একটি গ্রীষ্মের দুপুর প্রবন্ধ রচনা | গ্রীষ্মের দুপুর রচনা

একটি গ্রীষ্মের দুপুর প্রবন্ধ রচনা গ্রীষ্মের দুপুর রচনা

বাংলার আনন্দের মাস বসন্ত পেরিয়ে চৈত্র মাসের কাঠফাটা রোদে গ্রীষ্ম কালের পদধ্বানি শোনা যায়। গ্রীষ্মকাল নামটি নিলেই চারপাশে যে পরিবেশের কথা মনে আসে তা হলো গ্রীষ্মের কাঠফাটা নির্জন দুপুর। আমরা আজ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে যাচ্ছি একটি গ্রীষ্মের দুপুর প্রবন্ধ রচনা। এই রচনাটি Class 6, Class 7, Class 8, Class 9, Class 10 ইত্যাদি শ্রেনীর পরিক্ষায় এসে থাকে। এমনকি তা আপনাদের সিলেবাসেও থাকে। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় গ্রীষ্মের দুপুর রচনা লিখে পেয়ে যেতে পারেন আকর্ষনীয় নাম্বার / পুরষ্কার।

একটি গ্রীষ্মের দুপুর প্রবন্ধ রচনা

আজ আমি একটি উক্ত রচনাটি নিচে উল্লেখ করেছি। আপনাদের মনে ধরলে আপনারা নিশ্চিন্তে পড়তে পারেন। কারন আমি লিখতে ভালোবাসি। তো কদিন আগেই গ্রীষ্মকাল গেলো মনে আসলো এই রচনা লিখতে তাই লিখেই ফেললাম।

গ্রীষ্মের দুপুর প্রবন্ধ – যা ইউটিউবের এই ভিডিও থেকেউ আইডিয়া নিতে পারেন

ভূমিকা:

গ্রীষ্মের দুপুর অর্থই হচ্ছে সূর্যের প্রচণ্ড তাপদাহ। খাঁ খাঁ রোদের তাপ, গরম বাতাসে আগুনের হলকা। সবুজ পাতা নেতিয়ে পড়ার দৃশ্য। বটের ছায়ায় আশ্রয় নেওয়া রাখাল ছেলে। চারদিকে নিঝুম, নিস্তব্ধ, ঝিমধরা প্রকৃতি। ঘামে দরদর তৃষ্ণার্ত পথিক। তাইতো কবির ভাষায় বলেছেন:

ঘাম ঝরে দরদর গ্রীষ্মের দুপুরে
খাল বিল চৌচির জল নেই পুকুরে।
মাঠে ঘাটে লোক নেই খাঁ খাঁ রোদ্দুর
পিপাসায় পথিকের ছাতি কাঁপে দুদ্দুর।

কবির ভাষাতে লেখা..

গ্রীষ্মের দুপুরের অত্যন্ত পরিচিত দৃশ্য এটি। রুক্ষ, শুষ্ক বৈচিত্র্যহীন, নিপাট দিনের স্থিরচিত্র। গ্রামের কোনো পুকুরঘাটে, কুয়োতলায়, নদীর তীরে, বিস্তীর্ণ চরাচরে রোদে প্রকৃতির দিকে তাকালে গ্রীষ্মের দুপুরের রূপ স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

আরও পড়ুনঃ  পড়ুন বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা | বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা ২০ পয়েন্ট

গ্রীষ্মের দুপুরে প্রকৃতির অবস্থা:

চৈত্রের কাঠফাটা রোদে গ্রীষ্মের পদধ্বনি শোনা যায়। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ এলে সেই তীব্রতা আরো বৃদ্ধি পায়। সূর্যের প্রখর তাপে সমস্ত প্রকৃতি যেন নির্জীব হয়ে ওঠে। সবজির নধর পাতা খরতাপে নুয়ে পড়ে। মাঝে মাঝে ঘূর্ণি হাওয়ায় ধুলো ওড়ে, ঝরে পড়ে গাছের হলুদ পাতা। দূর আকাশে পাখনা মেলে চিল যেন বৃষ্টিকে আহ্বান জানায়। পাতার আড়ালে ঘুঘুপাখির উদাস-করা ডাক শোনা যায়। প্রকৃতি যেন পরিশ্রান্ত হয়ে নিঝুম মুহূর্তগুলো কাটাতে থাকে। পুকুরঘাটে তৃষ্ণার্ত কাক, গাছের ছায়ায় পশু-পাখির নিঃশব্দ অবস্থান গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরের পরিচিত দৃশ্য।

গ্রীষ্মের দুপুরে জনজীবন:

গ্রীষ্মের দুপুর মানবজীবনেও নিয়ে আসে নিশ্চলতার আমেজ। কর্মব্যস্ত জীবনে আসে অবসাদ। মাঠে-ঘাটে জীবনের সাড়া যায় কমে। প্রচণ্ড রোদের মধ্যে যারা কাজ করে, তাদের মাথায় থাকে মাথাল। কর্মমুখর দিনে গ্রীষ্মের দুপুরে সময় কিছুটা যেন ধীরগতিতে অগ্রসর হয়। রাখাল ছেলে গাছের ছায়ায় আশ্রয় নেয়। পথিকজন পথের ক্লান্তি ঘোচাতে বিশ্রামের প্রহর গোনে। নিঃশব্দ প্রকৃতি আর নীরব মানুষের কাছে গ্রীষ্মের দুপুর যেন স্থির।

আরও পড়ুনঃ  সাহিত্যের সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রবন্ধ রচনা শিখুন খুব সহজে

বৃষ্টিবিহীন বৈশাখী দিন, কোথাও যেন স্বস্তি নেই,শান্তি নেই। মাঠ-ঘাট চৌচির, নদী-জলাশয় জলশূন্য। মাঠে মাঠে ধুলোওড়া বাতাস। আগুনঢালা সূর্য, ঘর্মাক্ত দেহ, ক্লান্তি আর অবসাদে গ্রীষ্মের দুপুর যেন অসহনীয় হয়ে ওঠে। মুহূর্তের জন্যে প্রাণ সিক্ত হতে চায়, একটু ঠাণ্ডা বাতাসের স্পর্শ পেতে চায় মন। গ্রীষ্মের দুপুর গ্রামজীবনে নিয়ে আসে বিশ্রামের সুযোগ। কেউ কেউ নির্জন দুপুরে দিবানিদ্রায় ঢলে পড়ে। গৃহিণীরা সংসারের কাজের একটু অবসরে বিশ্রামের সুযোগ খোঁজে। তালপাখার বাতাসে একটু প্রাণ জুড়ায়। শীতল পাটিতে ক্লান্ত শরীর এলিয়ে দিতে ইচ্ছে হয়।

আমবাগানে দুষ্টু ছেলেদের আনাগোনা হয়তো বেড়ে যায়। গ্রীষ্মের দুপুরে শহরের দৃশ্য অবশ্য অন্যরকম। প্রচণ্ড রোদে রাস্তার পিচ গলতে থাকে। রাস্তায় যানবাহনের চলাচল কমে আসে। গলির ঝাপখোলা দোকানপাটে ঝিমধরা ভাব। ঘরে বাইরে কর্মের জগৎ হঠাৎ যেন ঝিমিয়ে আসে। অফিস পাড়ার কর্মব্যস্ততাও এ সময় একটু শিথিল হয়ে আসে। ক্লান্তি ও শ্রান্তি ঘিরে ধরে কর্মচঞ্চল জীবনপ্রবাহকে। গ্রীষ্মের শান্ত দুপুর মনে করিয়ে দেয় ধরিত্রীর সঙ্গে মানুষের জন্ম-জন্মান্তরের সম্পর্কের কথা। অন্য এক উপলব্ধির জগতে নিয়ে যায় মানুষকে।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশের ষড়ঋতু রচনা PDF | রচনা বাংলাদেশের ঋতু বৈচিত্র্য

উপসংহার:

গ্রীষ্মের দুপুরের প্রখর তাপ প্রকৃতি ও জনজীবনের ওপর গভীর প্রভাব বিস্তার করে। এই প্রভাব কেবল বাহ্যিক নয়, অভ্যন্তরীণও। রহস্যময় প্রকৃতির এ যেন এক গোপন আয়োজন। গ্রীষ্মের তপ্ত আকাশে এক সময় দেখা যায় সজল-কাজল মেঘ। নেমে আসে স্বস্তির বৃষ্টি। গ্রীষ্মের দুপুরের ঝিমধরা প্রকৃতি আর নিশ্চল স্থবির জনজীবন, শস্যহীন মাঠ, নদীর ঘাটে বাঁধা নৌকা, রোদ ঝলসানো তপ্ত বাতাসের এই পরিচিত দৃশ্যের কথা এ সময় ভুলে যায় মানুষ।

রচনাটি সম্মন্ধে আপনাদের শেষ মতামত জানান

গ্রীষ্ণের দুপুর বা গ্রীষ্মকাল রচনা পড়ে কি মতামত আমাদের তা জানান নিচের কমেন্টবক্সে। এতে করে আমাদের ভূলভ্রান্তি হলে আমরা তা ঠিক করে দিব। আপনি এছাড়া কোন কোন লেখা চাচ্ছেন তাও আমাদের বলতে পারেন। আপনিও চাইলে আমাদের এখানে লেখালেখি করতে পারেন। দেয়া হবে আপনার নামে প্রফাইল। এই রচনাটি আরও একটি সংস্করন পড়ুন এখানে

অনলাইনে যারা আয় করতে আগ্রহী তারা এটি দেখতে পারেন – লিংক

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these

Share via
Copy link