আমাদের এখানে পড়ুন সময়ানুবর্তিতা রচনা ২০ পয়েন্ট | সময়ানুবর্তিতা রচনা

সময়ানুবর্তিতা রচনা ২০ পয়েন্ট
Contents
সময়ানুবর্তিতা রচনা যে সকল শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা পড়তে পারবেঃ সময়ানুবর্তিতা রচনা বিভিন্ন শব্দের হতে পারেঃ সময়ানুবর্তিতা রচনা ২০ পয়েন্ট এছাড়া ১৫, ২৫, ৩০ পয়েন্টঃ সময়ানুবর্তিতা রচনাভূমিকাঃহায় রে হৃদয় তোমার সঞ্চয় দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয় নাই নাই, নাই যে সময়।সময়ের বৈশিষ্ট্যঃমানবজীবনে সময়ের গুরুত্ব/সময়ের গুরুত্বঃসময়ের সদ্ব্যাবহারঃ সময়ের মূল্যবোধের অর্থঃসময়ে না দেয় চাষ তার দুঃখ বার মাস।সময় মূল্যবান হওয়ার কারণঃ সময়নিষ্ঠ ব্যক্তিঃ সময়ের প্রতি উদাসীনতাঃছাত্রজীবনে সময়ানুবর্তিতাঃমনীষীদের জীবনে সময়নিষ্ঠাঃজাতীয় জীবনে সময়ের মূল্যঃবাঙালির সময়জ্ঞানঃ আধুনিক যুগে সময়ের মূল্যঃদুর্বার তরঙ্গ এক বয়ে গেল তীব্রবেগে বলে গেলঃ আমি আছি যে মুহূর্তে আমি গতিমান, যখনই হারাই গতি সে মুহূর্তে আমি আর নাই।সময়কে কাজে লাগানাের উপায়ঃ সময় অবহেলার পরিণতিঃ সময়ানুবর্তিতা ও সাফল্যঃআজ করব না করব কালি এই ভাবে দিন গেল খালি।  কেমন করে হিসাব দিব নিকাশ যদি চায় দিন ফুরায়ে যায় রে আমার দিন ফুরায়ে যায়।উপসংহারঃ সময়ানুবর্তিতা রচনা ১০০০ শব্দ ভূমিকাঃ সময়ের মূল্যঃসময়ের বৈশিষ্ট্যঃসময়ের সদ্ব্যবহারঃ ছাত্রজীবনে সময়ের মূল্যঃ জাতীয় জীবনে সময়ের মূল্যঃসময়ই শ্রেষ্ঠ সম্পদঃসময়ের অবহেলার পরিণামঃসময়ানুবর্তিতার অন্তরায়ঃ সময়কে কাজে লাগানাের উপায়ঃসময়ের গুরুত্বঃ সময়ের মূল্যায়ন ও জীবনে সাফল্যঃসময়নিষ্ঠ ব্যক্তি ও জাতির উদাহরণঃ বাঙালির সময়জ্ঞানঃসময়ের অপব্যবহার ও আমাদের কর্তব্যঃউপসংহারঃশেষ কথাসময়নিষ্ঠ হওয়ার অনেক সুবিধা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ,সময়নিষ্ঠ হওয়া আপনাকে যেভাবে সাহায্য করতে পারে:
সময়ানুবর্তিতা রচনা ২০ পয়েন্ট
সময়ানুবর্তিতা রচনা ২০ পয়েন্ট
সুপ্রিয় ভিজিটর, আশাকরি আপনারা ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি। আজ আপনাদের জন্য একটি সময়ানুবর্তিতা রচনা ২০ পয়েন্ট নতুন রচনা নিয়ে এসেছি। সময় আমাদের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ন জিনিস। তো আজকে আমাদের এই সময়ানুবর্তিতা রচনা পোষ্টে সময়ের গুরুত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।আশা করি সময়ানুবর্তিতা রচনাটি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে। এই রচনাটি আপনি যেকোনো পরিক্ষায় লিখতে পারবেন। লিখলেই রচনাতে ২০ পয়েন্ট পেয়ে যাবেন। এছাড়াও সময় নিয়ে আমাদের আরেকটি পোষ্ট আপনারা চাইলে এটিও পড়ে দেখতে পারেন সময়ের মূল্য বাংলা প্রবন্ধ রচনা
আমাদের আজকের এই সময়ানুবর্তিতা রচনা ২০ পয়েন্ট তে আপনাদের স্বাগতম সবাইকে। আশাকরি আপনারা এই রচনাটি পড়ে উপকৃত হবেন। এছাড়া সৃজনশীলতার এই লেখাপড়ায় আপনারা স্কুলে এই সময়ানুবর্তিতা রচনাটি লিখে ভালো নাম্বার অর্জন করতে পারবেন। তাই আসুন নিম্নে বর্নিত Somoyanubortita Rochona 20 point রচনাটি পড়ে নেই। 

সময়ানুবর্তিতা রচনা যে সকল শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা পড়তে পারবেঃ 

সময়ানুবর্তিতা রচনা for class 3, class 4, class 5 class 6, class 7, class 8, class 9, class 10, class 12 এর জন্য প্রকাশ করা হয়েছে, এছাড়াও সময়ের মূল্য রচনা এস এস সি, এইচ এস সি শিক্ষার্থীদের জন্যও দেয়া হয়েছে।

সময়ানুবর্তিতা রচনা বিভিন্ন শব্দের হতে পারেঃ 

অনেকে সময়ানুবর্তিতা রচনাটি বিভিন্ন শব্দের মধ্যে অনুসন্ধান করে থাকেন, তার মধ্যে রয়েছে সময়ের মূল্য রচনা ১০০ শব্দ, ২০০ শব্দ বা 200 words এবং অনেকে ৩০০ শব্দের সময়ানুবর্তিতা রচনা খুঁজে থাকেন।

সময়ানুবর্তিতা রচনা ২০ পয়েন্ট এছাড়া ১৫, ২৫, ৩০ পয়েন্টঃ 

এছাড়াও জানতে পারবে সময়ের মূল্য রচনার ১৫ পয়েন্ট, সময়ানুবর্তিতা রচনার ২০ পয়েন্ট, ২৫ পয়েন্ট এবং সময়ের মূল্য রচনার ৩০ পয়েন্ট দেয়া হয়েছে।

সময়ানুবর্তিতা রচনা

ভূমিকাঃ

বিন্দু বিন্দু জল নিয়ে গড়ে উঠে বিশাল জলধি, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকণা নিয়ে সৃষ্টি হয় মরুভূমি।আর অসংখ্য মুহূর্তের সমন্বয়ে রচিত হয় মানুষের পার্থিব জীবন।সময় অমূল্য সম্পদ।চিরপ্রবাহমানতা তার ধর্ম।চঞ্চল, চপল, স্রোতস্বিনীর মতো সর্বদা আপন গতিতে ধেয়ে চলে; কখনো পেছনে ফিরে তাকায় না।মানবজীবনও সময়ের সেই অনন্ত ছন্দে সুর বেধেছে।সময়ের অন্তহীন প্রবাহে সে ছুটে চলেছে জন্ম থেকে মৃত্যুর অভিমুখে।সময় নিরবধি, কিন্তু মানবজীবন সংক্ষিপ্ত। তাই তো মানুষের চিরন্তন বাণীহারা কান্নাঃ

হায় রে হৃদয়
তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়
নাই নাই, নাই যে সময়।

(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)

ঠিক সময়ে ঠিক কাজটি করাই সময়ানুবর্তিতা। জীবনে সফলতা বয়ে আনার জন্য যেসব গুণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তার মধ্যে সময়ানুবর্তিতা একটি। মানবজীবনের সকল অনুষঙ্গ সময় দ্বারা প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রিত। অনন্তের দিকে প্রবহমান সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগানােকেই সময়ানুবর্তিতা বলে। একবার সময়ের সদ্ব্যবহার করতে না পারলে, পুনরায় আর তা ব্যবহারের সুযােগ পাওয়া যায় না। তাই সময়কে গুরুত্ব দিয়ে নিজ নিজ জীবন গঠনে সকলকে ঐকান্তিক হতে হয়। সময়ের কাজ সময়ে করলে জীবন সার্থক ও সুন্দর হয়।

সময়ের বৈশিষ্ট্যঃ

প্রবহমানতা সময়ের সবচেয়ে বড়াে বৈশিষ্ট্য। সময় নদীর স্রোতের মতাে প্রবহমান তথা গতিময়। একই জলপ্রবাহে যেমন দুইবার ডুব দেওয়া যায় না, তেমনি একই সময়কে দুইবার পাওয়া যায় না। পৃথিবীর কোনাে শক্তিই সময়ের গতিশীলতাকে রােধ করতে পারে না। নদীর জলপ্রবাহ ভাটির টানে চলে গেলেও আবার জোয়ারে ফিরে আসে। কিন্তু অতিবাহিত সময় আর ফিরে আসে না। উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত কাজটি করতে না পারলে, অসময়ে শতচেষ্টায়ও তা সার্থকভাবে করা যায় না। কথায় আছে, সময়ের এক ফোঁড় আর অসময়ের দশ ফোঁড়’।

মানবজীবনে সময়ের গুরুত্ব/সময়ের গুরুত্বঃ

মহাকালের হিসেবে মানবজীবন অতি ক্ষুদ্র। এই স্বল্পায়ু জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই মূল্যবান। কেননা মহাকালের বিচারে মানুষ যে সময় পায়, তা অতি নগণ্য। তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের সর্বোত্তম ব্যবহারে কাজ করা উচিত। যে ব্যক্তি সময়কে গুরুত্ব দিয়ে সময়ের কাজ সময়ে সম্পন্ন করে, সে কোনাে ধরনের বিড়ম্বনায় পড়ে না। এক জীবনে মানুষ যে পরিমাণ কাজ করতে পারে, তার একটি সীমা আছে। তাই কোনাে কাজ ফেলে না রেখে যথাসময়ে তা সম্পন্ন করা উচিত।

সময়ের গুরুত্ব
সময়ের গুরুত্ব

সময়ের সদ্ব্যাবহারঃ 

সময় নির্ধারণ করে একজন ব্যক্তির জীবন উজ্জ্বল না অন্ধকার হবে। সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করলে তার জীবন হবে আলোয় ভরপুর এবং অবহেলায় অলস সময় কাটালে তার জীবন হবে অন্ধকার। মানুষ কখনো চিরকাল বাঁচতে পারে না কিন্তু কর্মের মাধ্যমে মানুষ মানুষের মধ্যে চিরকাল বেঁচে থাকতে পারে। জীবনে সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, প্রতিভা ব্যয় করতে হবে এবং সময়কে অনুসরণ করতে হবে। সময়কে অবহেলা করে জীবনে উন্নতি করা কখনোই সম্ভব নয়। আজকে আমরা উন্নত বিশ্বের দিকে তাকাই এবং তাদের অবিরাম দৌড় দেখি, এই দৌড়ের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সাফল্যের সোনালী চাবিকাঠি। ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে জনজীবনে সময়ের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করার মধ্যেই সাফল্য নিহিত।

সময়ের মূল্যবোধের অর্থঃ

সময়ের মূল্যবোধ হলো, যে সময়ের যে কাজ, তা সেই সময়ে সম্পাদন করা।যে তা করে না, সে সময়ের অমর্যাদা করে এবং পরাজয়ই হয় তার জীবনের চরম পরিণতি।সময়ের এই অবহেলার জন্য ভবিষ্যতে তাকে অনুশোচনা করতে হবে।যে কৃষক ফসলের ঋতুতে ফসলের বীজ বপন না করে আলস্যে সময় অতিবাহিত করে, সে কিভাবে ফসল ওঠার সময় খামার পূর্ণ ফসল আশা করতে পারে? সময় চলে গেলে তখন কান্নাকাটি করেও লাভ হয় না। প্রবাদে আছে:-

সময়ে না দেয় চাষ
তার দুঃখ বার মাস।

মানবজীবনেও সেই একই কথা।জীবনে যখন শক্তি থাকে, সামর্থ্য থাকে, তখন আলস্যে অযথা কালহরন করে জীবন কাটালে শেষ বয়সে অবশ্যই দুঃখ ভোগ করতে হয়।তাই সময়ের মূল্যবোধের গুরুত্ব অনেক।

সময় মূল্যবান হওয়ার কারণঃ 

‘সময় এবং বর্তমান কারো জন্য অপেক্ষা করছে’- এই সুপরিচিত বাক্যটি আমাদের বুঝতে সাহায্য করতে পারে কেন সময় আমাদের কাছে এত মূল্যবান। সময় যেমন কোনো কিছুতে মাপা যায় না, হারানো সময় কোনোভাবেই ফিরে পাওয়া যায় না। আমি যদি সময়ের কাজ না করি, তাহলে কাজ বাকি থাকবে, সময় কেটে যাবে, কাজের বোঝা ভারী হবে এবং জীবন ক্লান্ত হবে এবং বিষণ্নতা নেমে আসবে। ছন্দময় জীবনকে আরও আনন্দময় করতে সময়ের সাথে সমানতালে চলতে হবে। সারাদিনের কাজকে সময় অনুযায়ী ভাগ করতে হবে এবং সময় অনুযায়ী কাজ করতে হবে। আমাদের জীবনের প্রতিটি কাজই পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনে বাঁধা.. সময়কে অবহেলা করে জীবনে সফলতা পাওয়া সম্ভব নয় তাই প্রতিটি মানুষের জীবনে সময় খুবই মূল্যবান।

সময়নিষ্ঠ ব্যক্তিঃ 

একজন সময়নিষ্ঠ ব্যক্তি সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারেন। সময়ানুবর্তিতা মানুষকে কাজের গুরুত্ব শেখায়। বিবেচক ব্যক্তি সময়ের গুরুত্ব বােঝেন; তাই তিনি সময়ের সদ্ব্যবহার করতে পারেন। যে সকল দার্শনিক, বিজ্ঞানী, লেখক ও শিল্পী পৃথিবীতে খ্যাত হয়েছেন, ধারণা করা যায়, তাদের আরাে অনেক গুণের মধ্যে সময়ানুবর্তিতা একটি।

সময়ের প্রতি উদাসীনতাঃ

সময়ের সঠিক মূল্যায়ন না করলে মেধাবীরাও অধঃপতনে তলিয়ে যেতে পারে। লোকেরা পরচর্চা করে, অলসভাবে কর্তব্য শির্ক করে এবং মূল্যবান সময় নষ্ট করে। জীবনের কোনো না কোনো সময় হারানো সম্পদ পুনরুদ্ধার করা গেলেও হারানো সময় জীবনে কখনো ফিরে পাওয়া যায় না। সময় নষ্ট করার জন্য পরবর্তী জীবনে আফসোস করা ছাড়া কিছুই করার নেই।

আরও পড়ুনঃ  আমাদের দেশ রচনা ক্লাস ৫ | আমাদের দেশ রচনা ক্লাস 4

ছাত্রজীবনে সময়ানুবর্তিতাঃ

ছাত্রজীবনই জীবন গড়ার শ্রেষ্ঠ সময়। ছাত্রজীবনকে আগুনে পোড়ানো লোহার সাথে তুলনা করা হয় কারণ লোহা গরম হলে যেকোন আকৃতি ধারণ করা যায় কিন্তু লোহা ঠান্ডা হলে কোন কাঙ্খিত আকার ধারণ করা যায় না। একইভাবে ছাত্রজীবন এমন একটি সময় যা নির্ধারণ করবে ভবিষ্যত জীবন কেমন হবে। ছাত্রজীবনের সময়টাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারলে পরবর্তী জীবন হবে অর্থবহ ও সুন্দর।

কর্মজীবনে সাফল্য নির্ভর করে ছাত্রজীবনে সময়ের মূল্য কতটা তার ওপর। ছাত্রজীবনেই জীবনের বীজ বপন করতে হয় তবেই সুফল পাওয়া যায়। ছাত্রজীবনে সময়কে অবহেলা করলে পরবর্তীতে কোনো আফসোস নিয়ে আমরা সেই সময়কে ফিরিয়ে দিতে পারি না। যে ছাত্র সময়কে অবহেলা করে সে শুধু পরীক্ষায় খারাপ করবে না, জীবনের ভবিষ্যত পথ অন্ধকার হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক ব্যায়াম করতে হবে নির্ধারিত সময়ে এবং পারিবারিক দায়িত্ব পালনের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ছাত্রজীবন থেকেই সময়কে কাজে লাগানোর পাশাপাশি পরিশ্রমে সচেতন হতে হবে।

মনীষীদের জীবনে সময়নিষ্ঠাঃ

জীবনের যাত্রায় যারা সফলতা অর্জন করতে পেরেছেন তারাই সময়ের মূল্য সঠিকভাবে দেন। শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান এবং খেলাধুলা সহ বিশ্বের ইতিহাসে আমরা যাদেরকে বিভিন্নভাবে স্মরণ করি তাদের জীবনের ইতিহাস দেখে সময়ানুবর্তিতা প্রমাণিত হয়। স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, শেক্সপিয়ার, নিউটন, আইনস্টাইন প্রমুখ মনীষীর জীবনী পর্যালোচনা করলে দেখবেন সকলের সাফল্যের পিছনে লুকিয়ে আছে সময়ানুবর্তিতা। জগদীশ চন্দ্র বসু দীর্ঘকাল গবেষণা করে প্রমাণ করেছেন যে উদ্ভিদের প্রাণ আছে, তিনি ধৈর্য ও সময়ানুবর্তিতার মাধ্যমে তা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সেরা অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা একের পর এক পায়ের ইনজুরির কারণে দল থেকে ছিটকে গেলেও মনোবল না হারিয়ে সময়কে কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে অনুশীলন চালিয়ে গেছেন।

বাঙালি মনীষী
বাঙালি মনীষী

বিষণ্নতা আর ক্লান্তি তাকে কখনো স্পর্শ করেনি, তাই আবার জাতীয় দলে জায়গা করে নেন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে এনে দেন অসংখ্য শিরোপা। বিশ্ব ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে আমেরিকার সাথে যুদ্ধের কারণে ভিয়েতনাম অর্থনৈতিকভাবে খুবই হতাশ হলেও সময়কে কাজে লাগিয়ে এবং নিয়ম-নীতি নির্ধারণ করেই সে দেশটি তৈরি হয়েছিল। পোশাক খাতে তারা বিশ্ববাজারে নিজেদের সেরা অবস্থানে রেখেছে এবং একই সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে। জাপান এশিয়া মহাদেশের একটি উন্নত দেশ যেটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। সময় এবং কঠোর পরিশ্রমের মূল্যের কারণে জাপানিরা আজ একটি উন্নত জীবন উপভোগ করে। আলেকজান্ডার, আব্রাহাম লিংকন অতি সাধারণ জীবন থেকে নেতা হয়ে ওঠেন। এভাবে প্রতিটি মানুষ তার সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে জীবনে সফল হতে পারে। মানুষের মধ্যে প্রতিভা বিকাশের জন্য সময়কে বিবেচনায় নিতে হবে। এই সময়ানুবর্তিতার কারণেই বুদ্ধিজীবীরা বিখ্যাত হয়েছেন।

জাতীয় জীবনে সময়ের মূল্যঃ

জাতীয় জীবনে সময়ের তাৎপর্য ও গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশ সরকারকে প্রতি বছর জুন মাসে পরবর্তী বছরের করণীয় ঠিক করতে বাজেট ঘােষণা করতে হয়। এই বাজেটে উল্লেখিত কর্মসূচি ও প্রকল্প যথাসময়ে শেষ করতে না পারলে সরকারকে চাপের মধ্যে পড়তে হয়। আবার যাবতীয় অঙ্গীকার যথাসময়ে শেষ করতে পারলে স্বাভাবিকভাবেই সরকারের সুনাম হয়। আসলে একটি দেশের মানুষ সময় সম্পর্কে কতটা সচেতন, এর উপর নির্ভর করে সে দেশের অগ্রগতি। পৃথিবীতে যে জাতি যত বেশি সময়নিষ্ঠ, সে জাতি তত বেশি উন্নত। আবার পরিশ্রমী হতে হলেও সময়নিষ্ঠ হওয়া দরকার।

বাঙালির সময়জ্ঞানঃ 

বাঙালি সমাজে একটা কথা প্রচলিত আছে যে- ‘আঠারো মাসে এক বছর’ বাঙালি জীবনে প্রভাব ফেলে। আমরা সময়মতো কোনো কাজ করি না এবং সময়মতো কাজ না করার মানসিকতা রয়েছে। কোথাও একটি প্রোগ্রাম কখনই নির্ধারিত সময়ে শুরু হয় না এবং আমরা এটাও ধরে নিই যে প্রোগ্রামটি নির্ধারিত সময়ের কমপক্ষে 1 বা 2 ঘন্টা পরে শুরু হবে। আমাদের জীবনে এই সময়ের প্রতি উদাসীনতার অন্যতম কারণ প্রাচীনকাল থেকে গ্রামভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা। গ্রামে ক্ষেতে ফসল হলে কৃষকের আর দুশ্চিন্তা থাকে না, অলসতা কাজ করে। জীবনের এই দীর্ঘস্থায়ী ছন্দ থেকে বেরিয়ে আসতে ব্রিটিশদের আগমন পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হয়েছিল।

আমাদের সমাজে পাশ্চাত্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের ছোঁয়া লাগতে শুরু করার পর থেকেই বাঙালি জীবন গতি পেতে শুরু করে। আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি যেখানে পশ্চিমারা সময়কে হাতের মুঠোয় নিয়ে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করছে। তবে আধুনিক যুগে আধুনিক জ্ঞানের সংস্পর্শে এসে বাঙালির জীবন পরিবর্তিত হলেও পশ্চিমের মতো তা এখনও পরিপূর্ণতা অর্জন করতে পারেনি। বাঙালীদের আরও সময় সচেতন হতে হবে কিন্তু আমরা অলসতার জন্য অভিযুক্ত থাকব বহুদিন।

আধুনিক যুগে সময়ের মূল্যঃ

সময়ের দাবি মিটিয়েই আধুনিক যুগ আজ সভ্যতার বেদিমূলে উপনীত হয়েছে।যারা সময়ের মূল্য প্রদান করে না, তারা গতিহীন, স্থবির ও মৃতপ্রায়।তাদের জীবনে কোনো সম্ভাবনা কখনো হাতছানি দেয় না।বিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কারের ফলে সময়ের বর্তমান মূল্য আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।আবিষ্কৃত হয়েছে শব্দের গতির চেয়েও গতিসম্পন্ন কনকর্ড বিমান।মানুষ আজ কয়েক ঘন্টায় পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে পাড়ি জমাচ্ছে।বিশ্ব আজ মানুষের হাতের মুঠোয়।জীবনের সর্বত্রই এসেছে গতি। তাই তো কবি আল্লামা ইকবালের কণ্ঠে আমরা শুনি:-

দুর্বার তরঙ্গ এক বয়ে গেল তীব্রবেগে
বলে গেলঃ আমি আছি যে মুহূর্তে আমি গতিমান,
যখনই হারাই গতি সে মুহূর্তে আমি আর নাই।

 

সময়কে কাজে লাগানাের উপায়ঃ 

কয়েকটি বিষয় লক্ষ রাখলে সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়। প্রথমত, লক্ষ্য স্থির করা। লক্ষ্যহীন মানুষ সময়ের অপচয় করে। দ্বিতীয়ত, করণীয়গুলােকে প্রয়ােজন ও গুরুত্ব অনুযায়ী তালিকাবদ্ধ করা এবং ক্রমান্বয়ে সম্পন্ন করা। কোনাে নির্দিষ্ট সময়ে যে কাজটি সবচেয়ে জরুরি, সেই কাজটিই করা উচিত। তৃতীয়ত, প্রতিটি কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা। এতে সময়ের অপচয় করার প্রবণতা কমে যায়। চতুর্থত, কী পরিমাণ সময় হাতে আছে, তা বুঝে কাজ করা। পঞ্চমত, আলস্য ও উদাসীনতা পরিহার করা।

সময় অবহেলার পরিণতিঃ 

‘লালন ফকিরের এই চিরন্তন বাণীতে স্পষ্ট হয়ে যায় সময়কে অবহেলার পরিণতি কী হতে পারে। এক কথায় সময়কে অবহেলার পরিণতি খুবই মর্মান্তিক। সময় কখনই চোখে দেখা যায় না, শব্দ করে না, নীরবে বয়ে যায়, সবার অগোচরে। একজন জ্ঞানী ব্যক্তি সময়ের সদ্ব্যবহার করতে সচেতন, আর উদাসীনতায় ভরা জীবন সময়ের মূল্যায়নে সম্পূর্ণ অসচেতন। অতএব, উদাসীন ব্যক্তির জীবনে অমাবস্যার অন্ধকার নেমে আসে। সময় অবহেলা করলে সময় মানুষের প্রতি প্রতিশোধ নেয়।

মৃত্যু পর্যন্ত মানুষকে দুর্বিষহ অভিশপ্ত জীবন বয়ে বেড়াতে হয়। অন্যদিকে সময়ের সঠিক ব্যবহার জীবনকে করে তোলে সুখী ও সমৃদ্ধিতে পূর্ণ। শৈশবের কাজ যেমন যৌবনে হয় না, তেমনি যৌবনের কাজ বার্ধক্যে হয় না। জীবনের প্রতিটি কাজের একটি নির্দিষ্ট সময় আছে, সময় অনুযায়ী কাজ শেষ করা মানুষের দায়িত্ব। যদি একটি কাজ অবহেলা করা হয়, আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি পরে প্রদর্শিত হবে এবং শেষ পর্যন্ত কিছুই সঠিকভাবে করা যাবে না।

সময়ানুবর্তিতা ও সাফল্যঃ

যে ব্যক্তি সময়কে মূল্যায়ন করতে জানে না, সে জীবনে সাফল্য লাভ করতে পারে । জীবনে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাইলে সময়কে যথার্থভাবে কাজে লাগাতে হবে। পৃথিবীর সকল সফল মানুষের সাফল্যের রহস্য সময়ানুবর্তিতা। কোনাে মানুষই গুণের আধার হয়ে জন্ম নেয় না। ক্রমাগত চেষ্টা ও অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়ে মানুষ ধীরে ধীরে বিভিন্ন গুণ অর্জন করে। শৈশব থেকেই সময়ানুবর্তিতার চর্চা করা উচিত। সময়ের মূল্য বােঝাতে গােবিন্দচন্দ্র দাস লিখেছেনঃ-

আজ করব না করব কালি
এই ভাবে দিন গেল খালি। 
কেমন করে হিসাব দিব নিকাশ যদি চায়
দিন ফুরায়ে যায় রে আমার দিন ফুরায়ে যায়।

উপসংহারঃ

জীবন ছোটো, কিন্তু কাজের পরিধি ব্যাপক। তাই কম সময়ের মধ্যে মানুষকে নিজের চুড়ান্ত শীর্ষে আরােহণ করতে হলে সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। যে কৃষক যথাসময়ে বীজ বপন করে না, সে কেমন করে পাকা ফসল ঘরে তুলবে? যে ছাত্র নিয়মিত পড়াশােনা করে না, সে কী করে কৃতকার্য হবে? কাজেই একথা মানতেই হবে যে, সময়কে অবহেলা করা ঠিক নয়। বরং উপযুক্ত পরিশ্রম ও সময়ানুবর্তিতা মেনে চললে জীবনের চলার পথ সুগম হবে, তা নির্দ্বিধায় বলা যায়।

 সময়ানুবর্তিতা রচনা ১০০০ শব্দ 

আপনাদের সুবিধার্থে আমরা এখানে আরেকটি সময়ানুবর্তিতা রচনা ১০০০ শব্দ রচনা যুক্ত করলাম। যাদের উপরের রচনাটি পছন্দ হবেনা তারা নিচের এই রচনাটি পড়তে পারেন।

আরও পড়ুনঃ  দৈনন্দিন জীবনে কম্পিউটার রচনা | আধুনিক জীবনে কম্পিউটার রচনা
ভূমিকাঃ 

সুন্দর এ পৃথিবীতে মানুষের আয়ুষ্কাল সামান্য। এ সামান্য আয়ুষ্কাল মানুষকে কতই না স্বপ্ন দেখায়।

ইংরেজিতে একটা কথা আছে: Man does not live in years but indeed – মানুষ বাঁচে কর্মের মধ্যে বয়সের মধ্যে নয়।

বিশ্বজগতে অনন্তকালপ্রবাহে মানুষের জীবন নিতান্তই ক্ষণস্থায়ী। এ জীবনও মহামহিম হয়ে উঠতে পারে মানুষের মহৎ কর্মে ও অবদানে। কেউ কেউ পারে জীবনকে রঙে রঙে সাজাতে আবার কাউকে কাউকে শুধু ব্যর্থতা, অপূর্ণতা বেদনা নিয়ে চিরকালের মতো চলে যেতে হয়। এ জগৎসংসারে জয়মাল্য তাদের ভাগ্যেই জোটে যারা সময়ের কাজ সময়ে করতে পারে।

সময়ের মূল্য যারা বুঝে তারাই শ্রেঠ মানুষ। মানুষের ধনসম্পদ, মান-সম্মান, স্বাস্থ্য ইত্যাদি হারিয়ে গেলে স্বীয় চেষ্টায় হয়তাে তা ফিরে পাওয়া যায়, কিন্তু সময় একবার চলে গেলে আর ফিরে আসে না। এর মূল্য অন্য কোনাে জিনিস দিয়ে পরিমাপ বা বিনিময় করা যায় না। সুতরাং, আমাদের জীবনের এই অমূল্য সম্পদ সময়কে অবহেলা করে নষ্ট করা উচিত নয়।

সময়ের মূল্যঃ

মহাকাল ছুটিছে অনন্ত ধায়

কেহ তারে ধরিতে নাহি হায়।

সময় অমূল্য সম্পদ। এ পৃথিবীতে অনেক কিছুরই আর্থিক মূল্য নিরুপন করা যায়। কিন্তু সময়ের মূল্য নিরুপন করা সম্ভব না। কোনো কিছু দিয়ে সময়কে পরিমাপ করা যায় না। বহমান নদীর মতো স্বচ্ছ, সাবলীল এর প্রবহমানতা। এক মুহূর্তের জন্যেও স্থির হবার অবকাশ নেই তার। অনাদিকাল থেকে যাত্রা শুরু করে ছুটে চলছে অনন্তের পথে। মানুষের সীমাবদ্ধ জীবন এক সময় থেমে যায়, কিন্তু দুরন্ত সময় চলতেই থাকে। জৈনক ইংরেজ কবি তাই লিখেছেনঃ

“Time and tide wait for none”

অর্থাৎ সময় এবং নদীর স্রোত কারো জন্যে অপেক্ষা করে না। সময়ের এ ধাবমানতার জন্যেই জীবন মানুষের কাছে এতো মূল্যবান। জন্ম ও মৃত্যুর শাসনে জীবন সদা সংকুচিত। অন্তহীন জীবন আশা করেও মানুষ তা পায় না। এখানেই জীবনের চরম ট্রাজেডি।বাংলার লোক-কবির কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে এ হাহাকারঃ

“এপার গঙ্গা ওপর গঙ্গা, মধ্যখানে চর “

অর্থাৎ, এপারে জন্ম ওপারে মৃত্যু মাঝখানে সীমাবদ্ধ জীবন। জীবনের এ সীমাবদ্ধতার জন্যেই সময় এতো বেশি মূল্যবান।

সময়ের বৈশিষ্ট্যঃ

সময়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এর গতিশীলতা। সময়কে জগতের কোন নিয়ম বাধায় বাঁধা সম্ভব না। সময় নদীর স্রোতের মত তার আপন গতিতে চলমান। কেয়ামত পর্যন্ত সময়ের অস্তিত্ব বিরাজমান থাকবে। ঘড়ির কাঁটা যতই সামনে অগ্রসর হয় সময় ততই তার অতীতকে ভারী করে। সময়কে ধরে রাখার ক্ষমতা আল্লাহ্ ছাড়া কারও নেই। আজকের মুহূর্তটি কিছু সময় পরেই অতীত হয়ে যায়। সময় একবার চলে গেলে তা ফিরে পাওয়া অসম্ভব।

সময়ের সদ্ব্যবহারঃ 

ফকির লালন সাইয়ের একটি গান আছেঃ

সময় গেলে সাধন হবে না।

দিন থাকিতে দীনের সাধন

কেন করলে না।

সময় অনন্ত, কিন্তু সীমাবদ্ধ মানুষের আয়ুষ্কাল। কাজেই প্রতিটি মুহূর্তকে যথাযথ কাজে লাগিয়ে ক্ষণস্থায়ী জীবনকে সুন্দর করে তােলা সচেতন মানুষের কাজ জীবনে উন্নতি সাধনের জন্য প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগানাে অপরিহার্য। সময়ের সদ্ব্যবহার বলতে সর্বক্ষণ কেবল কাজে নিমগ্ন থাকাই বােঝায় না। কাজের সময় কাজ, বিশ্রামের সময় বিশ্রাম এবং খেলার সময় খেলা, এটাই সময়ানুবর্তিতা Work while you work and play while you play. পরে করা হবে বলে অযথা সময়ের অপচয় করা উচিত নয়।

কারণ দীর্ঘসূত্রতা হরণ করে সময়কে। নির্ধারিত সময়ের কাজ যথারীতি সম্পন্ন করলেই ক্রমশ সময়ের সদ্ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে ওঠে। সময়কে সর্বদা সৃষ্টিশীল কাজে লাগানাে উচিত। কারণ কথায় বলে, “সময়ের এক ফোঁড় , অসময়ের দশ ফোড়, পৃথিবীর উন্নত দেশগুলাের সমৃদ্ধির মূলে রয়েছে সময়ের প্রতি তাদের সচেতনতা ও সময়ের সদ্ব্যবহার করার প্রবল আগ্রহ। বিন্দু বিন্দু জল নিয়ে যেমন বিশাল সমুদ্র, কণা কণা বালু নিয়ে যেমন সুবিস্তৃত মরুভুমি, তেমনি অসংখ্য মুহূর্তের সমন্বয়ে আমাদের জীবন। তাই এ মুহূর্তগুলোকে আমরা যত সুন্দরভাবে কাজে লাগাবো আমাদের জীবন ততই সুন্দর হবে।

ছাত্রজীবনে সময়ের মূল্যঃ 

ছাত্রজীবনকে বলা যায় জীবন সংগ্রামের প্রস্তুতির সময়। এ সময়ে যেমন বীজ বপন করা হয়, ভবিষ্যতে তেমন ফলই পাওয়া যায়। অধ্যয়নই ছাত্রদের প্রধান কর্তব্য। প্রতিদিনের পড়া পরবর্তী দিনের জন্য ফেলে না রেখে যথাসময়ে শেষ করার মানসিকতা থাকতে হবে। নিয়মিত পাঠাভ্যাসের পাশাপাশি শরীরচর্চা, চরিত্র গঠন, শৃঙ্খলা ও সংযমের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কর্মজীবনে সাফল্য নির্ভর করে ছাত্রজীবনে সময়ের সঠিক মূল্যায়নের ওপর। সুতরাং, শৈশব থেকেই কাজের প্রকৃতি অনুসারে সময়ানুবর্তী হওয়া একান্ত প্রয়ােজন। ছাত্রজীবনের দৈনন্দিন কর্মসূচিকে যারা অবহেলা করে তারাই জীবনের সাফল্যের সােনার কাঠির পরশ থেকে বঞ্চিত হয়। এ প্রসঙ্গে উইলিয়াম শেক্সপিয়ার বলেছেন,

সময়ের প্রতি যাদের শ্রদ্ধা নেই, তারাই পৃথিবীতে নিঃস্ব, বঞ্চিত ও পরমুখাপেক্ষী।

জাতীয় জীবনে সময়ের মূল্যঃ

জাতীয় জীবনে সময়ের মূল্য অপরিসীম। কোনাে জাতির উত্থানপতন নির্ভর করে জাতীয় জীবনের কর্মতৎপরতার উপর। আলস্য, ঔদাসীন্য, অনিয়মানুবর্তিতা যে-কোনাে জাতির অপমৃত্যু ঘটাতে পারে। বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে আমরা দেখি আমরা সময়ের কাজ সময়ে করি না। গালগল্প, পরনিন্দা, পরচর্চা করে আমরা অযথা সময়ের অপচয় করি।

সময়ের মূল্যকে গুরুত্ব দিয়ে পাশ্চাত্যের বহু দেশ উন্নতির চরম শিখরে উঠেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রায় ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়া জাপান সময়ের মূল্যকে সম্মান দিয়েই আজ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। আমাদের বৈশ্বিক ও জাগতিক উন্নয়ন করতে হলে অবশ্যই সময়কে গুরুত্ব দিতে হবে এবং সময়ের কাজ সময়ে করতে হবে।

সময়ই শ্রেষ্ঠ সম্পদঃ

মানবজীবন মূলত কতকগুলাে মুহূর্তের সমষ্টি মাত্র। অতএব, প্রতিটি মুহূর্তই মানুষের জন্য মূল্যবান। সময়ের ক্ষেত্রে ‘সামান্য’ বলে কোনাে কথা নেই। ক্ষণিক মুহূর্তের অপচয় জীবনের সম্ভাবনাময় সুযােগগুলােকে নষ্ট করে দেয়। সময় হচ্ছে মানবজীবনের সবচেয়ে মূল্যবান বিষয়। সময়কে কাজে লাগাতে পারলেই মানুষের জীবনে সাফল্য ধরা দেয়। অতএব, যথাযথভাবে সময়কে কাজে লাগালে মানুষ ধন-সম্পদ, বিদ্যা-বুদ্ধি, যশখ্যাতি সব কিছুই অর্জন করতে পারে।

সময়ের অবহেলার পরিণামঃ

কথায় আছে:

সময়ে যে না দেয় চাষ,

তার দুঃখ বার মাস।

কাজেই জীবনের সংক্ষিপ্ত সীমার মধ্যে যে পরম মূল্যবান সময় আমরা পাই, তাকে যদি অবহেলা করি, আলস্য ভরে সেই মূল্যবান সময় নষ্ট করি, তাহলে তা হয় সময়ের অপচয় মাত্র। সেই অপচয়ের বেদনা আমাদের জীবনে একদিন মর্মান্তিক দুঃখের মতাে নেমে আসবে। তখন বুকফাটা আর্তনাদ করে কিংবা চোখের জল কিংবা অনুতাপের অন্তর্দাহে সেই আলস্যে অতিবাহিত সময় আর কখনােই ফিরে পাওয়া যাবে না। কবি যেমন বলেছেনঃ-

রাত্রে যদি সূর্যশােকে ঝরে অশ্রুধারা

সূর্যকভু ফেরে নাহি, ব্যর্থ হয় তারা।

সময়ানুবর্তিতার অন্তরায়ঃ 

অধৈর্য আর আলস্যই সময়ের যথার্থ ব্যবহারের প্রধান অন্তরায়। কথায় আছে- “অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা।” কর্মক্ষমতা হরণ করে মনে কুচিন্তা অনুপ্রবেশ ঘটানাে অলস মস্তিষ্কের কাজ। সুতরাং, আলস্যকে সযত্নে পরিহার করে স্ব-স্ব আবশ্যকীয় কর্ম সম্পাদনের মাধ্যমে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে প্রাণবন্ত করে তােলা উচিত। এ প্রসঙ্গে মহামতি এডিসন যথার্থ বলেছেনঃ-

“জীবনকে যদি উপভােগ করতে চাও, তবে আলস্যকে দূরে রাখ।”

রােগ-ব্যাধি-জরা সময়ানুবর্তী হওয়ার পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে; কিন্তু যথাযথ শিক্ষা ও সাধনার মাধ্যমের সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারার মধ্যেই সার্থকতা।

সময়কে কাজে লাগানাের উপায়ঃ

কর্মময় জীবনে মানুষকে বহু রকমের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। জীবনে নির্দিষ্ট পরিসীমার মধ্যে এতসব দায়িত্ব এবং কর্তব্য পালন করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। তবে কেউ যদি তার কাজের পরিমাণ বিবেচনা করে সময়কে ভাগ করে নেয়, তাহলে ঠিক সময়ে সে কাজটি সম্পন্ন করতে পারে।

কাজের সময়ের পাশাপাশি অবসর সময়ও চিহ্নিত করে রাখা প্রয়ােজন। কারণ, জীবনে কাজের ফাঁকে ফাঁকে অবসর কিংবা বিনােদনের প্রয়ােজন আছে। এতে করে কাজে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। তাই অবসর কিংবা বিনােদনের সময়টুকুকে সময়ের অপচয় মনে করা যুক্তিযুক্ত নয়। তাছাড়া সময়ের কাজ সময়েই করতে হবে।

যে কৃষক সময়মতাে জমিতে চাষ করে না, উপযুক্ত সময়ে আগাছা ধ্বংস করে না, প্রয়ােজন মতাে সার দেয় না- সে ফসলের আশা কী করে করতে পারে? বিশ্ব বিখ্যাত ফরাসি সম্রাট নেপােলিয়ন ওয়াটারলুর যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে শােচনীয়ভাবে পরাজয় বরণ করেন।

এটিই তার জীবনের একমাত্র পরাজয়। এ পরাজয়ের কারণ, তাঁর জনৈক সেনাপতি সঠিক সময়ে সসৈন্যে যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত হতে পারেননি। উক্ত সেনাপতি মাত্র কয়েক মিনিট বিলম্ব করেছিলেন। এর ফলে জগৎ বিখ্যাত সম্রাটকে পরাজয়ের গ্লানি ভােগ করতে হয়। সেনাপতির যদি এ বিলম্ব না ঘটতাে তাহলে ইউরােপ তথা বিশ্বের ইতিহাস বদলে যেতাে। কেবল নিজে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাই মানবজীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়।

মানুষের গুণগত উন্নতির জন্য যেমন অন্যের কথা ভাবতে হবে, তেমনি আত্মিক বিকাশের জন্য সৃজনশীলতার চর্চা করা আবশ্যক। সময়ের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জগতে কীর্তিমান হওয়া সম্ভব। এ জন্য সম্মুখে আসা কর্তব্য ও দায়িত্বকে ভাগ করে নিতে হবে। উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সে অনুযায়ী কর্তব্য পালনের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। একদিনের কাজ অন্য দিনের জন্য ফেলে রাখা চলবে না। তাছাড়া কাজের সময়ে মতাে অবসর সময়ও চিহ্নিত করে রাখতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  বঙ্গবন্ধুর জীবনী বাংলা রচনা ২০০ শব্দের | বঙ্গবন্ধুর জীবনী বাংলা রচনা
সময়ের গুরুত্বঃ 

বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন বলেছেঃ

জীবনকে যদি তুমি ভালোবাসো, তাহলে সময়ের অপচয় করো না। কারণ, জীবন হচ্ছে সময়ের সমষ্টি মাত্র।

মানবজীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু তার গৌরব চিরস্থায়ী। জীবনের শিক্ষা অফুরন্ত, কর্তব্য অপরিমেয়, কর্মজগতের পরিধি ক্রমবর্ধমান। তাই সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে কর্মের সঙ্গতি বিধান করা উচিত। যথাসময়ে বীজ বপনের ওপর যেমন নির্ভর করে শস্য উৎপাদন, রােগের কারণে উপযুক্ত সময়ে যেমন গ্রহণ করতে হয় ওষুধ, তেমনি সঠিক দায়িত্বের সঙ্গে নিয়মিত পাঠাভ্যাসের মাধ্যমে পরীক্ষায় কাঙ্খিত ফলাফল লাভ করা সম্ভব । জীবন, প্রকৃতি, পরিবেশ সর্বত্রই সময়ের নিবিড় ছকে পরিচালিত হচ্ছে। সময় ও সুযােগকে কাজে লাগাতে পারলে উন্নতির পথ প্রশস্ত হয়, জগতে কীর্তিমান হওয়ার সুযোগ ঘটে। কবি বলেনঃ

“সময়ের মূল্য বুঝে করে যারা কাজ। তারা আজ স্মরণীয় জগতের মাঝ।”

সময়ের মূল্যায়ন ও জীবনে সাফল্যঃ

সময় গতিশীল তা কখনাে থেমে থাকে না। কোনাে লােভ দেখিয়ে, কোনাে ভয় দেখিয়ে সময়কে থামানাে যায় না। সময় নির্মম ও নিষ্ঠুর। অথচ সময়কে কাজে লাগাতে পারলেই জীবনে সফলতা লাভ করা যায়। যার সময় সম্পর্কে জ্ঞান আছে ও পরিমিতিবােধ আছে সে-ই জীবনে সাফল্য লাভ করে। সময়ের অবহেলা করলে সাফল্য সােনার হরিণের মতাে কোনাে দিনই ধরা দেবে না। প্রতিটি মুহূর্তই নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়। যারা সময়কে কাজে লাগাতে পারে তারাই সাফল্য লাভ করে। কিন্তু সময়কে অবহেলা করে অপব্যয় করলে জীবনে মারাত্মক পরিণতি নেমে আসে। কোনাে বিষয়ে সে সফলতার মুখ দেখতে পায় না। কবির ভাষায়ঃ-

“নিতান্ত নির্বোধ যেই শুধু সেই জন।
এ অমূল্য সময় করে বৃথায় যাপন।”

সময়নিষ্ঠ ব্যক্তি ও জাতির উদাহরণঃ 

জগতের প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিদের ইতিহাস পর্যালােচনা করলে দেখা যায় যে, তারা কেউই সময়ের মূল্য সম্পর্কে উদাসীন ছিলেন না। তাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই ছিল প্রাণচঞ্চল এবং কর্মবহুল। কোনাে রকমের অলসতা এবং জড়তা তাদেরকে আচ্ছন্ন করতে পারেনি। গণতন্ত্রের প্রবক্তা আব্রাহাম লিংকন- যিনি সামান্য শ্রমিক থেকে হয়েছিলেন আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের কৃতী প্রেসিডেন্ট। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করার জন্যে প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগিয়েছিলেন অনেক রক্ত বিসর্জন দিয়েছিলেন।

এরিস্টটল – যিনি দিগবিজয়ী বীর আলেকজান্ডারের গৃহশিক্ষক থেকে হয়েছিলেন জগদৃবিখ্যাত দার্শনিক, যিনি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে আছেন আধুনিক সভ্যতা ও জ্ঞানবিজ্ঞানের জনক হিসেবে। বৈজ্ঞানিক নিউটন, আইনস্টাইন, আলভা এডিসন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, শের-এবাংলা এ. কে. ফজলুল হক এমনি বহু মনীষীর নাম এ প্রসঙ্গে বলা যেতে পারে। আর সময়নিষ্ঠ জাতি হিসেবে ইংরেজ, আমেরিকান, জাপানি, ভিয়েতনামি, চাইনিজ, কোরিয়ানদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য।

ইংরেজরা সাংঘাতিক রকমের সময়নিষ্ঠ জাতি, তাই তারা পৃথিবীজোড়া এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল। বহু পরে যে আমেরিকার আবিষ্কার হয়, সেই আমেরিকানরাই সময়কে কাজে লাগিয়ে আজ পৃথিবীর সেরা জাতি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের ফলে যে জাপানিরা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছিল সে জাপান সময়কে কাজে লাগিয়ে দ্রুত নিজেদেরকে আবার গড়ে নিয়েছে। তারা আজ এশিয়ার অহংকার। আমেরিকার সাথে প্রায় দশ বছর যুদ্ধ করে যে ভিয়েতনাম প্রায় ধ্বংস হয়ে পড়েছিল, সে ভিয়েতনামে আজ উন্নয়নের সুবাতাস বইছে। এশিয়ার আরও দুটি দেশ, দক্ষিণ কোরিয়া এবং মালয়েশিয়া আজ উন্নত দেশ হিসেবে বিবেচিত। সময়কে কাজে লাগিয়েই এরা আজ উন্নয়নের স্বর্ণশিখরে অধিষ্ঠিত। অনুন্নত দেশগুলাের সামনে এসব দেশ আজ মডেল হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

বাঙালির সময়জ্ঞানঃ

বাঙালির যে সময়জ্ঞান কম তা বলাই বাহুল্য। এর মূলে রয়েছে বাঙালির প্রাচীন জীবনযাত্রা থেকে প্রাপ্ত অভ্যাস। দীর্ঘকাল ধরে বাঙালির সমাজজীবনের কাঠামাে ছিল গ্রামকেন্দ্রিক। সেখানে জীবনে জটিলতা ছিল কম। অল্প আয়াসে সােনার ফসলে মাঠ ভরে যেত বলে জীবনসংগ্রামের গতি ছিল মন্থর। প্রচুর অবসর মিলত বলে সেকালে বাঙালির জীবনে ছিল বারাে মাসে তের পার্বণের আনন্দ। বাইরের জগৎ কোথায় চলছে সেদিকে বাঙালি খুব একটা ফিরে তাকায় নি। কিন্তু বাঙালির সুখবিভাের অলস-মন্থরতা ভরা জীবনে প্রবল অভিঘাত লাগে এদেশে ইংরেজ আগমনের পর পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রভাবে। দেখা গেল, পৃথিবী যেমন এগিয়ে গেছে তেমনি তাদের সময়-সচেতনতার তুলনায় বাঙালির সময়সচেতনতা রয়েছে অনেক পিছিয়ে। এরপর বাঙালি সময়-সচেতন হতে চেষ্টা করছে। কিন্তু অলস অভ্যাসের জের এখনাে চলছে। বাঙালির সময়জ্ঞান সম্পর্কে যে ঠাট্টা-বিদ্রুপ চলে সে অপবাদ এখনও আমরা মােচন করতে পারি নি।

সময়ের অপব্যবহার ও আমাদের কর্তব্যঃ

যারা সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগায় না ও সময়ের মূল্য দেয় না, তাদের জীবনাকাশ ঘনকালাে মেঘে আচ্ছন্ন। ‘ওয়াটার-লু’র যুদ্ধে নেপােলিয়নের সেনাপতি নির্দিষ্ট সময়ের কিছুক্ষণ পরে সসৈন্যে যুদ্ধক্ষেত্রে হাজির হওয়ায় নেপােলিয়নের শােচনীয় পরাজয় হয়েছিল। একটি জার্মান ছড়ায় বলছে :

For want of a nail, the shoe is lost.

For want of a shoe, the horse was lost,

For want of a horse, the rider was lost.

For want of a rider, the battle was lost,

For want of a battle, the kingdom was lost

And all for the want of a horse shoe nail.

অর্থাৎ একটি পেরেকের অভাবে ঘােড়ার খুর কাজ করেনি। খুরের সমস্যার ফলে ঘােড়া কাজ করে নি। ঘােড়া না থাকাতে অশ্বারােহী সৈন্য পাওয়া যায় নি। অশ্বারােহী সৈন্যের অভাবে যুদ্ধে হেরে যেতে হল। যুদ্ধে হেরে যাওয়াতে রাজত্ব হারাতে হল। আর এ সবকিছুই ঘটেছিল সময়মতাে ঘােড়ার খুরের একটি পেরেকের অভাবে। মনে রাখতে হবে যে, ‘সময়ে একফোঁড় অসময়ে দশ ফোঁড়’। সময় মতাে একটি পেরেকের জোগান না দিতে পারায় জীবনযুদ্ধে হেরে যেতে হয়েছে। এমনিভাবে সময়ের অপব্যবহারে বহু প্রতিভাবান ও শক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি জীবনযুদ্ধে হেরে গেছেন। সময়ের কোন মহর্তটি যে মূল্যবান তা কেউ জানে না বলেই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকেই মহামূল্যবান ভেবে কাজে লাগাতে হবে। সময়ের অবহেলা মানে জীবনকে অবহেলা করা। ঘড়ির কাঁটাটি টিক টিক করে যেন ঠিক এ কথাটিই বলে চলেছে ‘সাবধান! আমাকে ভুলাে না, তােমার সুপ্ত চৈতন্য জাগ্রত কর, কল্যাণ তােমারই হবে।’

উপসংহারঃ

ইংরেজিতে বলা হয়, “Time is money” অর্থাৎ সময়ই অর্থ। সীমাবদ্ধ জীবনে উন্নতির সােপান হলাে সময়ের মূল্য অনুধাবন করা। সময়ের সঠিক ব্যবহার জীবনকে করে মহিমান্বিত। মানুষের মূল্যবান এ জীবন বারেবারে আসে না, একবারই আসে। মানুষের উচিত তার এ জীবনকে কানায় কানায় পরিপূর্ণ করে তােলা। এজন্য সময়ানুবর্তিতা একান্ত প্রয়ােজন। অতীতে তারাই সফল হয়েছে, যারা সময়ের মূল্য দিয়েছে। ভবিষ্যতেও তারাই সফল হবে যারা সময়কে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে। মানুষের চরম ও পরম পাওয়ার মূলে রয়েছে সময়ের প্রতি সচেতনতা আর সময়ের সঠিক মূল্যায়ন। সফল ব্যক্তিদের সাফল্যের চাবিকাঠি এর মধ্যে নিহিত রয়েছে। সুতরাং জীবনকে অর্থবহ করতে, দেশ ও জাতিকে সমৃদ্ধ করে তুলতে আমাদের প্রত্যেকেরই সময়ের মূল্য অনুধাবন করা উচিত।

শেষ কথা

সময়ানুবর্তিতা হল সময়ের কাজ সময় মত করা। এটি একটি মূল্যবান গুণ যা আপনাকে আপনার জীবনের অনেক ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে। সময়নিষ্ঠ হলে অন্যের দৃষ্টিকোনে আপনি নির্ভরযোগ্য, দায়িত্বশীল এবং অন্য লোকেদের সময়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

সময়নিষ্ঠ হওয়ার অনেক সুবিধা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ,সময়নিষ্ঠ হওয়া আপনাকে যেভাবে সাহায্য করতে পারে:
  • আপনার কাজে এগিয়ে নিতেমানসিক চাপ এবং উদ্বেগ এড়িয়ে যেতে
  • অন্যদের সাথে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলুন
  • আপনার সহকর্মী এবং সুপারভাইজারদের সম্মান অর্জন করতে
  • আপনার কর্মজীবনে আরও সফল হতে।

উপসংহারে, সময়ানুবর্তিতা রচনা একটি মূল্যবান গুণ যা আপনাকে জীবনে সফল হতে সাহায্য করে। এটি দেখায় যে আপনি নির্ভরযোগ্য, সংগঠিত এবং অন্য লোকেদের সময়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আপনি যদি সফল হতে চান তবে সময়নিষ্ঠ হওয়ার অভ্যাস করুন। এটি একটি ছোট পরিবর্তন যা অন্যদের তুলনায় আপনার মধ্যে বড় পার্থক্য করতে পারে।

আজ এই পর্যন্ত ছিল সময়ানুবর্তিতা রচনা ২০ পয়েন্ট বা সময়ানুবর্তিতা রচনা নিয়ে রচনা। এই রচনাটি স্কুল পর্যায়ে সকল শ্রেনীর জন্য উপযুক্ত রচনা। প্রিয় ভিজিটর আশাকরি আপনাদের সময়ানুবর্তিতা রচনা ২০ পয়েন্ট পোষ্টটি ভালো লেগেছে। ভালো লাগলে আমাদের আরো অনেক পোষ্ট আছে সেগুলোও দেখবেন দয়াকরে। আমাদের আরেকটি পোষ্ট Online Income এর রাজা Self Shopping। যা আপনাদের সবার উপকারে আসবে। আপনারা অবশ্যই এই পোষ্টটি পড়বেন। 

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these

Share via
Copy link