বাংলার উৎসব রচনা ৬০০ শব্দের প্রবন্ধ – সকল ক্লাসের জন্য

বাংলার উৎসব রচনা ৬০০ শব্দের প্রবন্ধ

বিভিন্ন পরিক্ষায় যে রচনাটি প্রায়ই এসে থাকে সেটি হচ্ছে বাংলার উৎসব রচনা। শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য আজ আমি এই রচনাটি এই ব্লগে উল্লেখ করলাম। আপনারা নির্দিধায় এটি পড়ে পরিক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করে নিতে পারবেন।

বাংলার উৎসব রচনা

এই চরনাটি আমি মূলত ৬০০ শব্দের ভেতরে রেখেছি। সহজ সুন্দর একটি রচনা সবাই মুখস্ত করতে পারবেন।

ভূমিকা:

উৎসব বাঙালির প্রাণশক্তির বিকাশ। দৈনন্দিন জীবনের সুখ,গ্লানি,যন্ত্রণা একঘেয়ে দিনযাপন থেকে মুক্তির জন্য ক্লান্ত প্রাণ সন্ধান করে আনন্দ মুখরিত কিছু সুন্দর মুহূর্তের। সুখ বা আনন্দের অনুভূতি একা একা পূর্ণ হয় না নিজের আনন্দ সুখ সকলের সঙ্গে মিলিত হয়ে উপভোগের কল্যাণী ইচ্ছা তখনই জেগে ওঠে। এই ইচ্ছের প্রকাশ হল উৎসব। বঙ্গ প্রকৃতির মধুরিমা আর বাঙালির চিত্র ও প্রাণের প্রসারে উৎসবগুলো হয়ে ওঠে অপরূপ সৌন্দর্যময়।

উৎসবের প্রকারভেদ:

কথায় আছে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ  এক একটা উপলক্ষে আশ্রয় করে বাঙালি আয়োজন করছে নানান উৎসবের। জাতীয় উৎসব, সামাজিক ও পারিবারিক উৎসব, ধর্মীয় উৎসব,ঋতু উৎসব ইত্যাদি সঙ্গে বাঙালির চিত্র আধুনিক সময়ের কিছু উৎসবকেও একাত্ম করে নিয়েছে। পারিবারিক উৎসব সেখানে সামাজিকতা পেয়েছে রাষ্ট্রীয় উৎসব হয়ে উঠেছে জাতীয় উৎসব।

আরও পড়ুনঃ  স্বাধীনতা দিবস রচনা ২০০ শব্দ | মহান স্বাধীনতা দিবস রচনা

জাতীয় উৎসব:

বিভিন্ন রকম জাতীয় উৎসবে বাঙালি মুখরিত হয়  যেমন ২৩ শে জানুয়ারি নেতাজীর জন্মদিন, ২৬ শে জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস, ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা দিবস, ১৪ নভেম্বর শিশু দিবস, ২ অক্টোবর মহাত্মা স্মরণে, ৫ই সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস, ১৪ই এপ্রিল আম্বেদকর দিবস প্রভৃতি।

বাঙালি প্রাণের ঐতিহ্য রবীন্দ্র জন্মোৎসবকে জাতীয় উৎসবের মর্যাদা প্রদান করেছে।  সর্বজাতিক ভারতের চরিত্রধর্মে ঐক্যবদ্ধবাঙালিও। তাই এই বিভিন্ন রকম উৎসব পালনে তার জাতীয়তাবাদী চেতনা প্রকাশিত হয়।

বাৎসরিক উৎসব:

বছরের প্রারম্ভেই পয়লা বৈশাখের পূণ‍্যবাসরে বাঙালির হালখাতা। নববর্ষ পালনের পর ক্রমে দোলযাত্রা, রথযাত্রা, মনসা পূজা, শীতলা পূজা, গণেশ পূজা, কার্তিক পূজা, সরস্বতী-লক্ষ্মী পূজা, শিব রাত্রি, মহরম, সবেবরাত, নবী উৎসব, ঈদ  ইত্যাদি সারা বছর ধরে পালন করে থাকে উৎসব গুলি বাঙালিরা।

ধর্মীয় উৎসব:

ধর্মীয় এবং ধর্মনিরপেক্ষ দু’রকম উৎসবেই বাঙালির প্রাণ প্রবাহের তীব্রতার সুবিদিত ধর্মীয় উৎসবগুলোর সঙ্গে এসে মিলে যায় আদি অকৃত্রিম লৌকিক উৎসবগুলিও। কখনো পূণ‍্যিপুকুর, পুষ্পমালা,কখনও ইতুর ঘট,কখনও ভাদু-টুসু উৎসব, কখনও পাতা পরব,করম পরব। 

বাঙালির ধর্মীয় উৎসবের লোক উৎসব মিলেমিশে  রয়েছে। বাসন্তী পূজা, রটন্তী পূজা, অন্নপূর্ণা পূজা,মঙ্গলচন্ডী, বিপত্তারিণী প্রভৃতির উৎসব নানা রূপে মাতৃ আরাধনা করলেও অকালবোধিতা দেবী দুর্গার উৎসবই শ্রেষ্ঠ ধর্মীয় বাংলার উৎসব।

আরও পড়ুনঃ  প্রবন্ধ: বিজ্ঞান ও কুসংস্কার রচনা | Biggan o Kusanskar Rachana

দূর্গাপূজা:

আনন্দময়ীর আগমনবার্তায় শরৎ ঋতু  প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে। আকুল প্রাণ বাঙালি ঘরের বিবাহিত কন্যাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাড়ি আনতে সারা বছর অপেক্ষা নিয়ে উদগ্ৰীব থাকে। মনে মনে ভেবে নেয় “গিরি, এবার আমার উমা এলে, আর উমা পাঠাবো না বলে বলবে লোকে মন্দ, কার কথা শুনবো না।” মহালয়ার পিতৃতর্পণ করে বাঙালি মহিষাসুরমর্দিনীর বন্দনায় লিপ্ত হয়। আলো ঝলমলে দিনরাত, শিউলি ফুলের গন্ধ, ঢাকের আওয়াজ, নতুন জামা দশভূজার আগমনে বাঙালি জাতি প্রায় নতুন এক প্রাণ।

পরদিনের মহোৎসবে মায়ের সঙ্গে আসা কার্তিক-গণেশ-লক্ষ্মী- সরস্বতী ও মহানন্দে পূজা পায়। পূজার মন্ডপে মৃদু হাসি মুখে স্বয়ং মহাদেব দেবাদিদেবও। বিজয়ার ব্যথা ভুলে যাওয়ার আগেই আশে লক্ষী দেবীর পুজা। তারপর ভূত চতুর্দশী।চোদ্দো শাক, চোদ্দো প্রদীপে রাঙিয়ে পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে বাঙালি মত্ত হয় শ্যামামায়ের রাঙা চরণে রক্তজবার আহুতি দিয়ে। একই সঙ্গে চলে আসে ভাইফোঁটার শুভ দিন। একে একে আসে ঈদ, পৌষ পার্বণ, নবান্ন, বাগদেবীর আরাধনা এবং বসন্ত উৎসবের রঙিনীয়তা।

পারিবারিক ও সামাজিক উৎসব:

পারিবারিক উৎসবের মধ্যে বিবাহ, আদ‍্যকৃত, জন্মদিন, নামকরণ, সাধু ভক্ষণ ইত্যাদি সঙ্গে সংযুক্তি ঘটে অনেক উৎসব সামাজিক উৎসবগুলিরও। রাখি বন্ধন, রবীন্দ্র জন্মোৎসব, মাতৃভাষা দিবস, প্রভৃতি উৎসব।

আরও পড়ুনঃ  পড়ুন বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা | বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা ২০ পয়েন্ট

ঋতু উৎসব:

বাঙালির ঋতু উৎসব গুলি আজ আর তেমন ভিন্ন ভিন্ন আকারে নেই। তাই বৈশাখী পূর্ণিমা থেকে মাঘী পূর্ণিমা, বীজ বপনের বর্ষামঙ্গল, রথযাত্রার কার্তিকের শস্য দেবতার উদ্দেশ্যে নবান্ন, শুভ জন্মাষ্টমী, শ্রাবণ ভাদ্রের ঝুলন, ফাল্গুন চৈত্রের দোল, চৈতন্য জন্মোৎসব, রাসযাত্রা  আজ বাংলার উৎসব গুলি তুলনীয়ভাবে ক্ষীন হলেও বহুমাত্রিক প্রমাণ পাওয়া যায় বাঙালির এই উৎসব গুলি থেকে।

উপসংহার:

অন্তরের সহৃদয়তা, প্রেম-প্রীতি ভালবাসার প্রকাশক বাংলার উৎসব গুলি। উৎসব জাতি-ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় শ্রেণীভেদ ভুলে মিলিত হতে শেখায়। তাইতো বাঙালি দুর্গ পুজো-ঈদ-বড়দিনে সমান ভাবে মেতে ওঠে। বাঙালির উৎসব নানা উপলক্ষ্যকে মুগ্ধ করে তোলে।

এই উৎসব লোক-সমাজ- জাতি-ধর্ম-জীবনচর্চার নানা অবস্থান কে জানতে বুঝতে শেখায়। ভ্রাতৃত্বের বন্ধন থেকে বাৎসল‍্যের মাধুর্য, শস‍্য ফলনের গুরুত্ব থেকে পিতৃমাতৃ মর্যাদা সম্পর্কে এই বাংলার উৎসব গুলি থেকে শিখে নেয় সকলেই। উৎসব মানেই সকল ভেদাভেদ ভুলে একাত্রিত হওয়া।

বর্তমানে উৎসবে অবশ্য বাইরের আচরণ উৎসবের মূল ধারণাটিকে ক্ষীণ করেছে। কিন্তু বাঙালি তার এই আচারসর্বসত্ত্বা ভুলে উৎসবের অপরূপ মাধুর্যকে ফিরিয়ে আনবে এটাই আমাদের চাহিদা।

অন্যান্য ব্লগ পড়ুন মূলপাতায়।

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these

Share via
Copy link