বই পড়ার আনন্দ রচনা | বই পড়া প্রবন্ধ রচনা

বই পড়ার আনন্দ রচনা
Contents
বই পড়ার আনন্দ রচনাভূমিকাঃ বইয়ের বিকাশঃবই পড়ার প্রয়ােজনীয়তাঃ বই মানুষের বিশ্বস্ত সঙ্গীঃবই পড়া এবং আনন্দলাভঃ সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশে বইঃ ব্যক্তিত্ব বিকাশে বইঃ বই নির্বাচনে সতর্কতাঃ উপসংহারঃ বই পড়া প্রবন্ধভূমিকাঃপ্রাচীন যুগ ও গ্রন্থপাঠঃপাঠাগারের সাহিত্যভাণ্ডারঃআনন্দ এবং মানসিক সুস্থতাঃউপযােগিতাঃউপসংহারঃবই পড়ার আনন্দ রচনা HSCভূমিকাঃবই পড়া কিঃমানুষের বই পড়ার ইতিহাসঃ বই পড়ার উপকারিতাঃবর্তমান যুগে বই পড়াঃ আমি ও বই পড়াঃ বই পড়ার নেশাঃউপসংহারঃ বই পড়ার আনন্দ রচনা ২০ পয়েন্টভূমিকাঃবইয়ের আবির্ভাবঃবইয়ের প্রয়োজনীয়তাঃমানুষের কৌতূহল মেটায় বইঃনিঃসঙ্গতা ঘোচাতে বইঃবই থেকে পাওয়া যায় অনাবিল আনন্দঃসভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটায় বইঃমানুষকে উদার করে বইঃউপসংহারঃশেষ কথা

অনেকেই পরিক্ষার জন্য বই পড়ার আনন্দ রচনা খুজছেন ইন্টাননেটে। আর তাই আমরা নিয়ে উপস্থিত হলাম বই পড়া প্রবন্ধ রচনা নিয়ে। এখানে আপনাদের সুবিধার জন্য ছোট-বড় কয়েকটি রচনা আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি। আপনার যেটা সোজা মনে হয় আপনি সেটিই পড়বেন। আর দ্রুত পড়াশেখার জন্য আপনারা আমাদের এই রচনা আপনার খাতায় নোট করে ফেলুন। বন্ধুরা আপনি চাইলে আমাদের ফেসবুক পেইজ এ যুক্ত থেকে আমাদের মেসেজ দিতে পারেন এবং গেস্ট পোষ্ট করতে চাইলেও যোগাযোগ করবেন।

বই পড়া মানুষের জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক বিনোদনের একটি আদিম রূপ। এই বিনোদনের মধ্যে যেমন অফুরন্ত আনন্দ লুকিয়ে আছে, তেমনি জ্ঞানের প্রয়োজনও রয়েছে। আজকের নিবন্ধে, আমরা মানুষের এই আদিম আনন্দময় অভ্যাসের প্রকৃতি আবিষ্কারের উপর আলোকপাত করার চেষ্টা করতে যাচ্ছি।

বই পড়ার আনন্দ রচনা

বই পড়ার আনন্দ রচনা এর সংকেত: ভূমিকা,বইয়ের বিকাশ,বই পড়ার প্রয়ােজনীয়তা,বই মানুষের বিশ্বস্ত সঙ্গী,বই পড়া এবং আনন্দলাভ,সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশে বই,ব্যক্তিত্ব বিকাশে বই,বই নির্বাচনে সতর্কতা,উপসংহার।

বই পড়ার আনন্দ রচনা

ভূমিকাঃ

বই মানুষের চিরন্তন বিশ্বস্ত সঙ্গী। জন্মগতভাবেই মানুষ অন্যের সাহচর্য প্রত্যাশা করে। তাই প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই মানুষ পারস্পরিক সহযােগিতায় জীবনের অর্থ খুঁজেছে। মানুষের পাশাপাশি একসময় এ সাহচর্যের অংশীদার হয়েছে বই । মানবজীবন প্রবাহের যাবতীয় ভাব-অনুভূতি জানার প্রবল আগ্রহ মানুষকে বইমুখী করেছে। কেননা যুগ যুগ ধরে মানুষের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, হাসি-কান্নার অনুভূতি বুকে ধারণ করে অনাগত কালের মানুষের জন্যে চির অপেক্ষমাণ হয়ে আছে বই । অতীত-বর্তমান আর ভবিষ্যতের যােগসূত্র রচনা করে বই । তাই বই পড়ে মানবমন লাভ করে অনাবিল প্রশান্তি।

বইয়ের বিকাশঃ

বই মূলত জ্ঞানীর জ্ঞানসাধনার ফসল । জ্ঞানসাধক তার অভিজ্ঞতালব্ধ ভাব-অনুভূতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানানাের তাগিদ থেকে বই লেখেন। সভ্যতার বিকাশের একপর্যায়ে মানুষ তার চিন্তাভাবনা, হৃদয়ানুভূতি, অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান ভবিষ্যতের মানুষের কাছে পৌছে দেয়ার জন্যে গ্রন্থ রচনার আশ্রয় নিল । ক্ৰমে ছাপাখানার আবিষ্কার বইয়ের প্রচারকে বিস্তৃত করল । ফলে ঘরে বসেই মানুষ যাবতীয় বিষয়ে জ্ঞান লাভ করা শুরু করল। শুধু অতীতের ঘটনাবলি নয়, বর্তমানের বিশ্বব্যাপী জ্ঞান আহরণের দ্বার উন্মুক্ত হলাে। এ যেন ক্ষুদ্র আসনে বসে বিশ্বমানবের সাহচর্য লাভ করা। জ্ঞানের মহাসমুদ্রের কল্লোল শােনা যায় বইয়ের পাতায়। যে মহাসমুদ্র যুগ থেকে যুগান্তরে জ্ঞান বিতরণের মহান ব্রত নিয়ে সদা প্রবহমান ।

বই পড়ার প্রয়ােজনীয়তাঃ

বই বিপুল জ্ঞানের ভাণ্ডার, প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের সাধনার ফল বিধৃত আছে বইয়ে। নানান কালের মানুষ তাদের বিচিত্র অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানােপলদ্ধি অনাগত কালের মানুষের আনন্দ জোগানাের জন্যে লিপিবদ্ধ করে যান বইয়ে। ফলে বর্তমানের মানুষ নিজের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার জন্য বইয়ের কাছে আত্মসমর্পণ করে। স্বল্পায়ু জীবনে মানুষে পক্ষে বিস্তৃত পৃথিবীর বহুবিধ জ্ঞানলাভ করা সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে বইই পারে তার জ্ঞানভাণ্ডারকে পরিপূর্ণ করতে। এ উপলব্ধি থেকেই রবীন্দ্রনাথ তাঁর ঐ কথা ‘ কবিতায় বলেছেনঃ-

বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি !
বিশাল বিশ্বের আয়ােজন ;
মন মাের জুড়ে থাকে অতিক্ষুদ্র তারি এক কোণ
সেই ক্ষোভে পড়ি গ্রন্থ ভ্রমণবৃত্তান্ত আছে যাহে
অক্ষয় উৎসাহে–’

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিশ্বের মহামূল্য গ্রন্থগুলাে মানুষের জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্য সাধনার নির্বাক সাক্ষী, এগুলাের মধ্য দিয়েই মানুষ লাভ করেছে তার আপন অন্তরতম সত্তার পরিচয়। বই হলাে মানুষের সম্পূর্ণ ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন, তাই যুগে যুগে বই মানুষের জ্ঞানের ভাণ্ডার পরিপূর্ণ করেছে।

বই মানুষের বিশ্বস্ত সঙ্গীঃ

মানুষের নিঃসঙ্গতা ঘুচানাের অনুপম সঙ্গী বই। মানবজীবন নানান ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়। এ সংঘাতময় জীবনে বই পারে সকল ক্লান্তি মুছে দিয়ে প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে দিতে। মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে কাজ করে বই। জীবনের নানাবিধ অভিঘাতে মানুষ যখন অস্থির হয়ে ওঠে তখন গ্রন্থ পাঠেই মেলে সান্ত্বনা। বাইরের যান্ত্রিকতায় আমরা যখন মনের গহীনে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ি তখন গ্রন্থ পাঠেই পাওয়া যায় পরম বন্ধুর সাক্ষাৎ। বইয়ের সঙ্গের উপযােগিতা সম্বন্ধে চার্লস ল্যাম্ব বলেছেন, ‘বই পড়তে যে ভালােবাসে তার শত্রু কম‘। বই মানুষের আত্মাকে সৌন্দর্য। দান করে। আর আত্মার সৌন্দর্য মানুষকে দান করে পরিপূর্ণতা। গ্রন্থ পাঠেই খুঁজে পাওয়া যায় সামনে চলার আলাের পথ, আত্মার পরিশুদ্ধি! তাই বইয়ের চেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু অকল্পনীয়।

বই পড়া এবং আনন্দলাভঃ

উৎকৃষ্ট বই মানব হৃদয়ের অনাবিল আনন্দের অফুরন্ত উৎস। কর্মব্যস্ত মানুষ হাজার ব্যস্ততার মাঝে একটু সময় করে নিয়ে বইয়ের মাধ্যমে পেতে চায় অনাবিল আনন্দ। জাগতিক জীবনের নানাবিধ সংঘাত এবং সমস্যার উর্ধ্বে বই মানুষকে আনন্দ দান করে । জীবন সংগ্রামের যান্ত্রিকতা থেকে মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজের ভেতর সৃষ্টি করে একান্ত নিজস্ব একটি ভুবন। সে ভুবনে সবচেয়ে বেশি সাহচর্য দান করে গ্রন্থ পাঠ, মানুষকে দেয় নতুন প্রেরণা, উৎসাহ ও মানসিক প্রশান্তি। সত্য, সুন্দর এবং জ্ঞানের আলােয় গ্রন্থ পাঠ মনের বিকাশ ঘটায়। সকল অকল্যাণ, অসত্য, সংকীর্ণতা থেকে মানবমনকে মুক্তি দেয় বই । এজন্যই ভিনসেন্ট স্টারেট বলেছেন, ‘When we buy a book we buy pleasure.’ বইয়ের মাধ্যমেই আমরা বিশ্বের সকল দেশের সকল জাতির এবং সকল প্রকার জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাথে পরিচিত হবার আনন্দ লাভ করি। হেনরি ভনডিকের মতে, হৃদয়ের স্পর্শ যেখানে আছে, সেটাই গ্রন্থ। আমরা এক যুগে বসে আরেক যুগের প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের হৃদয়ানুভূতির সাথে মিলিত হবার সৌভাগ্য অর্জন করি গ্রন্থ পাঠে, এভাবেই দুঃখ-বেদনার মুহূর্তে, মানসিক অশান্তিতে, হতাশাগ্রস্ত মনে বই নানাভাবে আমাদের আনন্দের সঞ্চার করে।

সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশে বইঃ

বই শুধু ব্যক্তিমনের নিঃসঙ্গতা দূর করে না, সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশেও রাখে। অসাধারণ ভূমিকা। গ্রন্থের সাহচর্যেই মানুষ অগ্রসর হয়ে চলে সভ্যতা ও সংস্কৃতির ক্রম অগ্রযাত্রার পথে। অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধ্যে সেতুবন্ধ রচিত হয়েছে উৎকৃষ্ট বইগুলাের মাধ্যমে। প্রাচীনকাল থেকে আজ পর্যন্ত সভ্যতা-সংস্কৃতি যে ধারায় বিকশিত হয়েছে এবং হচ্ছে তা অক্ষরের ভাষায় লিপিবদ্ধ হয়েছে গ্রন্থে, যা পাঠ করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পুরাতন ও নতুনের তুলনা করে পাবে সৃজনের উন্মাদনা। এ সৃজনশীল অনুপ্রেরণাই সভ্যতা বিকাশের মূল নিয়ামক। যুগে যুগে যে সকল মনীষী সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশে অবদান রেখেছেন তাদের সাথে আমরা পরিচিত হতে পারি গ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে । হােমার, দান্তে, ভার্জিল, মাদাম কুরি, জগদীশচন্দ্র বসু, প্লেটো, এরিস্টটল কিংবা মার্কসকে আজ আমরা পাব, কিন্তু তাদের লেখা বইয়ের মাধ্যমেই আমরা তাদের সান্নিধ্য লাভ করব এবং তাদের কর্মপ্রেরণায় উদ্দীপ্ত হয়ে সভ্যতা-সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করার মানসিক জোর পাব। সরােজ আচার্যের ভাষায়ঃ-

জীবনটা বই দিয়ে ঘেরা নয় ঠিকই, তবে জীবনকে বুঝতে হলে, অভ্যাসের সংস্কারের বেড়া ভাঙতে হলে
বই চাই।’
এভাবেউ সংস্কারের ঊর্ধ্বে উঠে বই সভ্যতার বিকাশ ঘটায় যুগের পর যুগ।

সরােজ আচার্য

ব্যক্তিত্ব বিকাশে বইঃ

বই মানুষকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। ফলে মনের দিগন্ত হয় উন্মােচিত ও প্রসারিত। কবি শেলীর মতে, ‘যতই আমরা অধ্যয়ন করি, ততই আমাদের অজ্ঞতাকে আবিষ্কার করি।’ যতই মানুষ তার নিজের অজ্ঞতাকে চিহ্নিত করতে পারে ততই তার মন মহৎ সাধনায় ব্যাপ্ত হতে শেখে। উৎকৃষ্ট বই কুসংস্কারাচ্ছন্ন মনকে শুদ্ধ করে, মানুষ খুঁজে পায় যথার্থ মানুষ হয়ে ওঠার পথের সন্ধান। বই হলাে মানুষের সম্পূর্ণ ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন। তাই গ্রন্থ পাঠে আমরা বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বের সাথে পরিচিত হয়ে নিজ ব্যক্তিত্বের বিকাশের পথ খুঁজে পাই । আত্মার পরিশুদ্ধি ঘটিয়ে পরিপূর্ণতা অর্জনের অনুপ্রেরণা জোগায় বই। বিদ্যাসাগর, রাজা রামমােহন রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দস্তয়ভস্কি, মাক্সিম গাের্কি প্রমুখ মনীষীর মহৎ চিন্তাচেতনা, মহৎ কর্মকাণ্ডের সাথে আমরা পরিচিত হতে পারি গ্রন্থ পাঠে। গ্রন্থ পাঠে মনের জানালা খুলে যায়, উঁকি দেয় মুক্তচিন্তা, গড়ে ওঠে মূল্যবােধ।

আরও পড়ুনঃ  প্রবন্ধ: বিজ্ঞান ও কুসংস্কার রচনা | Biggan o Kusanskar Rachana

বই নির্বাচনে সতর্কতাঃ

যুগ যুগ ধরে মানুষ জগৎ ও জীবন সম্বন্ধে যে বিচিত্র অভিজ্ঞতা লাভ করেছে তার সবই বিধৃত হয়েছে বইয়ের পাতায়। ফলে মানুষ প্রয়ােজনীয় দিকনির্দেশনা পেতে পারে বইয়ের সাহায্যে। উৎকৃষ্ট বই মানুষের আত্মার পরিশােধন করে তাকে আনন্দ ও প্রকৃত সুখ দান করে। অন্যদিকে, সাহিত্যিক মানসিকতা নিয়ে নয় বরং ব্যবসায়ী মানসিকতা নিয়ে কিছু বই ছাপা হয়, যা মানুষকে ধ্বংসের পথে টেনে নিয়ে যায়। এসব বই মনকে পরিশুদ্ধ না করে বিষাক্ত করে। যা ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত জীবন উভয় ক্ষেত্রেই ক্ষতিকর। তাই গ্রন্থ পাঠের ক্ষেত্রে গ্রন্থ নির্বাচনে দিতে হবে সতর্ক দৃষ্টি। মনের বিকাশে যে বই সহায়ক তাকেই পাঠের জন্যে নির্বাচিত করতে হবে।

উপসংহারঃ

বিখ্যাত ঔপন্যাসিক তলস্তয় বলেছেন, জীবনে তিনটি বস্তুই বিশেষভাবে প্রয়ােজন, তা হচ্ছে বই, বই এবং বই। বই মানুষের আনন্দের সঙ্গী । মানুষের মনকে জাগিয়ে তােলে বই। বইয়ের মাধ্যমে মানুষ যতবার তার অজ্ঞতাকে আবিষ্কার করে ততবার একটি করে মনের চোখ ফুটে ওঠে। গ্রন্থ পাঠে আনন্দলাভ এবং আনন্দোপলব্ধির জন্যে মানুষকে হতে হবে অধ্যবসায়ী। ভালােবাসতে হবে বইকে। অন্যথায়, গ্রন্থের জগৎ থেকে আনন্দ আহরণে সে হবে ব্যর্থ।

এই রচনাগুলি দেখতে পারেন>>>

  1. পিতা মাতার প্রতি কর্তব্য রচনা | পিতা মাতার প্রতি কর্তব্য
  2. আমাদের এখানে পড়ুন সময়ানুবর্তিতা রচনা ২০ পয়েন্ট | সময়ানুবর্তিতা রচনা
  3. সময়ের মূল্য রচনার ২০ পয়েন্ট | সময়ের মূল্য রচনা
  4. কমন পড়বেই আমাদের বিদ্যালয় রচনা ক্লাস ৬ | আমাদের বিদ্যালয় রচনা
  5. স্বদেশ প্রেম রচনা ২০ পয়েন্ট | স্বদেশ প্রেম রচনা
  6. শেখ রাসেল রচনা ২০০ শব্দ | আমার ভাবনায় শেখ রাসেল রচনা
বই পড়া প্রবন্ধ রচনা

বই পড়া প্রবন্ধ

ভূমিকাঃ

মানুষ সামাজিক জীব। মানুষের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার অনুভূতি নিজের বুকে নিয়ে পাঠকের জন্য চির অপেক্ষমান হয়ে আছে বই। তাই এই মানবজীবনে সবচেয়ে বড়াে সম্পদ বই। বই পড়েই মানুষ অজানাকে জানতে পারে, অচেনাকে চিনতে পারে। বই অতীত ও বর্তমানের বহুমুখী জ্ঞানসম্পদের ধারক ও বাহক।

প্রাচীন যুগ ও গ্রন্থপাঠঃ

বই পড়া সর্বকালে সর্বদেশের মানুষের শখ। বিভিন্ন রুচির মানুষ তাদের রুচিমাফিক বইয়ের পাতায় চোখ রেখে শখ চরিতার্থ করে। বই বা সাহিত্যসমাজ, মানবমনের দর্পণ-বিশেষ। মানুষের মনের প্রতিচ্ছবি হল সাহিত্য। তাই অনাদিকাল থেকেই গ্রন্থপাঠে মানুষ অনাবিল শান্তি লাভ করে আসছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন,

“বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি।
বিশাল বিশ্বের আয়ােজন
মাের মন জুড়ে থাকে অতিক্ষুদ্র তারই এক কোণ।”

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মানুষ ও সমাজকে সম্পূর্ণরূপে জানবার জন্যই বই পড়া দরকার। বই পড়া ছাড়া সাহিত্যপাঠ ও সাহিত্যচর্চার উপায়ান্তর নেই।

পাঠাগারের সাহিত্যভাণ্ডারঃ

দেহের খাদ্য ভাত, রুটি; মনের খাদ্যের জোগান দেয় বই। মনের সুস্থতার ওপর অনেকাংশে দেহের সুস্থতা নির্ভরশীল। মনকে সুস্থ রাখার জন্য ভালাে বইয়ের সঙ্গ প্রয়ােজন। ভালাে বই পাঠককে সচেতন মানুষ রূপে গড়ে তােলে। ভালাে বই মানে ভালাে বন্ধু এবং যােগ্য শিক্ষক। মানুষের জীবনের চলার পথে যেমন ভালাে বন্ধুর প্রয়ােজন, তেমনি প্রয়ােজন ভালাে বই। গ্রন্থের দর্পণে নিজেকে পর্যালােচনা করে মানুষ তার চলার পথ ঠিক করতে পারে। বইকে যে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে, তার শত্রু অনেক কম। বই জ্ঞানের প্রতীক, বই আনন্দের প্রতীক। বইয়ের মাধ্যমে বিশ্বমানবের সঙ্গে যােগ ঘটে। বিখ্যাত ঔপন্যাসিক তলস্তয় বলেছিলেনঃ- Three things are essential for life & these are books, books & books.

আনন্দ এবং মানসিক সুস্থতাঃ

বই মানুষকে চেতনাসম্পন্ন নাগরিকে পরিণত করে। বই আসলে মানুষের চৈতন্য ও মনীষার সৃষ্টি। লেখকের উপলদ্ধিজাত অভিজ্ঞতা বইতে লিপিবদ্ধ হয়। সুতরাং তার সঙ্গে পাঠকের পরিচয় ঘটলে তা মানুষকে সচেতন করে তােলে। এইভাবে মানুষ সচেতন নাগরিক হয়ে ওঠে। জীবনকে বুঝতে হলে, অভ্যাসের সংস্কারের বেড়া ভাঙতে হলে বইয়ের সঙ্গ অবশ্য প্রয়ােজন। প্রমথ চৌধুরী বলেছেন, “বৈঠকখানার দেওয়ালে হাজার টাকার একখানি নােট না ঝুলিয়ে, হাজার টাকা দামের একখানা ছবি ঝােলানােতে যে আর্থিক সুরুচির পরিচয় দেয়, তেমনি নানা আকারের নানা বর্ণের রাশি রাশি বই সাজিয়ে রাখাতে প্রমাণ হয় যে গৃহকর্তা একাধারে ধনী ও গুণী।

উপযােগিতাঃ

বই হল আয়নার মতাে, যাতে আমাদের নিজেদের মনের প্রতিবিম্ব ধরা পড়ে। বইবিহীন জীবনকে আত্মবিহীন দেহের সঙ্গে তুলনা করা চলে। বই আলাের ও সত্যের পথ দেখায়। বলে দেয় নিজেকে বিশুদ্ধ করে গড়ে তােলার জন্য, বলে দেয় জীবনের যত দুঃখ, কষ্ট, হতাশা-বেদনা, ব্যর্থতা সবই তাদের জন্য যারা জ্ঞানহীন।

উপসংহারঃ

বাংলায় একটি প্রবাদ আছে ধনবানে কেনে বই, গুণবানে পড়ে। এই প্রবাদটি আংশিক সত্য। যে প্রকৃত গুণবান, সে অনেক সময় নিজেকে নিঃস্ব করে বই কেনে। বই কেনা যেমন নেশা, তেমন বই পড়াও নেশা। বর্তমানে ‘বই হােক নিত্যসঙ্গী’ এই বাণী সকলের হওয়া উচিত।

এই রচনাগুলি দেখতে পারেন>>>

  1. পিতা মাতার প্রতি কর্তব্য রচনা | পিতা মাতার প্রতি কর্তব্য
  2. আমাদের এখানে পড়ুন সময়ানুবর্তিতা রচনা ২০ পয়েন্ট | সময়ানুবর্তিতা রচনা
  3. সময়ের মূল্য রচনার ২০ পয়েন্ট | সময়ের মূল্য রচনা
  4. কমন পড়বেই আমাদের বিদ্যালয় রচনা ক্লাস ৬ | আমাদের বিদ্যালয় রচনা
  5. স্বদেশ প্রেম রচনা ২০ পয়েন্ট | স্বদেশ প্রেম রচনা
  6. শেখ রাসেল রচনা ২০০ শব্দ | আমার ভাবনায় শেখ রাসেল রচনা
বই পড়ার আনন্দ রচনা HSC

বই পড়ার আনন্দ রচনা HSC

ভূমিকাঃ

মানুষের জন্ম হয় এই মহাসৃষ্টিকে জীবনে যতটুকু সম্ভব জানার জন্য। এই জানারই অপর নাম জ্ঞান অর্জন, আর জ্ঞানেই জীবনের সার্থকতা। মানুষের জীবনের বাঁধাধরা সংক্ষিপ্ত পরিসরে জ্ঞান লাভ হয় অভিজ্ঞতা এবং তথ্য দ্বারা। সেই তথ্য ও অভিজ্ঞতাকে মানুষ যে সংগ্রহশালায় সযত্নে সংরক্ষণ করে রাখে তা হল গ্রন্থ বা বই।

এই গ্রন্থ বা বইয়ের মাধ্যমেই মানুষ জ্ঞানলাভের দিকে এগিয়ে যায়। যেহেতু জ্ঞানলাভের জীবনের সার্থকতা, তাই স্বাভাবিকভাবেই বই পড়ার মধ্যে এক সার্থক আনন্দ খুঁজে পাওয়া যায়। বই পড়ার মধ্যে লুকিয়ে থাকে এক অদ্ভুত অনুভূতি, যা মানুষের কল্পনাকে নিমেষের মধ্যে পৌঁছে দিতে পারে যেকোনো কাঙ্খিত পর্যায়ে। সশরীরে না হলেও, কল্পনার মেঘে ভর করে কাঙ্খিত পৃথিবীতে মুহূর্তের বিচরণ মানুষকে অসীম আনন্দ এনে দেয়। আর এখানেই বই পড়ার সার্থকতা।

আরও পড়ুনঃ  বাংলা রচনাঃ ছাত্রজীবন অথবা, ছাত্র জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য

বই পড়া কিঃ

বই পড়ার আনন্দ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনায় প্রবেশের পূর্বে বই পড়া বলতে আসলে ঠিক কি বুঝানো হয়, সে সম্পর্কে কিছু কথা বলা প্রয়োজন। বিশেষ করে বর্তমান যুগে বই পড়া জ্ঞান অর্জনের তুলনায় অনেক বেশি যান্ত্রিক এবং লক্ষ্য কেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। তবে বই পড়ার প্রকৃত রূপ এমন নয়।

শুধুমাত্র জ্ঞানার্জন ব্যতীত অন্য কোন নির্দিষ্ট কাঙ্খিত লক্ষ্যকে সামনে রেখে বই পড়লে মানুষের মধ্যে তথ্যের সমাহার ঘটে মাত্র, তবে প্রকৃত জ্ঞানের বিকাশ হয় না। এমন বই পড়ায় আনন্দ নেইই, বরং যা আছে তা হলো একঘেয়েমি। বই বলতে এখানে সব রকম বইয়ের কথা বলা হচ্ছে।

সকল প্রকারের বইই লেখকের কোন না কোন ধরণের চিন্তার অভিক্ষেপ। তবে সেই অভিক্ষেপকে অনুভব করতে হবে জ্ঞানের অনুভূতির উদ্দেশ্য নিয়ে, কোন বাহ্যিক লক্ষ্যপূরণের অভিপ্রায় নিয়ে নয়। তবেই তা একটি সার্থক বই পড়া হয়ে উঠবে, আর এই প্রকারের বই পড়ার মধ্যে লুকিয়ে থাকে অনাবিল আনন্দের সমুদ্র।

মানুষের বই পড়ার ইতিহাসঃ

পৃথিবীতে অন্যান্য প্রতিটি জিনিসের মতন বই পড়ারও ইতিহাস রয়েছে। মানুষের বই পড়ার ইতিহাসের সূচনা ঠিক কবে তা জানা যায় না। তবে অনুধাবন করা হয় সুপ্রাচীনকালে মানুষ যখন লিখতে ও পড়তে শেখে তার কিছু পর থেকেই মানুষের পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে।

সেই যুগে পড়ার রূপ আজকের বইয়ের মতন সুসংগত ছিলনা। মানুষ পড়তো গাছের পাতা, বড় পাথর, গাছের ছাল ইত্যাদির গায়ে লেখা লিপি। বিভিন্ন বস্তুর উপর লিখিত এই প্রকারের লিপির পরবর্তী সুসংগত রূপ ছিল পুঁথি। এইখান থেকেই সংগঠিতভাবে মানুষের বই পড়ার অভ্যাসের সূচনা।

তারপর থেকে সময়ের বিবর্তনে বই পড়ার অভ্যাসে নানা পরিবর্তন এসেছে। সর্বোপরি পঞ্চদশ শতকে জার্মানিতে গুটেনবার্গের মুদ্রণ যন্ত্র আবিষ্কারের পর থেকে বই পড়ার ইতিহাসে এবং অভ্যাসে যুগান্তকারী বদল ঘটে যায়। বই এই সময় থেকে সর্বসাধারণের জন্য সহজলভ্য হয়ে ওঠে। বই পড়ার অসীম আনন্দ সকলে উপভোগ করার সুযোগ পায়।

বই পড়ার উপকারিতাঃ

বই পড়ার উপকারিতা বলে শেষ করার মতন নয়। এটি পৃথিবীর সম্ভবত একমাত্র অভ্যাস যার কোন ক্ষতিকর দিক খুঁজে পাওয়া যায় না। বই পড়লে একদিকে যেমন মানুষের চিন্তা শক্তির বিকাশ ঘটে, অন্যদিকে তেমনি উন্নততর হয় মানুষের ভাষা জ্ঞান। বই পড়ার অভ্যাসের মাধ্যমে মানুষ সঠিক শব্দের সঠিক প্রয়োগ শিখতে পারে। অন্যদিকে বই পড়লে মানুষের মন বাহ্যিকভাবে স্থির হয়, তবে আত্মা হয়ে ওঠে চঞ্চল দুর্নিবার।

বই পড়ে জ্ঞানের খোঁজে আত্মা পাড়ি দেয় দিক থেকে দিগন্তে, প্রান্তর থেকে প্রান্তরে। এছাড়া বই পড়লে মানুষের লেখনী শক্তির শ্রীবৃদ্ধি ঘটে। তাছাড়া বই পড়লে মানুষের অন্তরে অসংখ্য বিশেষ চারিত্রিক গুণাবলীর বিকাশ ঘটে। সর্বোপরি বই পড়ে যে অনাবিল আনন্দ মানুষ লাভ করে, পৃথিবীর যেকোনো বিনোদনের আনন্দ তার কাছে তুচ্ছ হয়ে যায়।

বর্তমান যুগে বই পড়াঃ

মানব সভ্যতার ইতিহাসে বই পড়ার সূচনা একদিকে যেমন জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্য নিয়ে, অন্যদিকে তেমনি বিনোদন বা আনন্দলাভের উদ্দেশ্যে নিয়ে। বর্তমানকালের ভোগবাদী সভ্যতার যুগে মানুষের হাতের কাছে অসংখ্য সহজ বিকল্প উপস্থিত থাকায় সাধারণ জনমানুষের বই পড়ার প্রতি কিছুটা অনীহার মানসিকতা দেখা যাচ্ছে।

পরিসংখ্যান থেকে প্রমাণিত হয় গত ১০০ বছরে পৃথিবীর জনসংখ্যা যে হারে বেড়েছে, মানুষের মধ্যে বই পড়ার চাহিদা সেই হারে মোটেই বাড়েনি। সেই তুলনায় বহুগুণ এ বেড়েছে নানা সহজলভ্য বিনোদনের চাহিদা। বই পড়ার জন্য যে ন্যূনতম ধৈর্যের প্রয়োজন হয় বিনোদনের সহজলভ্যতার ফলে সেই ধৈর্য মানুষের মধ্যে গড়েই উঠতে পারে না। এছাড়াও বই পড়ার প্রতি মানুষের অনীহার অন্যতম কারণ হলো বর্তমান যুগের শিক্ষাব্যবস্থার যান্ত্রিকতা।

আজকের শিক্ষা ব্যবস্থা জ্ঞান অর্জনের তুলনায় কাঙ্খিত লক্ষ্যভিত্তিক পড়াশোনায় অধিক গুরুত্ব দেয়। ফলে বই পড়ার মধ্যে মানুষের আত্মার একনিষ্ঠতা থাকেনা। ফলে এই ধরনের বই পড়া আনন্দ লাভের উপায় না হয়ে, বাধ্যতামূলক একঘেয়েমির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আমি ও বই পড়াঃ

আমি ব্যক্তিগতভাবে বর্তমান যুগের গতানুগতিক বই পড়ার মানসিকতা সম্পন্ন মানুষদের থেকে কিছুটা আলাদা। তার কারণ ছোটবেলা থেকেই সহজলভ্য বিনোদনের তুলনায় আমি বইয়ের মধ্যে আশ্চর্য আনন্দের সমুদ্র খুঁজে পেয়েছি। পড়ার বই কিংবা গল্পের বই এর মধ্যে তফাৎ না করে শুধুমাত্র জ্ঞান অর্জনের আনন্দলাভের নিমিত্ত বই পড়তেই আমি বেশি ভালোবাসি।

আমি প্রধানত বাংলা এবং ইংরেজি ভাষায় বিভিন্ন লেখকদের বই পড়ে থাকি। প্রতিটি বই বিষয় ও চরিত্রগত দিক থেকে পৃথক হলেও আমার মধ্যে তারা একই প্রকার আনন্দ বয়ে আনে। আমি ইতিহাস, সাহিত্য, পদার্থবিজ্ঞান এবং মহাকাশ বিজ্ঞানের বই পড়তে বেশি ভালোবাসি। বাংলায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, যদুনাথ সরকার; ইংরেজিতে রাস্কিন বন্ড, আলবার্ট আইনস্টাইন, স্টিফেন হকিং প্রমূখ প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্বদের লেখা বইগুলি আমার অতি প্রিয়।

বই পড়ার নেশাঃ

যে মানুষ বই পড়ে, সময়ের বিবর্তনে বই পড়ার অভ্যাস তার কাছে এক নেশায় পরিণত হয়। বই পড়ার প্রাথমিক গুনই হল কোন বই পড়ার সময় সেই বইটি পাঠককে অন্য আরেকটি বই পড়তে প্ররোচিত করে। প্ররোচনার এই গোলকধাঁধায় আটকে গিয়ে পাঠক একটি বই শেষ করে অন্য আরেকটি শুরু করার চক্র থেকে বের হতে পারে না। যে ব্যক্তি নিয়মিত বই পড়ে, বই ছাড়া তার জীবন এক প্রকার অচল হয়ে যায়। জীবনে যতই ব্যস্ততা আসুক, বই হয়ে থাকে তার সর্বক্ষণের ছায়াসঙ্গী। বই পড়া সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র একটি নেশা যার কোনরূপ অপকারিতা তো নেইই বরং এই নেশা উপকারিতার সম্ভাবনায় ভরপুর। পৃথিবীতে যে সকল ব্যক্তিই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন তথা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন, তারা প্রায় সকলেই এই নেশায় আক্রান্ত। উদাহরণস্বরূপ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিল গেটস, শাহরুখ খান প্রমুখের কথা উল্লেখ করা যায়।

উপসংহারঃ

বই পড়ার মধ্যে নিছক জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্য নয় বরং লুকিয়ে থাকে নতুন কিছুকে জানার এক অদ্ভুত আনন্দ। এই আনন্দের টানে পাঠকরা বইপাগল হয়ে থাকেন। বর্তমান যুগে আধুনিক প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার প্রবণতা বেশ কিছুটা কমে গেলেও আশার কথা এই যে আজকের তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বইপত্রের ডিজিটালাইজেশনের ফলে নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা পুনরায় বই পড়ার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। এই প্রবণতা পুনরায় নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাসে সার্থকতা লাভ করলে, তা আদপে এক সুন্দর আনন্দময় পৃথিবী গড়ে তুলতেই সাহায্য করবে।

এই রচনাগুলি দেখতে পারেন>>>

  1. পিতা মাতার প্রতি কর্তব্য রচনা | পিতা মাতার প্রতি কর্তব্য
  2. আমাদের এখানে পড়ুন সময়ানুবর্তিতা রচনা ২০ পয়েন্ট | সময়ানুবর্তিতা রচনা
  3. সময়ের মূল্য রচনার ২০ পয়েন্ট | সময়ের মূল্য রচনা
  4. কমন পড়বেই আমাদের বিদ্যালয় রচনা ক্লাস ৬ | আমাদের বিদ্যালয় রচনা
  5. স্বদেশ প্রেম রচনা ২০ পয়েন্ট | স্বদেশ প্রেম রচনা
  6. শেখ রাসেল রচনা ২০০ শব্দ | আমার ভাবনায় শেখ রাসেল রচনা
বই পড়ার আনন্দ রচনা ২০ পয়েন্ট

বই পড়ার আনন্দ রচনা ২০ পয়েন্ট

ভূমিকাঃ

মানুষ সব সময় মানুষের সঙ্গ কামনা করে। একটি প্রাণ চায় আর একটি প্রাণের সাড়া, একটি ভাব চায় আরেকটি ভাবের সাথে বিধৃত হতে। সমষ্টি জীবনকে বাদ দিয়ে কোনো মানুষের ব্যক্তিজীবনের পরিপূর্ণ স্ফুরণ হতে পারে না। আর সে জন্যেই প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই মানুষকে আমরা দেখি যৌথ জীবনের পটভূমিকায়। পারস্পরিক সাহচর্য মানব সভ্যতাকে দিয়েছে একটি বিশিষ্ট রূপ। এই সাহচর্য মানুষ আরেকভাবে পেতে পারে। এই মাধ্যমটি হলো বই।

আরও পড়ুনঃ  অধ্যবসায় রচনা খুবই সহজ ভাষায়, সকল ক্লাসের জন্য বংলা রচনা

বইয়ের আবির্ভাবঃ

সভ্যতার বিকাশের এক পর্যায়ে মানুষ তার হৃদয়ের ভাবকে, অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানকে অন্য মানুষের, ভবিষ্যৎ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্যে গ্রন্থ রচনার আশ্রয় নিল। আর ছাপাখানার আবিষ্কার বইয়ের প্রচারের সম্ভাবনাকে দান করল অজস্রতা। বইয়ের মাধ্যমে অতীত-বর্তমান, দূর-দূরান্তর আর দেশ-কালের গণ্ডির দুস্তর ব্যবধান দূর হয়ে গেল। নিজের ঘরে বসেই মানুষ পেতে শুরু করলো তার আত্মার আত্মীয়কে। এ যেন বিশ্বমানবের সাহচর্য পাওয়া।

বইয়ের প্রয়োজনীয়তাঃ

বিখ্যাত ঔপন্যাসিক তলস্তোয় বলেছেন, জীবনে তিনটি বস্তুই বিশেষভাবে প্রয়োজন, তা হচ্ছে বই, বই এবং বই। সমস্ত প্রাণীজগতের সাথে মানুষের পার্থক্য এইখানে যে, মানুষ তার জ্ঞানকে, বোধকে অক্ষরের ভাষায় লিপিবদ্ধ করে বইয়ের মাধ্যমে যুগ-যুগান্তরের মানুষের জ্ঞান ও আনন্দলাভের জন্যে রেখে যেতে পারে। বিশ্বের মহামূল্য গ্রন্থগুলো মানুষের জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্য সাধনার নির্বাক সাক্ষী। এগুলোর মধ্য দিয়েই মানুষ লাভ করেছে তার আপন অন্তরতম সত্তার পরিচয়। বই নানাভাবে মানুষের প্রয়োজন মেটায়।

মানুষের কৌতূহল মেটায় বইঃ

বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীর পরতে পরতে লুকিয়ে আছে বিস্ময়। অজানা, অদেখা বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে চকিতে ধারণা দিতে পারে বই। বইয়ের মাধ্যমে মানুষ মুহূর্তে ছুটে যেতে পারে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। তাইতো কবি রবীন্দ্রনাথ বলেছেনঃ

বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি।
বিশাল বিশ্বের আয়োজন
মোর মন জুড়ে থাকে অতি ক্ষুদ্র তারি এককোণ,
সেই ক্ষোভে পড়ি গ্রন্থ ভ্রমণ বৃত্তান্ত আছে যাহে
অক্ষয় উৎসাহে

কবি রবীন্দ্রনাথ

নিঃসঙ্গতা ঘোচাতে বইঃ

নির্জন অরণ্যে একাকী মানুষের নিঃসঙ্গতা মুছে দিতে পারে বই। জনহীন দ্বীপে নির্বাসিত জনের চিত্তে নিঃসঙ্গতার বেদনা দূর হয়ে যেতে পারে যদি তার কাছে থাকে কিছু বই। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বিভূতিভূষণ, শেকসপিয়র, গ্যেটে, ওয়ার্ডসওয়ার্থ, শেলি, দস্তয়ভস্কি কিংবা গোর্কির লেখা বই যদি সাথে থাকে তবে মানুষের হৃদয় মনের অনেক অভাব ঘুচে যায়।

বই থেকে পাওয়া যায় অনাবিল আনন্দঃ

নানা ঘাত-প্রতিঘাতে মানুষ কখনও কখনও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, হতাশার চোরাবালিতে ডুবে যায়। এই চোরাবালি থেকে মানুষকে উদ্ধার করতে পারে কোনো ভালো বই। উৎকৃষ্ট বই মানুষকে দেয় অনাবিল আনন্দ। মানুষের উচ্চতর বৃত্তিগুলো চায় সত্য, জ্ঞান ও আনন্দের আলো।

জ্ঞান-সাধনা ও শিল্প-সাধনা মানুষকে প্রতিদিনের তুচ্ছতর সংসার থেকে তুলে নেয় এক উচ্চতর ডাবালোকে। প্রতিদিনের কর্মক্লান্ত দিনের ব্যস্ততা, হানাহানি ও সমস্যাক্লিষ্ট জীবনের কর্কশতার মধ্যে বই মনকে দেয় অনাবিল আনন্দ। সেই সাথে করে জ্ঞানের বিস্তার। বার্ট্রান্ড রাসেলের মতে, সংসারের জ্বালা-যন্ত্রণা এড়াবার প্রধান উপায় হচ্ছে মনের ভেতর আপন ভুবন সৃষ্টি করা এবং বিপদকালে তার ভেতর ডুব দেওয়া।

যে যত বেশি ভুবন তৈরি করতে পারে, যন্ত্রণা এড়াবার ক্ষমতা তার তত বেশি হয়। দুঃখ-বেদনার মুহূর্তে, মানসিক অশান্তিতে ও দুর্বলতার সময়ে বই মানুষের মনে শান্তি ও প্রেরণা জোগায়, দেয় নব নব প্রেরণা, উৎসাহ ও মানসিক প্রশান্তি।

সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটায় বইঃ

অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্যে সেতু রচনা করে যুগোত্তীর্ণ গ্রন্থরাজি। গ্রন্থের সাহচর্যেই মানুষ অগ্রসর হয়ে চলে সভ্যতা ও সংস্কৃতির ক্রম-অগ্রযাত্রার পথে। আমাদের বৃহত্তর জীবনের যাত্রাপথের সবচেয়ে বড় সঙ্গী বরেণ্য মনীষীদের লেখা মূল্যবান বই।


মানুষের হৃদয়ানন্দে সৃষ্টি হয়েছে শিল্পকলা ও সাহিত্য, আর প্রয়োজনে সৃষ্টি হয়েছে জ্ঞান-বিজ্ঞান। আর পরাজ্ঞান ও জগৎ রহস্যের উৎস সন্ধানে আমরা পেয়েছি প্রাচী ও প্রতীচীর দর্শনকে। কিন্তু আজকের দিনে আমরা কোথায় পাব হোমার, ভার্জিল, দান্তে, গ্যেটে, শেকসপিয়র, দস্তয়ভস্কি আর রবীন্দ্রনাথের সাক্ষাৎ? কোথায় পাব মাদাম কুরি, মার্কনি, এডিসন, জগদীশ বসুকে?

আজকের এই বিংশ শতাব্দীতে শংকর, প্লাটো, এরিস্টটল আর কার্ল মার্কসূকে প্রত্যক্ষভাবে দেখার সুযোগ পাওয়া অসম্ভব। কিন্তু যদি থাকে একটা গ্রন্থাগার, তার বইয়ের মধ্যে পাওয়া যাবে এদের নিকট-সান্নিধ্য। অনুভব করা যাবে এদের নিঃশব্দ উপস্থিতি। কেবল বইয়ের মাধ্যমেই এই সব মনীষীর চিন্তাধারার সাথে পরিচিত হয়ে জ্ঞান, আনন্দ ও পরিতৃপ্তি পাওয়া যেতে পারে।

মানুষকে উদার করে বইঃ

মানব হৃদয়ের বিচিত্র অভিব্যক্তি ও ব্যঞ্জনা উপলব্ধি করা যায় বই পড়ার মাধ্যমে। ত্যাগের কাহিনি, বীরত্বের মহিমা, সত্যের জন্যে আত্মদান, নানা দেশের ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক বৃত্তান্ত, সামাজিক আচার-আচরণ, বিজ্ঞানের বিস্ময়কর আবিষ্কার, দুঃসাহসিক অভিযান ও ভ্রমণ বৃত্তান্ত মানুষকে উদার হতে শেখায়। মনের দিগন্ত হয় উন্মোচিত ও প্রসারিত। ভালো বই কুসংস্কারাচ্ছন্ন মনকে শুদ্ধ করে, মানুষ খুঁজে পায় যথার্থ মানুষ হয়ে ওঠার ঠিকানা। মনের জানালা খুলে যায়, উঁকি দেয় মুক্ত চিন্তা। গ্রন্থরাজির মধ্যে এসে মেশে বিভিন্ন জাতির বিচিত্র জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্যের বহুমুখী স্রোতধারা। আর সেই ধারায় অবগাহন করেই অর্জিত যে মানুষের চিত্রকর্ষ। মনীষী কার্লাইল তাই তার ‘On the choice of books‘ প্রবন্ধের এক জায়গায় বলেছেন, “The true university of our days is the collection of books.

উপসংহারঃ

কবি ওমর খৈয়াম বেহেশতের আসবাবপত্রের ফিরিস্তি বানাতে গিয়ে কাব্যগ্রন্থের কথা ভোলেননি-রুটি, মদ হয়তো নিঃশেষ হয়ে যাবে, সাকি ক্লান্ত হয়ে পড়বে, কিন্তু অমর কাব্য তার সাথে থাকবে অনন্ত যৌবনা সঙ্গিনীর মতো। সুতরাং বই মানুষের আনন্দের সঙ্গী। কত মানুষের পথ চলায় পদচিহ্ন পড়েছে এই পৃথিবীর বুকে–তার ছন্দকে ধরে রেখেছে বই। কত ভাষায় মানুষ কথা বলেছে—তার সঙ্গীত ধ্বনি স্তব্ধ মুখরতায় লিপিবন্ধ বইয়ের পাতায়। মানুষ যখন নিঃসঙ্গ একাকী তখন বই তার সেই একাকিত্বকে দূর করে। কে না ভালোবাসে বইকে? যে না ভালোবাসে ভাগ্য ভার বিড়ম্বিত। মহৎ আনন্দ থেকে সে বঞ্চিত। তাইতো আজকের দিনের বাণী—‘বই হোক নিত্য সঙ্গী।

এই রচনাগুলি দেখতে পারেন>>>

  1. পিতা মাতার প্রতি কর্তব্য রচনা | পিতা মাতার প্রতি কর্তব্য
  2. আমাদের এখানে পড়ুন সময়ানুবর্তিতা রচনা ২০ পয়েন্ট | সময়ানুবর্তিতা রচনা
  3. সময়ের মূল্য রচনার ২০ পয়েন্ট | সময়ের মূল্য রচনা
  4. কমন পড়বেই আমাদের বিদ্যালয় রচনা ক্লাস ৬ | আমাদের বিদ্যালয় রচনা
  5. স্বদেশ প্রেম রচনা ২০ পয়েন্ট | স্বদেশ প্রেম রচনা
  6. শেখ রাসেল রচনা ২০০ শব্দ | আমার ভাবনায় শেখ রাসেল রচনা

শেষ কথা

বন্ধুরা আজকের আলোচনা ‘বই পড়ার আনন্দ রচনা‘ শিরোনামের উপরোক্ত প্রবন্ধে আমরা বিষয়টির সাথে সম্পর্কিত প্রায় সব দিক নিয়েই যথাযথ আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। তবে বিভিন্ন পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে এই উপস্থাপনায় নির্দিষ্ট শব্দ সীমা বজায় রাখার চেষ্টাও করা হয়েছে। আশা করি আপনি আমাদের প্রচেষ্টা পছন্দ করেছেন এবং আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী আপনাকে সঠিকভাবে সাহায্য করতে পারি।

কমেন্টের মাধ্যমে বিস্তারিতভাবে উপরের প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত আমাদের জানান। আপনার মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আপনার মতামতের ভিত্তিতে আমরা আমাদের লেখার উন্নতি করার চেষ্টা করে থাকি। এছাড়াও আপনি যদি এই ধরনের অন্য কোন রচনা পড়তে চান তাহলে আমাদের জানান। আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনার কাছে রচনাটি আনার চেষ্টা করব। ধন্যবাদ সবাইকে, আবার দেখা হবে পরবর্তী পোষ্টে। ততক্ষন আপনারা আমাদের অন্যান্য পোষ্ট পড়তে থাকুন।

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these

Share via
Copy link