী”

স্বদেশপ্রেমের প্রভাব:

মানবচরিত্রের গুনাবলি বিকাশের ক্ষেত্রে স্বদেশপ্রেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্বদেশপ্রেমের চেতনায় উজ্জীবিত হলে তার মন ও মানসিকতায় সার্থক গুণের সমাবেশ ঘটে। তার মন থেকে সংকীর্ণতা ও সার্থপরতা দূরীভূত হয়। স্বদেশপ্রেমের কারণে দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণ চিন্তা জাগ্রত হয় ফলে জনসেবার অনুভূতি মনে সঞ্চার হয়। ফলে একজন মানুষ দেশের একজন সুনাগরিক হিসেবে বেড়ে উঠে।

আরও পড়ুনঃ  বাংলা নববর্ষ রচনা সহজ / পহেলা বৈশাখ রচনা ২০২৪

স্বদেশপ্রেমের স্বরূপ:

একজন বক্তি ছোটবেলা থেকে স্বদেশের আলো-বাতাসের আঁচলে মাতৃতূল্য স্নেহে বড় হতে থাকে। স্বদেশের সঙ্গেই গড়ে উঠে তার নাড়ির সম্পর্ক। এ এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। তার দেহ ও মনের সবকিছুই স্বদেশের দানে পরিপূর্ণ। বস্তুত মা, মাটি ও মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিতকরণের মধ্যেই স্বদেশপ্রেমের মূল সত্য নিহিত। দেশপ্রেম মূলত এভাবেই গড়ে ওঠে।

দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ:

স্বদেশের প্রতি প্রেম সর্বদাই উদার এবং খাঁটি। এর প্রেম আত্মপ্রেমকেও ছাড়িয়ে যায়। স্বদেশের প্রতি প্রেমের এই নিতান্ত সত্য দিকটি এডুইন আর্নলেন্ডের ভাষায় চমৎকার ফুটে উঠে,

“জীবনকে ভালোবাসি সত্য, কিন্তু দেশের চেয়ে বেশি নয়।”

প্রকৃত অর্থে স্বদেশপ্রেমী কখনও ছোট মনমানসিকতার অধিকারী হয় না। নিজ স্বদেশের কল্যাণ ও উন্নতি কি করে করা যায় তা-ই একজন প্রকৃত স্বদেশপ্রেমীর চিন্তার মূল বিষয়।

দেশপ্রেমের উগ্রতা:

দেশপ্রেম যেখানে মানুষের এক উন্নতবৃত্তি, সেখানে তা ত্যাগ তিতিক্ষার মহৎ বৈভবে উদ্ভাসিত, সেখানে তা গৌরবের বস্তু, অহংকারের বিষয়। কিন্তু দেশপ্রেম যেখানে অন্ধ ও উগ্র, সেখানে জাতির জীবনে তা বিপজ্জনক। সেখানে তা ডেকে আনে এক ভয়াবহ সর্বনাশা পরিণতি। উগ্র দেশপ্রেম দিকে দিকে শুধু স্বজাতির শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। জার্মানির হিটলারের উগ্র দেশপ্রেমের কারণে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তাই চির অকল্যাণকর উগ্র দেশপ্রেমের মানসিকতা থেকে আমাদেরকে দূরে চলে আসতে হবে।

স্বদেশপ্রেমের অনুভূতিঃ

দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ থেকে জমা হয় স্বদেশপ্রেমের। পৃথিবীর সব জায়গায় আকাশ, চাঁদ, সূর্য এক হলেও স্বদেশপ্রেমের দচেতনা থেকে মানুষ নিজের দেশের চাঁদ-সূর্য আকাশকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে ভালোবাসে। স্বদেশপ্রেমের অনুভূতি সবচেয়ে বেশি প্রকাশিত হয় দেশের স্বাধীনতা বিপন্ন হলে। তখন স্বদেশপ্রেমের প্রবল আবেগে মানুষ নিজের জীবন দিতেও দ্বিধা করে না। দেশের কল্যাণে ও অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখে বিশ্বসভায় অবদান রেখে দেশের গৌরব বাড়ানো যায়। তাইতো মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জন্মভূমির প্রতি মানুষের তীব্র আবেগ কাব্যে প্রকাশ করেছেন এভাবে-

“আমার দেশের ও মাটির গন্ধে
ভরে আছে এই মন,
শ্যামল কোমল পরশ ছাড়া
নেই কিছু প্রয়োজন।”

ছাত্রজীবনে স্বদেশপ্রেমের শিক্ষা:

ছাত্ররাই দেশের ও জাতির ভবিষ্যত কর্মধার। দেশের উন্নতি ও জাতির আশা পূরণের আশ্রয়স্থল। তাই দেশ ও জাতির প্রতি গভীর মমত্ববোধ ছাত্রজীবনেই জাগিয়ে তুলতে হবে। দেশকে ভালোবাসার জীবনমন্ত্রে দীক্ষিত হতে হবে। ছাত্রদের দেশপ্রেমে উদবুদ্ধ করতে পারলেই দেশের স্বার্থে প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করার আগ্রহ সৃষ্টি হবে। তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হবে বিদ্রোহী কবির বাণী-

“আমরা রচি ভালোবাসার আশায় ভবিষ্যৎ
মোদের স্বর্গ পথের আভাস দেখায় আকাশ ছায়াপথ,
মোদের চোখে বিশ্ববাসীর স্বপ্ন দেখা হোক সফল
আমরা ছাত্রদল।”

বাঙালির স্বদেশপ্রেম:

যুগে যুগে এ পৃথিবীতে অসংখ্য দেশপ্রেমিক জন্মেছেন। তাঁরা নিজ দেশের জন্য আত্মত্যাগ স্বীকার করে নিজ দেশ ও বিশ্বের কাছে অমর হয়েছেন। বাংলাদেশেও তার দৃষ্টান্ত রয়েছে। ১৯৫২ সালে পাকিস্তানি স্বৈরশাসকের হাতে বাংলা ভাষার জন্য রফিক, শফিক, সালাম, জব্বার, বরকতের আত্মদান। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের সাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের আত্মদান করেছেন অসংখ্য ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, মা, বোন সহ সাধারণ মানুষ। এখনো দেশের লক্ষকোটি জনতা দেশের সামান্য ক্ষতির আশঙ্কায় বজ্র কণ্ঠে গর্জে উঠে। তাইতো বলা হয়-

“উদয়ের পথে শুনি কার বাণী ভয় নাই ওরে ভয় নাই,
নিঃশেষে প্রাণ, যে করিবে দান, ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।”

স্বদেশপ্রেম শিক্ষা:

দেশকে ভালোভাসতে শিখলেই দেশের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করার মনোবৃত্তি গড়ে উঠবে। যদিও স্বদেশপ্রেম মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি, তবুও এ গুণটি অর্জন করতে হয়। আর এ গুণ অর্জনের জন্য দেশের সুদিন দেশের উন্নয়নে তৎপর থাকতে হবে। দেশ সম্বন্ধে জানতে হবে। দেশের মাটি ও মানুষকে ভালোবাসতে হবে। তাহলেই দেশপ্রেমের মহৎ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া যাবে।

স্বদেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত:

যুগে যুগে অসংখ্য মনীষী দেশের মানুষের কল্যাণে নিজেরদের জীবন উৎসর্গ করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। এ উপমহাদেশে শেরে বাংলা এ.কে.ফজলুল হক, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, তিতুমীর, মহাত্মা গান্ধী, নেতাজী সুভাস বসু প্রমুখ ব্যক্তি নিজেদের জীবনকে অকাতরে বিলিয়ে দিয়ে দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাছাড়া রাশিয়ার লেনিন ও স্টালিন, ইতালির গেরিবল্ডি, আমেরিকার জর্জ ওয়াশিংটন, ভিয়েতনামের হো-চি-মিন, চীনের মাওসেতুং প্রমুখ ব্যক্তিগণ সারা বিশ্বে স্বদেশপ্রেমের ক্ষেত্রে একেকটি নক্ষত্র। আর বাঙালি জাতির দেশপ্রেমও বিস্মিত করেছে সবাইকে। নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ সন্তানের জীবন বিসর্জনের মাধ্যমে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ।

স্বদেশপ্রেমের বিকাশ:

মা,মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমি স্বদেশপ্রেমের বিকাশ ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার একেকটি স্বতন্ত্র পর্যায়। এ পর্যায়সমূহ সফলতার সাথে অতিক্রমের মাধ্যমে একজন মানুষ তার স্বদেশপ্রেমের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে। দশ মাস দশ দিন ধরে গর্বধারণ, কষ্টের তিক্ততায় করেছে লালন করেছেন মা। মায়ের সাথে আমাদের রয়েছে নাড়ীর বন্ধন যা কোনোভাবেই ছিন্ন হওয়ার নয়। যে ভাষাতে প্রথম কোলে ডাকিনু মা মা বলে সে ভাষাই আমাদের মাতৃভাষা। আর মাতৃভূমি হচ্ছে পৃথিবীর নির্দিষ্ট যে ভূখণ্ডে মানুষ জন্মগ্রহণ করে। তাইতো স্বদেশ বন্দনায় বাণী ঝরে পড়ে-

“সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে
সার্থক জনম মাগো তোমায় ভালোবেসে। “

দেশপ্রেমের উপায়:

“স্বদেশের উপকারে নাই যার মন/কে বলে মানুষ তারে পশু সেই জন।”

পবিত্র ইসলাম ধর্মে ঘোষিত হয়েছে ‘দেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ’। পৃথিবীতে এমন কোনো ধর্ম নেই যেখানে দেশকে ভালোবাসার নির্দেশ দেয়া হয় নি। দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মত্যাগকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেয়া হয়েছে। মানুষ জীবনে যেকোনো সময় যেকোনো স্থান থেকে দেশকে ভালোবাসতে পারে। স্বীয় দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের মধ্য দিয়ে দেশপ্রেম নিহিত। দেশের কল্যাণে ও অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখে, বিশ্বসভ্যতায় অবদান রেখে দেশের গৌরব বাড়ানো যায়। বস্তুত নিজের দৈন্যদশাকে তুচ্ছ করতে হবে এবং দেশ ও জাতির বৃহত্তর কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করতে হবে।

সাহিত্যের আয়নায় দেশপ্রেম:

সাহিত্যের আয়নায় দেশপ্রেম এক ভিন্ন আঙ্গিকে ফুটে উঠেছে। এদেশের কবিগুরুরা দেশপ্রেমকে ফুটিয়ে তুলেছেন তাদের কবিতায়, গানে, নাটকে, উপন্যাসে প্রভৃতি উৎসের মাধ্যমে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন রবীন্দ্রনাথ, মাইকেল মধুসুদন দত্ত, নজরুল, জীবনানন্দ দাস সহ প্রমুখ ব্যক্তিত্বরা। ব্রিটিশ আমলে বাংলা সাহিত্যের গোড়া পত্তন শুরু হলেই প্রকাশিত হয় তাদের উল্লেখযোগ্য কিছু কাব্য যথাঃ নীলদর্পণ, আনন্দমঠ, মেঘনাদ বদ ইত্যাদি। এই কাব্যে তারা দেশপ্রেমের আকুতি ও গুরুত্ব খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলে বাংলা সাহিত্যকে করেছেন সার্থক।

বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতি ও দেশপ্রেম:

বর্তমানের এই আধুনিক সমাজে মানুষের মধ্যে দেশপ্রেমের চেতনা দিন দিন লোপ পাচ্ছে। মানুষ দিন দিন আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে এবং নিজের স্বার্থের দিকেই বেশি ঝুঁকে পড়ছে। দেশ ও দেশের মানুষের কথা না ভেবে দেশের ক্ষতি করে নিজেদের উদরপূর্তি করছে। তারা দেশপ্রেমের চেতনাকে ভুলে গিয়ে নিজ স্বার্থকে বড় করে দেখছে। এই ধরণের মানসিকতার কারণে ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে আর গরিবেরা দিন দিন আরও গরিব হচ্ছে। তাই এই ধরণের মানসিকতা থেকে আমাদের বেরিয়ে এসে দেশের ও দশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

উপসংহার:

“স্বাধীনতাহীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়
দাসশৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়।”

দেশপ্রেম মানবজীবনের একটী শ্রেষ্ঠ গুণ ও অমূল্য সম্পদ। একটি মহৎ গুন হিসবে প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই দেশপেরম থাকা উচিত। সুতরাং, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও জাতির জন্য কিছু না কিছু অবদান রাখা প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের একান্ত দ্বায়িত্ব ও কর্তব্য। সেজন্য আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। স্বার্থপরতা ত্যাগ করে দেশের কল্যাণে সর্বস্ব বিলিয়ে দিতে হবে। তাহলেই দেশ, সামাজিক, অর্থনৈতিক দিক থেকে অগ্রসর হতে সক্ষম হতে পারবে।

শেষ কথাঃ

সবাইকে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে স্বদেশকে সবার উপরে স্থান দিতে হবে। স্বদেশ মানুষের নিকট পরম সাধনার ধন; কামনার অক্ষয় স্বর্গ। যে দেশ বাঁচার অনুপ্রেরণায় আলো, বাতাস, অন্ন, জল, বস্ত্রসহ সন্তান সুলভ জীবনের সবুজাভ আনন্দ দিলো সেই মমতামণ্ডিত আনুগত্যের দেশকে ভালোবাসা আমাদের শ্রেষ্ঠ কাজ।

যেহেতু দেশপ্রেমিক ব্যক্তিই বিশ্ববরেণ্য খ্যাতি লাভ করে। স্বদেশপ্রেমের মাধ্যমে আমরা বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের সেতু বানাতে পারি। তাই, যত বড় ঝড়-ঝঞ্ঝা, বিপদ আসুক না কেন আমরা আমাদের জীবন দিয়ে দেশকে রক্ষা করবো, দেশের সেবা করবো আর  এতেই স্পষ্ট হবে আমাদের স্বদেশপ্রেমের অনন্যতা। আশাকরি তোমাদের স্বদেশ প্রেম রচনা টি ভালো লেগেছে? স্বদেশ প্রেম রচনা ২০ পয়েন্ট টি ভালো লাগলে কমেন্ট করে দিবেন কমেন্ট বক্সে।

FAQs: স্বদেশ প্রেম রচনা

  1. স্বদেশপ্রেম কী?

    জন্মভূমির প্রতি, স্বজাতির প্রতি, মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা ও গভীর শ্রদ্ধাবোধই স্বদেশপ্রেম। দেশপ্রেমীর নিজ দেশের প্রতি রয়েছে অকৃত্রিম ভালোবাসা, সীমাহীন আনুগত্য।

  2. স্বদেশপ্রেমের উৎস কি?

    নিজ আবাসের প্রতি ভালোবাসা থেকে জন্ম নেয় স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা। স্বদেশের মাটি, পানি, আলো, বাতাস যেন আমাদের জীবনেরই অঙ্গ। এগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া অঙ্গহানির শামিল। এগুলোর প্রতি মমত্ববোধ থেকেই সৃষ্টি হয় স্বদেশপ্রেম।

Tag: স্বদেশ প্রেম,স্বদেশ প্রেম রচনা,স্বদেশ প্রেম রচনা ২০ পয়েন্ট,স্বদেশ প্রেম রচনা pdf,স্বদেশ প্রেম প্রবন্ধ রচনা,স্বদেশ প্রেম রচনা class 7,রচনা স্বদেশ প্রেম,স্বদেশ প্রেম অনুচ্ছেদ,স্বদেশ প্রেম রচনা hsc,স্বদেশ প্রেম রচনা ১৫ পয়েন্ট,রচনা : স্বদেশপ্রেম,রচনা : স্বদেশপ্রেম [15 পয়েন্ট],রচনাঃ স্বদেশপ্রেম (২১ পয়েন্ট),স্বদেশ প্রেম কি | স্বদেশ প্রেমের গুরুত্ব,স্বদেশ প্ৰেম,স্বদেশ প্রেম এবং উগ্র স্বদেশ প্রেম,মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বদেশ প্রেম,স্বদেশ প্রেম রচনা | 1000 + শব্দে স্বদেশপ্রেম রচনা

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these

Share via
Copy link