বাল্যবিবাহ রচনা | Child Marriage Essay in Bengali

বাল্যবিবাহ রচনা Child Marriage Essay in Bengali
Contents
বাল্যবিবাহ রচনাভূমিকা: বাল্যবিবাহ: ইতিহাস: বাল্যবিবাহের কারণ: যৌতুক প্রথা: দারিদ্র: সামাজিক নিরাপত্তা ও ভয়: করোনা মহামারি: বাল্যবিবাহের কুফল: বাল্যবিবাহ রোধে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ: বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন: বাল্যবিবাহ রোধে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ: বাল্যবিবাহে শীর্ষ ১০ দেশ: উপসংহার: বাল্যবিবাহ প্রবন্ধ রচনাভূমিকা:বাল্য বিবাহের ইতিহাস:বাল্য বিবাহের অভিশাপ:বাল্য বিবাহ সমস্যা ও সমাধান:রাজস্থানে বাল্য বিবাহ:বাল্যবিবাহের পরিণতি:বাল্যবিবাহের তথ্য ও পরিসংখ্যান:বাল্যবিবাহ বন্ধে আইনি প্রচেষ্টা:শারদা আইন:২০০৬ সালের বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন অনুসারে:ফ্যাক্ট:উপসংহার:শেষ কথা,FAQs: বাল্যবিবাহ রচনা – Child Marriage Essay in Bengaliবাল্যবিবাহ বলতে কী বোঝায়?বাল্যবিবাহ রোধ করেন কে?বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কিভাবে করা যায়? বাল্যবিবাহের কারণ?

আজকের এই ব্লগটি মূলত বাল্যবিবাহ রচনা দিয়ে সাজানো হয়েছে। এখানে বাংলাদেশ ও ভারত ২ দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বাল্যবিবাহ রচনা টি লেখা হয়েছে। Child Marriage Essay in Bengali এই পোষ্ট হতে আপনি রচনাটি নোট করে পড়ে পরিক্ষায় লিখলে আশাকরা যায় যে আপনি রচনায় ভালো একটি রেজাল্ট আনতে পারবেন। তাই দেরি না করে নিচ থেকে রচনাটি পড়ে নিন।

বাল্যবিবাহ রচনা

বাল্যবিবাহের নেতিবাচক দিকগুলো কী এবং তার প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী আশা করি তা আপনাদের বোধগম্য হয়েছে। আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে প্রখ্যাত মনীষী ও দার্শনিক নেপোলিয়ান বোনাপার্টের সেই অমর বাণী, যার মর্মার্থ ছিল এ রকম একটি সুস্থ জাতি পেতে প্রয়োজন একজন শিক্ষিত মা। আজ এই একুশ শতকে এসেও বাংলাদেশের ৬৬% মেয়ে এখনো শিক্ষা থেকে বঞ্চিত, যার প্রধান কারণ বাল্যবিবাহ

বাল্যবিবাহ রচনা Child Marriage Essay in Bengali

অন্যান্য রচনা পড়ুন আমাদের ওয়েবসাইটে

ভূমিকা:

বিশ্বের যেসব দেশে বাল্যবিবাহের হার উচ্চ; বাংলাদেশ তাদের অন্যতম। বাল্যবিবাহের পেছনে বেশ কিছু সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক বিষয় এবং ঐতিহ্য কাজ করে। বাংলাদেশে যেসব কারণ বাল্যবিবাহের ঝুঁকি বাড়ায় তার মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্য, মেয়েদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে ভয় এবং সামাজিক রীতিনীতি ও বিশ্বাসের জটিল সংকটসাম্প্রতিককালে কোভিড-১৯ এর কারণে বাল্যবিবাহ মহামারির রূপ ধারণ করেছে

বাল্যবিবাহ:

বাল্যবিবাহ’ বলতে এমন বিবাহ বোঝায় যার কোনো এক পক্ষ বা উভয় পক্ষ অপ্রাপ্ত বয়স্ক। ‘অপ্রাপ্ত বয়স্ক’ অর্থ বিবাহের ক্ষেত্রে ২১ বছর পূর্ণ হয়নি এমন কোনো পুরুষ এবং ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি এমন কোনো নারী। বাল্যবিবাহে মেয়ে এবং ছেলে উভয়ের ওপরই প্রভাব পড়ে। তবে মেয়েরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিশু বয়সে বিয়ে করতে বাধ্য হওয়া একটি মেয়ে তাৎক্ষণিক এবং জীবনভর এর পরিণাম ভােগ করে। তার স্কুল জীবন শেষ করার পূর্বেই স্বামীর দ্বারা নির্যাতিত এবং গর্ভধারণের সময় জটিলতায় ভােগার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বাল্যবিবাহের নেতিবাচক সামাজিক পরিণাম এবং এর ফলে কয়েক পুরুষ ধরে দারিদ্র্যের চক্রে নিপতিত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।

ইতিহাস:

ঐতিহাসিকভাবে, বিশ্বব্যাপী বাল্যবিবাহ একটি প্রচলিত প্রথা। প্রাচীন গ্রিসে মেয়েদের কম বয়সে বিয়ে এবং মাতৃত্বে উৎসাহিত করা হতাে। এমনকি ছেলেদেরও কৈশােরেই বিয়ের জন্য উৎসাহ দেওয়া হতাে। বাল্যবিবাহ ও কৈশােরে গর্ভধারণ খুবই সাধারণ ঘটনা ছিল। প্রাচীন রােমে মেয়েদের বিয়ের বয়স ছিল ১২ বছর এবং ছেলেদের ১৪ বছর। মধ্যযুগে ব্রিটিশ আইন অনুসারে ১৬ বছরের পূর্বে বিয়ে সর্বজনস্বীকৃত ছিল। প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় সমাজে মেয়েদের সাধারণত বয়ঃসন্ধির আগেই বিয়ে দেওয়া হতাে। শিল্প বিপ্লবের আগে ভারত, চীন এবং পূর্ব ইউরােপসহ বিশ্বের অনেক অংশে মেয়েদের বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোর পর পরই বিয়ে করার প্রবণতা ছিল, যে সমাজে জনসংখ্যার অধিকাংশই ক্ষুদ্র কৃষি সম্প্রদায়ে বাস করত। সমাজে পুরুষদের দেরিতে বিয়ে করার প্রবণতা থাকলেও মেয়েদের কিশােরী বয়সেই বিয়ে দেওয়া হতাে।

বাল্যবিবাহের কারণ:

UNFPA’র তথ্য মােতাবেক, যে সকল কারণ বাল্যবিবাহের জন্য দায়ী তার মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্য, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, লিঙ্গ বৈষম্য, প্রচলিত প্রথা বা চর্চা, নিরক্ষরতা, মেয়েদের উপার্জনে অক্ষম ভাবা এবং নিরাপত্তাহীনতা, বিশেষত যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ বা মহামারির সময়।

সাবলম্বি হবার পথ??Freelancing: ফ্রিল্যান্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গাইডলাইন

যৌতুক প্রথা:

বিয়ের সময় যৌতুক দেওয়ার প্রথা প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে, যা এখনাে বিশ্বের কিছু কিছু জায়গায় প্রচলিত। এ প্রথায় মেয়ের বিয়েতে অভিভাবক সম্পত্তি দান করে যা বেশিরভাগ পরিবারের কাছে অর্থনৈতিক হুমকিস্বরূপ। এ কারণে মেয়ের পরিবার কিছু নগদ অর্থ বা জমিজমা জোগাড় করার সাথে সাথেই মেয়ের বয়স বিবেচনা না করেই বিয়ে দিতে তৎপর হয়। আবার কিছু দেশে বর কনের পরিবারকে বিয়েতে রাজি করানাের জন্য পণের টাকা দিয়ে থাকে। কনের বয়স যত কম হয়, তার ওপর নির্ধারিত পণের মূল্য তত বেশি হয়। এই রীতির কারণে মেয়ের পরিবার মেয়েকে তাড়াতাড়ি এবং সর্বোচ্চ পণদাতার কাছেই বিয়ে দিতে উদ্যত হয়।

দারিদ্র:

অনেক দরিদ্র পরিবারের কাছে মেয়ে আর্থিকভাবে বােঝাস্বরূপ, যার কারণে কম বয়সে বিয়ে দেওয়া হয় যাতে পরিবার এবং মেয়ে উভয়েই লাভবান হতে পারে। দরিদ্র পরিবার মেয়েদের ভরণ-পােষণের ভার বহন করতে না পেরে বিয়েকেই তাদের আর্থিক সুরক্ষার একমাত্র উপায় বলে মনে করে।


সামাজিক নিরাপত্তা ও ভয়:

বাল্যবিবাহের অন্যতম কারণ নিরাপত্তাহীনতা। অল্প বয়সে মেয়ে কোনাে নিষিদ্ধ সম্পর্কে জড়াতে পারে বা যৌন হয়রানির শিকার হতে পারে যা পরিবারের জন্য লজ্জাজনক। এতে অনেক অভিভাবকের ধারণা বিয়ে মানে মেয়ের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। তাই তারা যেকোনাে ধরনের ঝামেলা এড়াতে মেয়েদের অল্প বয়সেই বিয়ে দেন।

করোনা মহামারি:

UNICEF’র হিসাব মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলােতে সারাবিশ্বে উল্লেখযােগ্যহারে বাল্যবিবাহ বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে বাল্যবিবাহে বিশ্বের শীর্ষ দশ দেশের মধ্যে একটি বাংলাদেশ। বাল্যবিবাহের পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে কোভিড-১৯। করােনা মহামারির কারণে স্কুল বন্ধ থাকা, অর্থনৈতিক চাপ, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা এবং বাবা-মায়ের মৃত্যুজনিত ঘটনা সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে থাকা মেয়েদের বাল্যবিবাহের দিকে ঠেলে দেয়।

আরও পড়ুনঃ  ডিজিটাল বাংলাদেশ রচনা ২০২৩ | বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও ডিজিটাল বাংলাদেশ রচনা

বাল্যবিবাহের কুফল:

বাল্যবিবাহ মেয়েদের স্বাস্থ্য ও জীবনের জন্য হুমকিস্বরূ। অল্প বয়সে বেশিরভাগ মাতৃমৃত্যুর প্রধান কারণ বাল্যবিবাহ। ১৫-১৯ বছর বয়সি গর্ভবতী নারীদের মৃত্যুর সম্ভাবনা ২০ বছর বয়সি গর্ভবতী নারীদের তুলনায় দ্বিগুণ। আর ১৫ বছরের কম বয়সি গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর সম্ভাবনা ৫-৭ গুণ বেশি। কৈশােরকালে গর্ভধারণের ফলে মেয়েরা অপুষ্টিতে ভােগে এবং বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়। বাল্যবিবাহ শুধু মায়ের স্বাস্থ্যই না বরং শিশুর স্বাস্থ্যের জন্যও হুমকিস্বরূপ। ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের অপরিণত সন্তান জন্মদানের সম্ভাবনা ৩৫-৫৫%। তাছাড়াও যখন মায়ের বয়স ১৮ বছরের নিচে তখন শিশুমৃত্যুর হার ৬০%। যেসব নারী কম বয়সে শিশুর জন্ম দেয় ঐসব শিশুদের রােগ প্রতিরােধ ক্ষমতা কম হয় ও শিশু অপুষ্টিতে ভােগে। বাল্যবিবাহের প্রাদুর্ভাবের কারণে জনসংখ্যার হার বৃদ্ধি পায়। এছাড়া বাল্যবিবাহের কারণে নারীর প্রতি সহিংসতা, নারীশিক্ষার হার হ্রাস, স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার বৃদ্ধি, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষমতা ও সুযােগ কমে যাওয়াসহ নানা রকম নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

বাল্যবিবাহ রোধে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ:

দেশের প্রায় ৫১ শতাংশ কন্যাসন্তান বাল্যবিবাহের শিকার। বাল্যবিবাহ প্রতিরােধে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়া বাল্যবিবাহমুক্ত রাষ্ট্র গড়তে বেসরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা ও সামাজিক সংগঠন জনসাধারণ বিশেষ করে প্রান্তিক জনগােষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে দেশের মানুষের মাঝে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে অনেকটা সচেতনতা গড়ে উঠেছে। ইতােমধ্যে সরকার দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাকে বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘােষণা করেছে। তারপরও বাল্যবিবাহের পরিমাণ আশাতীত হ্রাস করা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি পরিবার বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখে। কিন্তু এ জ্ঞানের বহিঃপ্রকাশ ঘটায় বা জ্ঞানটি সম্পর্কে মূল্যায়ন করে এমন পরিবারের সংখ্যা এখনাে আশাপ্রদ নয়। সরকারিভাবে বাল্যবিবাহ বন্ধে অভিভাবকদের আহবান এবং বাল্যবিবাহ নিরােধ আইন প্রণয়নসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন:

ভারতীয় উপমহাদেশে ১৯২৯ সালে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক প্রণীত Child Marriage Restraint Act বাংলাদেশেও কার্যকর ছিল, যাতে বলা হয় কোনাে নারী ১৮ বছরের আগে এবং কোনাে পুরুষ ২১ বছরের আগে যদি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, তবে তা শাস্তিযােগ্য অপরাধ। এই শাস্তির সময়কাল এবং অর্থদণ্ড বর্তমান সময়ের সাপেক্ষে উল্লেখযােগ্য মাত্রায় কম ছিল। ফলে আইনটি এক অর্থে অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। তাই বাংলাদেশ সরকার ১৯২৯ সালের আইনটি রহিতকরণ করে ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ জাতীয় সংসদে ‘বাল্যবিবাহ নিরােধ আইন, ২০১৭’ পাস করে।

এ আইনের উল্লেখযােগ্য দণ্ড হলাে-

  • প্রাপ্ত বয়স্ক কোনাে নারী বা পুরুষ বাল্যবিবাহ করলে সেজন্য ২ বছরের কারাদণ্ড বা ১ লক্ষ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে অনধিক তিন মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
  • অপ্রাপ্ত বয়স্ক কোনাে নারী বা পুরুষ বাল্যবিবাহ করলে তিনি অনধিক ১ মাসের কারাদণ্ড বা ৫০,০০০ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

পিতামাতা বা অভিভাবক যদি বাল্যবিবাহ সম্পন্ন বা অনুমতি প্রদান করেন, তাহলে ২ বছর ও অন্যূন ৬ মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করতে হবে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে অনধিক তিন মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

বাল্যবিবাহ রোধে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ:

জাতিসংঘের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সনদে বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৬২ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বিয়ের ক্ষেত্রে সম্মতি, বিয়ের ন্যূনতম বয়স ও বিয়ে রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত সনদ প্রণয়ন করে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ কর্তৃক এই সনদ অনুমােদন ও গৃহীত হয়। জাতিসংঘের নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলােপ সনদ বা CEDAW সনদের ১৬-এর ২ নং ধারায় বলা হয়েছেঃ শিশুকালে বাগদান ও শিশু বিবাহের কোনাে আইনগত কার্যকারিতা থাকবে না এবং বিবাহের একটি সর্বনিম্ন বয়স নির্ধারণ ও সরকারি রেজিস্ট্রিতে বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার জন্য প্রতিটি রাষ্ট্রকে আইন প্রণয়নসহ প্রয়ােজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বাল্যবিবাহে শীর্ষ ১০ দেশ:

২০২০ সালের অক্টোবরে UNICEF প্রকাশিত Ending Child Marriage: A Profile of Progress in Bangladesh শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী বাল্যবিবাহে শীর্ষ ১০ দেশ- ১. নাইজার, ২. মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, ৩. শাদ, ৪. মালি, ৫. মোজাম্বিক, ৬. বারকিনা ফাসো, ৭. দক্ষিণ সুদান, ৮. বাংলাদেশ, ৯. গিনি, ১০. সোমালিয়া

উপসংহার:

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার WHO পরামর্শ অনুযায়ী, বাল্যবিবাহ রােধে প্রধান উপায় হলাে নারীদের শিক্ষা অর্জন, বিবাহের ন্যূনতম বয়স সংক্রান্ত আইন কার্যকর এবং অভিভাবকদের বাল্যবিবাহের ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত করা। বাল্যবিবাহ রােধে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে নারীর ক্ষমতায়ন, বাল্যবিবাহের সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি সম্পর্কে অভিভাবকদের অবহিত করা, সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানাে, নারী শিক্ষা সমর্থন এবং নারীদের ও তাদের পরিবারকে অর্থনৈতিক সাহায্য করা।

অন্যান্য রচনাঃ

বাল্যবিবাহ প্রবন্ধ রচনা

বাল্যবিবাহ প্রবন্ধ রচনা

ভূমিকা:

বাল্যবিবাহ, প্রধানত ভারতের গ্রামীণ এলাকায় প্রচলিত, এমন একটি সামাজিক কুফল যা দুটি অল্পবয়সী ছেলে ও মেয়ের সোনালী ভবিষ্যৎ নষ্ট করে। একটি মানসিকভাবে অপরিণত ছেলে এবং একটি মেয়ে শিশু বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তাদের অপরিপক্কতায় স্বামী, পিতা ও মাতা স্ত্রী হিসাবে তাদের দায়িত্ব পালন করা উভয়ের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়ে। অল্প বয়সে মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন হলে সে বাল্যবধূ হয়। সে বিভিন্ন রোগ ও মানসিক চাপের শিকার হয়। অল্প বয়সে ছেলের বিয়ে হলে সে অল্প বয়সেই আর্থিক ও পারিবারিক দায়িত্বে চাপা পড়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ  দৈনন্দিন জীবনে কম্পিউটার রচনা | আধুনিক জীবনে কম্পিউটার রচনা

শিশুরা তাদের শৈশব হারায়, অনেক মারাত্মক রোগ সহজেই তাদের শিকারে পরিণত করে। মেয়ে শিশু ও তার সন্তানদের মধ্যে অপুষ্টি, কম ওজন এবং অন্যান্য ধরনের রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এক সময়, ভারতীয় সমাজে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল ব্যাপক, তাদের খারাপ প্রভাবের পরিপ্রেক্ষিতে, ভারতীয় সংবিধান বিবাহযোগ্য ছেলেদের জন্য ২১ বছর এবং মেয়েদের জন্য ১৮ বছর করার বিধান করেছে।

বাল্যবিবাহ আইনে নিষিদ্ধ এবং যারা তা করে তাদের জন্য আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে। বাল্যবিবাহ রোধে অত্যন্ত কঠোর আইনও করা হয়েছে, তবুও পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। ইউএনও-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের সর্বোচ্চ বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে ভারত দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, যেখানে দেশে প্রতিদিন প্রায় চল্লিশ হাজার বাল্যবিবাহ ঘটে।

এই সংখ্যাটি বেশ বড় এবং উদ্বেগজনক, কারণ এটি সেই রাজ্যগুলিকেও অন্তর্ভুক্ত করে যেখানে উচ্চ শিক্ষার হার রয়েছে৷ একটা সময় ছিল যখন মুঘল ও ব্রিটিশ রাজতন্ত্রে কন্যাদের নিরাপদ মনে করা হত না। নিপীড়ন থেকে বাঁচাতে বাল্যবিবাহ করা হয়। এখন সময় বদলেছে। জনগণের চিন্তাধারা পরিবর্তন করে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নিয়ে সমাজ থেকে বাল্যবিবাহ প্রথা বিলুপ্ত করতে হবে।

বাল্য বিবাহের ইতিহাস:

মধ্যযুগ থেকেই আমাদের সমাজে এই কুপ্রথা প্রচলিত রয়েছে। যখন বিদেশী বিধর্মী ইয়াবন তুর্ক আকরানতাও তার লালসা চরিতার্থ করার জন্য মেয়েটিকে অপহরণ করে জোরপূর্বক মেয়ের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের কৌতুক করেছিল। এ কারণে ভারতীয় হিন্দু সমাজে অশিক্ষিত ও অক্ষম ব্যক্তিরা শৈশব থেকেই তাদের মেয়েকে বিয়ে করা উপযুক্ত মনে করতেন। যৌতুক প্রথার কারণে বাল্যবিবাহের প্রচলনও দ্রুত বৃদ্ধি পায়। সে সময় যে কোনো ঘরে কন্যা সন্তানের জন্ম অশুভ মনে করা হতো। সম্পূর্ণ অজ্ঞতার কারণে ছেলে-মেয়ে বাল্যবিবাহের প্রথা প্রতিহত করতে পারেনি। অন্যদিকে মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে বাবা-মাকেও যৌতুক দেওয়া থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। এই ধরনের চিন্তাভাবনার কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারে বাল্যবিবাহের প্রচলন দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

বাল্য বিবাহের অভিশাপ:

বিবাহ অনুষ্ঠানে কন্যাদান একটি পবিত্র ও শুভ কাজ বলে মনে করা হয়। এ উপলক্ষে মেয়েটির বাবা-মা তাদের মর্যাদা অনুযায়ী তাদের মেয়েকে উপহার হিসেবে কিছু জিনিসপত্র ও টাকা দেন। এই যৌতুক প্রথা ধীরে ধীরে বিকৃত অবস্থায় চলে যায়। এর ফল হল যে পরিবারে কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়াকেও বোঝা মনে করা হত।

যারা নিজের মেয়েকে বিদেশী সম্পদ মনে করে, তাদের শৈশবে বিয়ে দিয়ে দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু এই ভুল প্রথা যুগে যুগে সমাজে অনেক বড় সমস্যার জন্ম দিয়েছে। অল্প বয়সে ছেলে-মেয়েদের বিয়ের কারণে তারা শীঘ্রই বংশবৃদ্ধির কাজ শুরু করে। যার কারণে অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের জীবনযাত্রার মানও কমে যাচ্ছে।

বাল্যবিবাহের এই সামাজিক প্রথার কারণে যে বয়সে ছেলেমেয়েদের খেলতে, লাফাতে ও পড়াশোনা করতে হয়। সেই বয়সে তারা শুধুমাত্র অপরিণত সময়ে বিয়ের মতো দায়িত্বশীল বন্ধনে আবদ্ধ হয়। যখন শিশু না শিক্ষা পায়, না তার শারীরিক বিকাশ ঠিকমতো হয়। বাল্যবিবাহই স্বামীর অকাল মৃত্যু এবং অল্প বয়সে বিধবা হওয়ার প্রধান কারণ। এ ধরনের কুপ্রভাবের কারণেই বাল্যবিবাহ ও অমিল আজ আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাল্য বিবাহ সমস্যা ও সমাধান:

বাল্যবিবাহের এই প্রথার কুফল ও কুফল দেখে যুগে যুগে সমাজ সংস্কারকরা এই প্রথাকে মূল থেকে নির্মূল করার লক্ষ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। ভারত সরকারও বাল্যবিবাহকে অপরাধ হিসেবে ঠেকাতে কঠোর আইন করেছে। এছাড়াও, সবার জন্য বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স ছেলেদের জন্য 21 বছর এবং মেয়েদের জন্য 18 বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই বয়সের নিচে এই বয়সের কম বয়সী ছেলেমেয়েদের বিয়ে আইনত অপরাধ।এমনটি করা শিশুদের বাবা-মা এবং অংশগ্রহণকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধানও করা হয়েছে। এত কিছুর পরও আজ সবই হচ্ছে প্রকাশ্যে। মূলত রাজস্থানে অক্ষয় তৃতীয়া আখাতীজ উপলক্ষে বাল্যবিবাহের বন্যা বইছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এ ধরনের বাল্যবিবাহ কর্মসূচিতে আইন প্রণেতা ও তাদের কথিত রক্ষকদেরও এ ধরনের মানুষের সঙ্গে বসে থাকতে দেখা যায়।

বাল্যবিবাহের ভয়াবহ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে জনসচেতনতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এখন ভারত সরকারও বিয়ের রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট করা বাধ্যতামূলক করেছে। সরকারের এই পদক্ষেপ কিছুটা হলেও বাল্যবিবাহ রোধে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে সরকার ও সমাজ সংস্কারকদের এ দিকে আরও অর্থবহ পদক্ষেপ নিতে হবে।

রাজস্থানে বাল্য বিবাহ:

সম্ভবত মধ্যযুগে ভারতে বাল্যবিবাহের প্রথা জন্মেছিল, এর পেছনে অনেক তাৎক্ষণিক কারণ ছিল, এটাও তখনকার সমাজের সঠিক পদক্ষেপ ছিল। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে এই প্রথার প্রকৃতিও পরিবর্তিত হয়েছে। আজও এই প্রথা রাজস্থানে বিদ্যমান, তবে এটি তার পুরানো রূপ ছেড়ে নতুন রূপে বর্তমান। আজও অক্ষয় তৃতীয়ায় হাজার হাজার ছেলে-মেয়ের অল্প বয়সে বিয়ে হয়, এই বিয়েতে সে ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত শ্বশুর বাড়িতে যায় না। মৃত্যুভোজের কারণে রাজ্যে এই প্রথা টিকে আছে। নাবালক বয়সে ছেলে মেয়ের বিয়ে। রাজস্থানে, বাল্যবিবাহ প্রধানত অক্ষয় তৃতীয়া/আখাতীজে হয়। বিশ্বের বাল্যবিবাহের প্রায় ৪০ শতাংশ ভারতে হয়।

আরও পড়ুনঃ  পদ্মা সেতু রচনা ২০২৩ - সকল শ্রেণির জন্য কমন

বাল্যবিবাহের পরিণতি:

  • সন্তানের শৈশব কেড়ে নেওয়া হয় এবং অনেক সময় বিয়ের পর শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়।
  • কন্যা শিশুর স্বাস্থ্যের উপর অপুষ্টি- অপুষ্টি, মানসিক বিকাশ প্রতিবন্ধকতা, যৌন সমস্যা, এইচআইভি, অকাল গর্ভধারণ ইত্যাদি। ব্যক্তির সঠিক বিকাশ সম্ভব নয়।
  • মাতৃমৃত্যুর হারের তুলনায় শিশুমৃত্যুর হার বেড়েছে।
  • বাল্যবিবাহের কারণে ছেলেটি বড় হয়ে অনেক সময় মেয়েকে ছেড়ে চলে যায়।
  • মেয়ে শিশুকে অল্প বয়সেই পারিবারিক দায়িত্ব পালন করতে হয়।
  • সন্তানের ওপর আর্থিক বোঝা, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা

বাল্যবিবাহের তথ্য ও পরিসংখ্যান:

  • শিশুদের অবস্থার উপর ইউনিসেফের রিপোর্ট 2009 এবং জাতীয় পারিবারিক স্বাস্থ্য সমীক্ষার তথ্য 2005-06 অনুসারে, বিহারে বাল্যবিবাহের অনুপাত সর্বোচ্চ 69 শতাংশ এবং দ্বিতীয় রাজস্থানে 65 শতাংশ।
  • ভারত সরকার শিশুদের জন্য জাতীয় পরিকল্পনা 2005-এ 2010 সালের মধ্যে বাল্যবিবাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল কিন্তু ব্যর্থ হয়।

বাল্যবিবাহ বন্ধে আইনি প্রচেষ্টা:

  • 1891 সালে, ব্রিটিশ ভারত সরকার, ভাইসরয় লেন্স ডাউনের সময়, এস. গাঙ্গুলীর প্রচেষ্টায় সম্মতির বয়স আইন প্রণয়ন করে, যার অনুযায়ী 12 বছরের কম বয়সী মেয়ের বিয়ে নিষিদ্ধ ছিল।
  • তিলক সম্মতির বয়স আইনের বিরোধিতা করেছিলেন, এটিকে ভারতীয় বিষয়ে বিদেশী হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেছিলেন।

শারদা আইন:

  • 1929 সালের সেপ্টেম্বরে, কেন্দ্রীয় আইনসভার সদস্য এবং আজমিরে বসবাসকারী একজন বিখ্যাত ইতিহাসবিদ হর বিলাস শারদার প্রচেষ্টার কারণে, 1929 সালের সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় আইনসভায় বাল্যবিবাহ নিষেধাজ্ঞা আইন পাস হয় এবং 1 এপ্রিল 1930 সালে এই আইনটি পাস হয়। সারা ভারতে কার্যকর হয়েছে। ভাইসরয় লর্ড আরউইনের সময়ে শারদা আইন কার্যকর হয়।
  • শারদা আইন অনুসারে, একটি মেয়ের বিবাহের সর্বনিম্ন বয়স 14 বছর এবং একটি ছেলের সর্বনিম্ন বয়স 18 বছর।
  • 1940 সালে সংশোধনীর মাধ্যমে 15 বছরের কম বয়সী মেয়ে এবং 18 বছরের কম বয়সী ছেলের বিয়ে নিষিদ্ধ করা হয়।
  • 1978 সালে, মোরারজি ভাই দেশাইয়ের সরকার শারদা আইন সংশোধন করে মেয়েদের জন্য সর্বনিম্ন বয়স 18 বছর এবং ছেলেদের জন্য 21 বছর করে।
  • 1992 সালে আবারও সংশোধনীর মাধ্যমে বাল্যবিবাহকারী অভিভাবকদের শাস্তির বিধান করা হয়।
  • 2006 সালে, শারদা আইন বিলুপ্ত করা হয় এবং বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন 2006 প্রণীত হয়, যা 1 নভেম্বর 2007 এ কার্যকর হয়।

২০০৬ সালের বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন অনুসারে:

  • প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার দুই বছরের মধ্যে বাল্যবিবাহ বাতিল ঘোষণা করা যেতে পারে।
  • বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স 21 বছর এবং 18 বছর
  • বাল্যবিবাহের জন্য দোষী সকল ব্যক্তিকে 1 লক্ষ টাকা জরিমানা বা দুই বছর পর্যন্ত বা উভয় মেয়াদের জন্য সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
  • জেলায় নিষেধাজ্ঞা অফিসার- কালেক্টর
  • বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের জন্য নোডাল বিভাগ – স্বরাষ্ট্র বিভাগ এবং মহিলা ও শিশু উন্নয়ন বিভাগ

ফ্যাক্ট:

  • 1885 সালে, যোধপুরের প্রধানমন্ত্রী স্যার প্রতাপ সিং এটিকে অবৈধ ঘোষণা করেন।
  • 1903 সালে, আলওয়ারের রাজকীয় রাজ্য অমিল এবং বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ করে একটি নিয়ম তৈরি করেছিল।

উপসংহার:

বাল্যবিবাহ মানে অল্প বয়সে ছেলে ও মেয়ের বিয়ে বর ও কনের উভয়ের জীবন অন্ধকার করে দেয়। এই প্রবণতার কারণে সমাজে আরও অনেক সমস্যা ও বিকৃতির জন্ম হয়। তাই এখন সময় এসেছে, আমাদের সবাইকে জেগে উঠতে হবে এবং এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে দীর্ঘ সম্মিলিত যুদ্ধ করতে হবে। তাহলেই আমাদের সমাজ বাল্যবিবাহের মতো দুর্যোগ থেকে মুক্তি পাবে।

অন্যান্য রচনাঃ

শেষ কথা,

আশাকরি এই ব্লগ পোষ্ট থেকে আপনি “বাল্যবিবাহ রচনা” সম্পর্কে বিস্তারিত জেনেছেন। আজকাল প্রায় অনেক পরিক্ষাতেই বাল্যবিবাহ রচনা টি এসে থাকে। আমি এই ব্লগে বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের জন্যই বাল্যবিবাহ এর রচনা উল্লেখ করেছি।

এই রচনাটি আপনি শিখতে পারবেন যে বাল্যবিবাহ কি, বাল্যবিবাহের কারণ, বাল্যবিবাহের কুফল, বাল্যবিবাহের প্রতিকার, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ সম্মন্ধে অনেক কিছু। আশাকরি এইসব কিছুর সমন্বয়ে আপনি সমৃদ্ধ একটি রচনা লিখে পরিক্ষায় ভাল ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম হবেন।

এই আর্টিক্যালটি ভালো লাগলে উপরে আমাকে একটি Rating দিয়ে দিবেন। এতে করে আমাদের লেখালেখির আগ্রহ বেড়ে যায়। আর তাছাড়া আপনি আমাদের সোসাল মিডিয়া গুলিতে যুক্ত থাকতে পারেন।

FAQs: বাল্যবিবাহ রচনা – Child Marriage Essay in Bengali

  1. বাল্যবিবাহ বলতে কী বোঝায়?

    বাল্যবিবাহ’ বলতে এমন বিবাহ বোঝায় যার কোনো এক পক্ষ বা উভয় পক্ষ অপ্রাপ্ত বয়স্ক। ‘অপ্রাপ্ত বয়স্ক’ অর্থ বিবাহের ক্ষেত্রে ২১ বছর পূর্ণ হয়নি এমন কোনো পুরুষ এবং ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি এমন কোনো নারী।

  2. বাল্যবিবাহ রোধ করেন কে?

    বাল্যবিবাহ সহ বিভিন্ন কুপ্রথার বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন ভারত পথিক রাজা রামমোহন রায়। ইতিহাসের পাতায় তাঁর নাম অমর হয়ে রয়েছে।

  3. বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কিভাবে করা যায়?

    বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ যেভাবে করবেন তা এই পোষ্টের উপরে দেয়া আছে।

  4. বাল্যবিবাহের কারণ?

    UNFPA’র তথ্য মােতাবেক, যে সকল কারণ বাল্যবিবাহের জন্য দায়ী তার মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্য, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, লিঙ্গ বৈষম্য, প্রচলিত প্রথা বা চর্চা, নিরক্ষরতা, মেয়েদের উপার্জনে অক্ষম ভাবা এবং নিরাপত্তাহীনতা, বিশেষত যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ বা মহামারির সময়।

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these

Share via
Copy link