জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন কবিতার মূলভাব | বলতা সেন কবিতার মূলভাব

জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন কবিতার মূলভাব | বলতা সেন কবিতার মূলভাব
জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন কবিতার মূলভাব
জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন কবিতার মূলভাব

“বনলতা সেন” 

কবিঃ জীবনানন্দ দাশ

হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন।
চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের ’পর
হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর,
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে , ‘এতোদিন কোথায় ছিলেন?’
পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।
সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন
সন্ধ্যা আসে; ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল;
পৃথিবীর সব রঙ নিভে গেলে পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন
তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল;
সব পাখি ঘরে আসে — সব নদী- ফুরায় এ-জীবনের সব লেনদেন;
থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।

   জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন কবিতার মূলভাব   

বনলতা সেন কবিতার মূলভাব ও বিশ্লেষণঃ কবিতাটির প্রথম স্তবকে হাজার বছর ব্যাপী ক্লান্তিকর এক ভ্রমণের কথা বলেছেন কবি: তিনি হাজার বছর ধরে পৃথিবীর পথে পথে ঘুরে ফিরেছেন;- যার যাত্রাপথ সিংহল সমুদ্র থেকে মালয় সাগর অবধি পরিব্যাপ্ত। তার উপস্থিতি ছিল বিম্বিসার অশোকের জগতে যার স্মৃতি আজ ধূসর। এমনকী আরো দূরবর্তী বিদর্ভনগরেও স্বীয় উপস্থিতির কথা জানাচ্ছেন কবি। এই পরিব্যাপ্ত ভ্রমণ তাকে দিয়েছে অপরিসীম ক্লান্তি। এই ক্লান্তিময় অস্তিত্বের মধ্যে অল্প সময়ের জন্য শান্তির ঝলক নিয়ে উপস্থিত হয়েছিল বনলতা সেন নামের এক রমণী। কবি জানাচ্ছেন সে নাটোরের বনলতা সেন।
Order করুন Gadget 24
কবিতাটির দ্বিতীয় স্তবকে বনলতা সেনের আশ্চর্য নান্দনিক সৌন্দর্যের বর্ণনা দিয়েছেন কবি। বনলতা সেনকে কবি প্রত্যক্ষ করেছেন অন্ধকারে। তার কেশরাজি সম্পর্কে কবি লিখেছেন : “চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা”; মুখায়ব প্রতীয়মান হয়েছে শ্রাবস্তীর কারুকার্যের মতো। বনলতাকে দেখে গভীর সমুদ্রে হাল-ভাঙ্গা জাহাজের দিশেহারা নাবিকের উদ্ধারলাভের অনুভূতি হয়েছে কবির, যেন একটি সবুজ ঘাসের দারূচিনি দ্বীপ সহসা ঐ নাবিকের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বনলতা সেনও তার পাখির নীড়ের মতো আশ্রয়ময় চোখ দুটি তুলে জানতে চেয়েছে, “এতদিন কোথায় ছিলেন?

তৃতীয় স্তবকটি স্তগতোক্তির মতো মৃদু উচ্চারণে একটি স্বপ্ন-উণ্মোচনের কথা শোনা যায়। কবি জানাচ্ছেন (হেমন্তের) দিন শেষ হয়ে গেলে সন্ধ্যা আসে, ধীরে, ধীরলয়ে শিশিরপাতের টুপটাপ শব্দের মতো। তখন (দিনভর আকাশচারী) চিলের ডানা থেকে রোদের গন্ধ মুছে যায়। এ সময় পাখিদের ঘরে ফিরে আসার তাড়া; এসময় (যেন) সব নদীরও ঘরে ফেরার ব্যাকুলতা। পৃথিবীর সব আলো মুছে যায়; অন্ধকারে কেবল কয়েকটি জোনাকি জ্বলে। সারাদিনের জাগতিক সব লেনদেন সমাপ্ত হয়েছে; গল্পের পাণ্ডুলিপি তৈরি; তখন (কেবল) অন্ধকারে বনলতা সেনের মুখোমুখি বসে গল্প করার অবসর।

আরও পড়ুনঃ  কবিতাঃ স্বাধীনতা তুমি - শামসুর রাহমান

শেষ কথাঃ 

প্রিয় ভিজিটরস আমাদের আজকের জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন কবিতার মূলভাব ব্লগপোষ্টটি পড়ে কেমন লাগলো আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাবেন কিন্তু। আমি আশাকরি বলতা সেন কবিতার মূলভাব লেখাটি বেশ উপভোগ করেছেন এবং শিক্ষা অর্জন করেছেন। জাইহোক ভালো থাকবেন এছাড়া আমাদের অন্যান্য পোষ্টগুলো পড়ুন ও আনন্দিত হোন।
TAG: জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন কবিতার মূলভাব,বলতা সেন কবিতার মূলভাব,বনলতা সেন কবিতার মূলভাব pdf,নাটোরের বনলতা সেন কবিতার মূলভাব,বনলতা সেন কবিতার মূলভাব কি,নাটরের বনলতা সেন,নাটোরের বনলতা সেন,বনলতা সেন কে,বনলতা সেন কবিতা লিরিক্স,বনলতা সেন কবিতার ব্যাখ্যা,বনলতা সেন কবিতার প্রেম ভাবনা,বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থ সমালোচনা,নাটোরের বনলতা সেন কবিতা লিরিক্স,সুরঞ্জনা ও বনলতা সেন,জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন,বনলতা সেন কবিতার বিষয়বস্তু,পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন,বনলতা সেন কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
Thank You All

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these

Share via
Copy link