শীতের সকাল রচনা ২০ পয়েন্ট | একটি শীতের সকাল রচনা

শীতের সকাল রচনা ২০ পয়েন্ট

প্রিয় শিক্ষার্থী, আজকের পোস্ট আমরা শীতের সকাল রচনা ২০ পয়েন্ট সম্পর্কে রচনা সাজিয়েছি। যারা শীতের সকাল রচনা অনুসন্ধান করছে তাদের জন্য আজকের পোষ্ট উপকারে আসবে। শীত এলেই আমরা শীতের সকাল রচনা পড়ি তাই শীতের এই সময়টাতেই শীতের সকাল রচনা ২০ পয়েন্ট লিখতে আরম্ভ করলাম।

 শীতের সকাল রচনা ২০ পয়েন্ট 

(সংকেত: ভূমিকা; শীতের সকালের প্রাকতিক সৌন্দর্য; শহরে শীতের সকাল; গ্রামে শীতের সকাল; শাতের সকালে পশপ! শীতের সকালের প্রধান আকর্ষণ; শীতের সকালের সুখ-দুঃখ; শীতের সকালের অসুবিধা; যানবাহন চলাচলের সব উপসংহার)

ভূমিকা: 

ষড়ঋতুর দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। প্রতিটি ঋতুই ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। এর মধ্যে শীত ঋতু আমাদের সামনে হাজির হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন আবেশে। উত্তরের হিমশীতল হাওয়া আর কুয়াশার চাদর গায়ে দিয়ে শীত আসে কনকনে বুড়ির মতাে। মানুষের কাছে শীতের দিনের প্রধান আকর্ষণ শীতের সকাল। এ সময় প্রকৃতি কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে। কুয়াশার ঘন সাদা পর্দা ভেদ করে নবীন সূর্যের আলাে পৃথিবীতে ঔজ্জ্বল্য ছড়াতে পারে না । হিমেল হাওয়ায় প্রকৃতি ও প্রাণিজগতে শুরু হয় কাপন। তাই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেনঃ

শীতের হাওয়ার লাগল নাচন আমলকীর এই ডালে ডালে।

পাতাগুলি শিরশিরিয়ে ঝরিয়ে দিল তালে তালে। 

শীতের সকালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য: 

পৌষ ও মাঘ এ দুমাস শীতকাল । তখন কুয়াশার নাচন শুরু হয় প্রকৃতিকে নিয়ে । উত্তরের হিমেল হাওয়া বয়, গাছপালা পাতাহীন হয়ে পড়ে। নদ-নদীতে স্রোতের তীব্রতা হ্রাস পায়। শীতের সকালে যখন ঘন কুয়াশায় সবকিছু ঢেকে যায় তখন প্রকৃতিকে অপূর্ব সুন্দর মনে হয়। পাণ্ডুর প্রকৃতির মধ্যে এক নীরব সৌন্দর্য দেখা যায় শীতের সকালে । এ সৌন্দর্য অনেকটা বিমূর্ত। শীতের সকালে প্রকৃতি আশ্চর্য নিস্তব্ধতায় মগ্ন হয়ে পড়ে । কুয়াশার অবগুণ্ঠন ছিড়ে নিস্তব্ধতার বুক চিরে কোনাে পথিক হেঁটে গেলে মনে হয় শীতের কনকনে ঠান্ডায় তার শরীর কাঁপছে। টিনের চালে, গাছের ডালে, ঘাসের ডগায়, শিশির বিন্দু জমে থাকার মনােরম দৃশ্য শীতের সকাল ছাড়া আর দেখা যায় না। ঘন সাদা চাদর মুড়ে থাকা প্রকৃতির বুকে মুক্তার মতাে ফুটে থাকা শিশির বিন্দুগুলাে চিকচিক করে। প্রকতি হয়ে ওঠে সতেজ। মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয় হলুদ সরষে খেত আর ফুলের বাগান। কুয়াশার চাদর সরিয়ে সূর্য যখন উঁকি দেয় তখন স্নিগ্ধ আলােয় ঝলমল করে কুয়াশায় ভেজা প্রকৃতি।

শহরে শীতের সকাল: 

শহরে শীতের সকালটা একটু ভিন্ন আঙ্গিকেই কাটে। শীতের সকালে শহরবাসীর ঘুম বিভিন্ন পাখির কলরবে না ভাঙলেও, ভাঙে কাকের ডাকে। শীতের সকালটা শহরবাসী ঘুমের মধ্যেই কাটিয়ে দেয়। শীতের সকালে তাদের লেপের উষ্ণতা। ছেড়ে কাজকর্মে ফিরে যেতে ইচ্ছে করে না। যাদের সকালে উঠতেই হয় তারাও ছুটির দিনে বেশ দেরি করে ঘুম থেকে ওঠে। তাই শহরের লােকেরা গ্রামের মানুষদের মতাে শীতের সকালকে উপভােগ্য করে তুলতে পারে না। 

আর শহরে পিচ ঢালা রাস্তা কুয়াশায়। আচ্ছন্ন থাকে, শিশিরও পড়ে তবে গ্রামের মতাে শিশির ভেজা ঘাসের ছোঁয়ায় পথিকের মন আন্দোলিত হয় না। শীতের সকালে উঠে কনকনে ঠান্ডা পানিতে মুখ ধুতে ইচ্ছে করে না বড়ােদেরও, ছােটোরা তাে ঠান্ডা পানিতে ভয়ে পালাই পালাই করে । শহরের মানুষদের সূর্যোদয় দেখা, সূর্যাস্ত দেখা, শীতের সকালের কুয়াশা দেখার মন-মানসিকতা নেই। যান্ত্রিক জীবনে যারা অভ্যস্ত তাদের কাছে ওসব হলাে আবেগের ব্যাপার। তবে শহরের লােকেরা রংবেরঙের শীতের কাপড়ের মাধ্যমে শীতের সকালকে বরণ করে। কোট, জ্যাকেট, সােয়েটার, টুপি, চাদর, মাপলার প্রভৃতি আরামদায়ক পােশাক জড়িয়ে শীতের সকালে নিজ নিজ কর্মস্থলে বেরিয়ে পড়ে।

গ্রামে শীতের সকাল: 

গ্রামে-গঞ্জে শীতের সকালে সৃষ্টি হয় অভূতপূর্ব দৃশ্য। শীতের সময় শাকসবজি, তরিতরকারি উৎপন্ন হয়। বেশি। শীতের সকালে পাওয়া যায় টাটকা খেজুর রস। ভাপা পিঠার মৌ মৌ গন্ধে সকালবেলায় খিদে বেড়ে যায় । দুঃস্থ-দরিদ্র গ্রামবাসীদের শীতের সময় গরম জামাকাপড় থাকে না। রাতে তারা ঠান্ডায় কাঁপতে থাকে। আর সুয্যি মামা উকি দেওয়ার আগে মনে হয় এই বুঝি সকাল হলাে, এই বুঝি সকাল হলাে। 

আরও পড়ুনঃ  শ্রমের মর্যাদা রচনা ২০ পয়েন্ট সকল পরিক্ষায় কমন পড়বে

গ্রামের মসজিদে আজান হয়, ঘাের অন্ধকার ভেদ করে দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিরা মসজিদে আসেন নামাজ পড়তে। ভরপেট পান্তা ভাত খেয়ে কৃষক কুয়াশাচ্ছন্ন ভাের বেলায় মাঠের কাজে যায়। গঞ্জের হাটে যায়। কেনাকাটার জন্য। গ্রামের মক্তবে ছেলেমেয়েরা পড়তে যায়। মসজিদে বা মক্তবের কাছ দিয়ে হেঁটে গেলেই ছাত্র-ছাত্রীদের সজোরে সমবেত কণ্ঠে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করার দৃশ্য চোখে পড়ে। কানে আসে তাদের কণ্ঠস্বর । শীত একটু বেশি লাগলে সকালবেলায় নাড়ার আগুনে ছেলের দল মটরশুটি পুড়িয়ে খায় আর আগুন পােহায়।

শীতের সকালে নদ-নদী: 

আমাদের দেশে শীতকালে নদ-নদী গুলােতে তেমন পানি থাকে না। তখন নদী থেকে প্রচুর মাছ ধরা যায়। এজন্য শীতের খুব সকালে জেলেরা মাছ ধরতে নদীতে চলে যায়। 

জেলে নৌকাগুলাে অল্প দূরে হলেও কুয়াশার ধূম্রজালে দেখা যায় না। আর সেই ধূম্রজাল ভেদ করে দূরযাত্রার নৌকা, লঞ্চ, ফেরি ইত্যাদি ভালােমতাে চলাচল করতে পারে না। তখন নদীর উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঠান্ডা বাতাসে হাড় কাঁপানাে শীত লাগে।

শীতের সকালের প্রধান আকর্ষণ: 

শীতের সকালের প্রধান আকর্ষণ হলাে বিভিন্ন রকম পিঠা । তখন গ্রামে প্রচুর খেজুরের রস পাওয়া যায়। খুব সকালে খেজুর গাছ থেকে হাঁড়ি নামানাে হয়। শীতের সকালে এ রস খেতে খুবই ভালাে লাগে। সকাল হতে না হতেই গ্রামগঞ্জে সর্বত্র খেজুর রসের পায়েস খাওয়ার ধুম পড়ে। গ্রামের ছেলেমেয়েরা দলবেঁধে রােদ পােহাতে পােহাতে মুড়ি-মুড়কি, পিঠাপায়েস এসব খেতে পছন্দ করে। এ সময়ের প্রধান আকর্ষণ হলাে চিতই পিঠা ও ভাপা পিঠা। এছাড়া হরেক রকম পিঠা ঘরে ঘরে বানানাে হয়। তাই তাে কবি সুফিয়া কামাল বলেছেনঃ

পৌষ-পার্বণে পিঠা খেতে বসে খুশিতে বিষম খেয়ে

আরও উল্লাস বাড়িয়াছে মনে মায়ের বকুনি পেয়ে। 

শীতের সকালের সুখ-দুঃখ: 

শীতের সকালে লেপ-কম্বলের ভিতরে আরামে শুয়ে থাকার মতাে সুখ আর কিছুতে পাওয়া যায় না । শীতের সকালে বিভিন্ন পিঠা দিয়ে নাস্তা করা, নানা রকম শীতের সবজি প্রভৃতি মানুষের মধ্যে সুখানুভূতি সৃষ্টি করে। অন্যদিকে, কনকনে শীতেও যাদের গায়ে দেওয়ার মতাে শীতবস্ত্র নেই, যারা রাস্তার পাশে শীতের হিমশীতল বাতাসে শুয়ে থাকে তাদের জন্য শীতের সকাল অনেক কষ্টের।

শীতের সকালের অসুবিধা: 

শীতের সকালে হাড় কাঁপুনে শীত পড়লে গ্রামের মানুষ জড়তা ও বিষন্নতায় ভােগে। মানুষের কাজের উদ্যম থেমে যায় । আরাম-আয়েস করে কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকতে ইচ্ছে করে। গরিব মানুষগুলাে গরম কাপড়ের অভাবে কষ্ট করে। কবির ভাষায় তাদের মনে প্রার্থনা জাগেঃ

হে সূর্য!

তুমি আমাদের স্যাতসেঁতে ভিজে ঘরে

উত্তাপ আর আলাে দিও। 

যানবাহন চলাচলের অসুবিধা: 

শীতের রাতে বা সকালে পরিবেশ কুয়াশাচ্ছন্ন থাকে। ফলে দূর থেকে স্পষ্ট কিছু দেখা যায় না। মনে হয় কয়াশার সাদা পর্দা ছাড়া সামনে কিছু নেই। এ সময় রাস্তাঘাটে যানবাহন চলাচলের ফলে দুর্ঘটনা ঘটে সবচেয়ে বেশি। নদীপথে লঞ্চ-স্টিমার চলাচলের ক্ষেত্রেও সমস্যা সৃষ্টি হয়। কুয়াশাচ্ছন্ন অবস্থায় রাস্তায় বা নৌপথে চলাচল না করাই ভালাে।

উপসংহার: 

শীতের সকালে শিশির ভেজা সােনালি রােদের স্পর্শ কার না ভালাে লাগে? সুবিধা-অসুবিধা দুয়ে মিলে শীতের সকাল আমাদের জীবনে প্রতি বছর দুই মাস সময় অন্যরকম ভালােলাগার অনুভূতিতে আমাদের হৃদয়কে পরিপূর্ণ করে তােলে। কবির ভাষায় বলা যায়- ‘একটি ধানের শীষের উপরে একটি শিশির বিন্দু’ শীতের সকালের সৌন্দর্যকে দ্যুতিময় করে তােলে।

 

অন্যান্য রচনা>>

  শীতের সকাল রচনা class 7  

এখন আমরা এখানে শীতের সকাল রচনা class 7 এ যারা পড়েন তাদের জন্য নিম্নে শীতের সকাল রচনাটি দেওয়া হলো।

শীতের সকাল রচনা class 7
শীতের সকাল রচনা class 7

ভূমিকাঃ

প্রকৃতির পালাবদলের হাওয়ায় শীত আসে রিক্ততা আর শূন্যতা নিয়ে। ফসলহীন মাঠ, পাতাশূন্য গাছ- প্রকৃতি যেন বৈরাগ্যের বসন পরে। শীতকাল ছয়টি ঋতুর মধ্যে পঞ্চম। পৌষ ও মাঘ মাস শীতকাল। হেমন্ত ঋতুর রই শীতের প্রচণ্ড আবহ নিয়ে শীত ঋতুর আবির্ভাব ঘটে।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশের সমুদ্র জয় রচনা, পড়ুন এবং শিখুন (বাংলা প্রবন্ধ রচনা)

শীতের প্রকৃতিঃ

শীত প্রকৃতির বুকে বুলিয়ে দেয় হিমেল হাওয়া। ভোরের ঘন কুয়াশার আবরণের অন্তরালে ঢাকা পড়ে প্রকৃতি সমস্ত রূপসজ্জার অলংকার ছুড়ে ফেলে সে যেন রিক্ত বৈরাগীর রূপ নেয়। গাছপালা হারায় সজীবতা। শুরু হয় পাতা করার পালা। শীতকালে পশুপাখি ও গাছপালার মধ্যে নির্জীবতা দেখা দেয়। এসময় রোদের তেজ কমে যায়।লোকেরা গরম ও পরিধান করে শীতের কষ্ট থেকে রক্ষা পেতে লোকজন শীতের কাপড় পরিধান করে। কিন্তু গরিব লোকেরা প্রচণ্ড শীতে কষ্ট পায়।

শীতের উপহারঃ

শীতের শীতল আমেজ সবার মাঝে নব বার্তা পাঠায়। কুয়াশা আর শিশিরে ভেজা শীত সবুজ মনের কোণে শিহরণ জাগায়। রবি শস্যের সম্ভারে প্রকৃতির রিক্ততা কিছুটা হলেও ঘুচে যায়। কৃষাণি ব্যস্ত থাকে শীত মৌসুমের ফসল তোলার কাজে। শাকসবজির প্রাচুর্যে সকলের মুখে হাসি ফুটে। লালশাক, পালংশাক, বেগুন, বটি, শিম, টমেটো, আলু ইত্যাদি শাকসবজির সমারোহ লক্ষ করা যায় এ ঋতুতে। মূলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগম, ওলকপি ইত্যাদি শীতের আকর্ষণীয় ও উপাদেয় সবজি। শীতের উপহার হিসেবে বাজারে আসে জলপাই, কামরাঙা, কমলালেবু ও সফেদার ন্যায় নানা সুস্বাদু ফল। এসময় গাঁদা, গোলাপ, ডালিয়া, সূর্যমুখী, শিউলি ইত্যাদি রং-বেরঙের ফুলে বাগান ভরে যায়। এসময় খেজুরের রস পাওয়া যায়। এ রস দিয়ে ক্ষীর, পিঠা-পায়েস ও পুলি খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। ছোটো ছেলেমেয়েরা এ ঋতুতে বেশ আনন্দ পেয়ে থাকে। ভোর হওয়ার আগেই তারা ফুল কুড়াতে বেরিয়ে পড়ে।

শীতের অসুবিধাঃ

শীতের এতসব উপহারের মাঝেও কিছু বিষণ্নতার করুণ চিত্র ফুঠে ওঠে। দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত মানুষদের জন্যে শীত সবচেয়ে কষ্টদায়ক ঋতু। হাড় কাঁপানো শীতে তাদের দুঃখের সীমা থাকে না। তখন শুধু অপেক্ষার পালা, কখন আকাশে নতুন সূর্যের আগমন ঘটবে। অনেক সময় দুই-তিন দিন পর্যন্ত সূর্যেরও মুখ দেখা যায় না। খড়কুটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে তখন একটুখানি উষ্ণতার সন্ধান করে তারা। শীতল বাতাস কুঁকড়ে যাওয়া মানুষের জন্যে মৃত্যুর কারণ হয়েও দাঁড়ায়। শীতকালে দেহ মনে এসে ভর করে রাজ্যের আলস্য। বিছানা ছেড়ে উঠতে মন চায় না। কাজে বের হতে প্রায়ই দেরি হয়ে যায় ।

শীতের উৎসবঃ

শীতকালে তীব্র গরম বা ঝড়বৃষ্টি কোনোটাই থাকে না। বিনোদন ও ভ্রমণের জন্যে মানুষ তাই শীতকালকে বেছে নেয়। এ সময় নবান্ন উৎসব, পৌষমেলা ছাড়াও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মুখরিত হয় দেশ।বিশেষ করে বিয়ের ধুমধামে চারদিক যেন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

উপসংহারঃ

শীতকাল সবার জন্যে নির্মল আনন্দ ও সুখ বয়ে নিয়ে আসে না। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র না থাকার কারণে দরিদ্র মানুষেরা শীতকালে অতিকষ্টে জীবন কাটায়। শীতকাল কিছুটা কষ্টের হলেও অনেকেই এ ঋতু পছন্দ করে।কারণ শীত প্রাচুর্যের ঋতু, গ্রামবাংলার সচ্ছলতার ঋতু।

অন্যান্য রচনা>>

   শীতের সকাল রচনা for class 10  

যারা নবম দশম শ্রেনীতে অধ্যায়নরত অবস্থায় আছে, তাদের জন্য নিম্নে দেওয়া হলো শীতের সকাল রচনা for class 10 এই রচনাটি। আপনারা শিখে পরিক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারেন।

ভূমিকাঃ

জ্বরাগ্রস্ত জীবনের বার্তা নিয়ে শীত এসে বাংলা প্রকৃতির বক্ষ দখল করে। উত্তরের হিমেল বাতাস দেহমনে শীতল তীরের আঘাত হানে। বনের গাছপালার পাতা ঝরে। কবির ভাষায় –

“শীতের হাওয়ায় লাগল নাচন
আমলকীর এই ডালে ডালে।
পাতাগুলি শিরশিরিয়ে
ঝরিয়ে দিল তালে তালে।”

শীতের সকালের প্রকৃতিঃ

শীত আসে শূন্যতা আর জড়তা নিয়ে। হেমন্তের ফসল তখন ঘরে ওঠেছে। শীত আসে শূন্য মাঠের পথ ধরে। শীত যখন চলে যায় তখন শুরু হয় বসন্তের গৌরবময় অভিযান। শীতের শুরু থেকেই প্রতি সকালেই বইতে থাকে উত্তরের বাতাস। কুয়াশার ঘোমটা টেনে সকাল হয়। দিনের আয়ু কমে। সকালের সোনা রোদ পড়ে শিশির ভেজা সবজি খেতে। আকাশটা চকচকে নীল হয়। সকালের নীল রোদে মিলিয়ে মনে হয় এক তরল উজ্জ্বল সরোবর যেন। মনে হয় এক চুমুকে রোদের নীলটুকু পান করি। গাছের পাতা খসে পড়া শীতের সকালের কনকনে ঠাণ্ডার উপদ্রব। কবির উচ্চারণ-

“হিম হিম শীত শীত
শীত বুড়ী এলোরে,
কনকনে ঠাণ্ডায়
দম বুঝি গেলরে।”

পৌষ-মাঘ, শীতের এ দুই মাসের প্রতিটি সকালে এ-কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।

আরও পড়ুনঃ  পিতা মাতার প্রতি কর্তব্য রচনা | পিতা মাতার প্রতি কর্তব্য

প্রকৃতি ও জীবজগতের পরিবর্তনঃ 

শীতের সকালে প্রকৃতি, মানুষ ও জীব-জন্তুর মধ্যে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। কার্তিকের শুরুতেই দিন খুব ছোট আর রাত্রি খুব বড় হয়। নর-নারী শীতের রাত্রে ঝিমুতে ঝিমুতে প্রতীক্ষা করে কখন পূর্ব আকাশ হতে আল্পনা দেয়া রক্তের মতো লাল সূর্য। রাত্রি শেষ হবার পরে যখন পূর্বাকাশে সূর্য ওঠে তখন সকালের কুয়াশা ছিন্নভিন্ন হতে থাকে। চাঙ্গা হয়ে ওঠে প্রকৃতি ও জগত। কর্মচঞ্চল জীবনে শুরু হয়ে যায়। ছোটাছুটি । কৃষক শীতের সকালে মাঠে গিয়ে ধান কেটে, ধান নিয়ে গৃহপানে ফেরে আর কৃষাণী ধান ভানার মহোৎসবেরমাঝে পড়ে যায়। গান জাগে মানুষের মনেঃ-

‘পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে, আয়রে চলে আয়
আয় আয় আয়।
ডালা যে তার ভরেছে আজ পাকা ফসলে
মরি হায় হায় হায়?
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শীতের সকালের বর্ণনাঃ

কুয়াশার স্বপ্ন চাদর মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে থাকে শীতের পৃথিবী। পুর্বাকাশে লাল সূর্যটা উঁকি মারে। মারলে কী হবে? মানুষ তখন লেপের নিচে। গ্রামের মানুষ কাক-ডাকা ভোরে মাঠে গিয়ে আগুন জ্বালায়।শহরের মানুষগুলো ঘরের জানালা আটটার আগে খোলেনই না। শীতের প্রচণ্ডতায় পাখ-পাখালিও দেরীতে নীড় ত্যাগ করে । অরুণ রাঙা শীতের সকালে রুপালী শিশির মুক্তোর মতো চিক্‌চিক্ করে ওঠে। শীতের সকাল বিবর্ণ, মৃত্যুজীর্ণ নয়। সকাল বেলাতেই বাগান আলো করে দাঁড়িয়ে থাকে, গাঁদা, কলাবতি, নীলমণি, পলাশ ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা আর জিনিয়া। ওরা যেন শীতের সকালে স্বাগত জানায়। শীতের সকালে গ্রামের খেজুর রসের মধুর হাঁড়ি উজাড় করে দিতে ছুটে আসে রসওয়ালা। পাটালি গুড়ের সাথে চলে পিঠে পায়েশের ধূম। পৌষ পার্বণের দিনে নানা রকমের মনোমুগ্ধকর পিঠার উৎসবে মুখরিত হয় গ্রাম বাংলার শীতের সকাল। শীতের সকালে গ্রামদেশে বিভিন্ন বাড়িতে বাড়িতে পিঠা বানানোর পাল্লা পড়ে যায়। ভারে ভারে শিম, বরবটি, কপি, কলা, ফুলকপি, বেগুন গ্রামের মানুষেরা নিয়ে চলে হাটবাজারের দিকে। শীতের সকালে শহরে বন্দরে দেখি কাজের তৎপরতা। কর্মচঞ্চল জীবনের পরিচয় যেন শীত সকালের মতো অন্য কোনো ঋতুতে খুঁজে পাওয়া যায় না। সুলভ খাদ্যদ্রব্য গ্রামাঞ্চলে উৎপাদিত ফসলের আনাগোনা; তাই শীতের পরশ করে রোমাঞ্চিত।

মানব মনের উপর প্রভাবঃ

শীতের সকালটাই যেন কর্মজীবী মানুষের সঞ্জীবনী সুধা। প্রচণ্ড শীতের সকালই মানুষের সারাদিনের কর্মপ্রেরণার উৎস। সারা রাতের আড়ষ্ট মনটাকে শীতের সকাল পুন সজীব করে তোলে।

শীতে মিলনের বাঁশী বাজেঃ

শীতে প্রকৃতির সজীবতার ওপর শান্তি নেমে আসলেও জীবনদায়ীনী রোদের মাদকতায় ঝরা পাতার প্রকৃতিকে মনে হয় কত সজীব। উৎসবের সমারোহে, খাদ্যের নানা সুমিষ্ট ও উপাদেয় উপাচার শীত সকালে মিলনের বাঁশী বাজিয়ে ফিরে। কে যেন পাকা ধানের মাঠে মাঠে স্বর্ণের অপরূপ মায়া বিছিয়ে দেয় শীত সকালে। শিশির বিন্দু সূর্যকিরণে ঝলমল করে লক্ষ মাণিক হয়ে হাসে।

উপসংহারঃ

এক একটি সকাল আমাদের জীবনে আসে মহৎ চলমান জীবনের বার্তা নিয়ে। মানবের কর্মচঞ্চলতার সঙ্গে হাত মিলিয়ে কুয়াশাছন্ন ঝিমিয়ে পড়া প্রকৃতি সজাগ হয়ে ওঠে শীতের প্রাক্কালে।

 

শেষ কথা,

যারা শীতের সকাল রচনা ২০ পয়েন্ট অনুসন্ধান করতে ছিলে তাদের জন্য আশা করি আজকের আলোচনাটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এ ধরনের রচনা পেতে আমাদের sohobangla ওয়েবসাইটটি প্রতিনিয়ত ভিজিট করতে হবে। একটি শীতের সকাল রচনা টি ভাল লাগলে এই পোস্টটি তোমার ফেসবুক পেজে অথবা প্রোফাইলে শেয়ার করতে পারো। শীতের সকাল রচনা ২০ পয়েন্ট সম্পর্কে কোন মতামত থাকলে কমেন্টে জানাতে পারো। 

অন্যান্য রচনা>>

TAG: শীতের সকাল রচনা ২০ পয়েন্ট,একটি শীতের সকাল রচনা,শীতের সকাল রচনা ২য় শ্রেণী,একটি শীতের সকাল রচনা class 6,একটি শীতের সকাল রচনা class 4,শীতের সকাল রচনা ছোট,শীতের সকাল রচনা ৭ম শ্রেণী,শীতের সকাল রচনা ৫ম শ্রেণী,শীতের সকাল রচনা pdf,শীতের সকাল রচনা ৫ম শ্রেণী,শীতের সকাল রচনা ৩য় শ্রেণি,শীতের সকাল রচনা চতুর্থ শ্রেণীর জন্য,paragraph শীতের সকাল রচনা,শীতের সকাল রচনা ছোট

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these

Share via
Copy link