ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত কে ছিলেন ও ভাষা আন্দোলনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ভূমিকা

২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

রাষ্ট্র ভাষা ‘বাংলা’ করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান একজন সনাতন ধর্মাবলম্বীর। কিন্তু যখনই ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ কথাটি আসে তখনই সর্বপ্রথম মনেপরে রফিক, শফিক, সালাম, জব্বারদের কথা। এর কারণ বই পুস্তকে তাদের হাইলাইট করা হয়েছে অতিমাত্রায় এবং যখন এই মহা দিবসটি পালন করা হয় তখন অধিকাংশ অনুষ্ঠানেই শিক্ষার্থীদের ওই রফিক, শফিক, জব্বারদের গল্প শুনানো হয়। হ্যাঁ, তারা প্রাণ দিয়েছিল, তাদেরকে শ্রদ্ধাপূর্বক গভীরভাবে স্মরণ করা অবশ্যই কর্তব্য, কিন্তু উদ্যোগতাকে ভুলে গিয়ে নয়। এখন হয়তো বলবেন উনার নাম বই পুস্তকে আছে। কিন্তু একটু পরীক্ষা করলেই বাস্তবতা বুঝতে পারবেন। আপনার এলাকায় ৮-১০ টা ছেলেমেয়েকে জিজ্ঞাসা করুন তো, বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করার প্রস্তাব কে সর্বপ্রথম রাখেন? আমি সিউর, অধিকাংশ ছেলেমেয়েই বলতে পারবে না। 

আরও পড়ুনঃ  অনলাইন জন্ম নিবন্ধন যাচাই করণ | অনলাইন জন্ম নিবন্ধন যাচাই বাংলা

পাকিস্তান স্বাধীন হয় ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট। মাত্র ছয় মাসের মাথায় করাচিতে ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ সালে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে যিনি স্পষ্ট ভাষায় দাবি তুলেন- “বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা হোক”, সেই মানুষটির নাম ‘ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত’। ধীরেন্দ্রনাথ দত্তই সর্বপ্রথম বাংলা ভাষার দাবী তুলে ছিলেন। 

ধীরেন্দ্রদত্তের সেই দাবি পাকিস্তান পার্লামেন্টে  প্রত্যাখ্যাত হয়, তারপরই ভাষা আন্দোলনের সূচনা ঘটে। ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পাকিস্তান পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ‘‘পূর্ব পাকিস্তানের ৬ কোটি ৯০ লাখ মানুষের মধ্যে ৪ কোটি ৪০ লাখ মানুষ বাংলায় কথা বলে, তাই আমার বিবেচনায় বাংলা হওয়া উচিত রাষ্ট্রভাষা।’’ তার এই বক্তব্যকে জিন্নাহর ‘‘উর্দু হবে রাষ্ট্রভাষা’’ ঘোষণার প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ বলা যায়। সুতরাং তাঁকে ‘ভাষা আন্দোলনের জনক’  বললেও ভুল হবে না।

আরও পড়ুনঃ  নতুন বছরের বাংলা ক্যালেন্ডার ১৪৩০ | বাংলা ক্যালেন্ডার ২০২৩

আজ আমরা উনাকে মনেই রাখি না। অথচ পাকিস্তানের শাসকেরা তাঁকে মনে রেখেছিল! 

ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে ১৯৭১ সালের ২৯শে মার্চ পাক আর্মিরা ধরে নিয়ে ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে। ৮৪ বছর বয়সী মানুষটিকে হাত-পা ভেঙ্গে পঙ্গু এবং দুই চোখে কলম ঢুকিয়ে অন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। মৃত্যুর পর গায়ে থুতু দেয়ার জন্য তাঁর মরদেহ বাইরে রেখে দেয়া হয়েছিল। 

শহীদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্তকে স্মরণ করছি কৃতজ্ঞচিত্তে। আপনার আত্মা মুক্ত থাকুক। 

লেখায়ঃ শাস্ত্রপৃষ্ঠা

TAG: ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত কে ছিলেন ও ভাষা আন্দোলনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ভূমিকা,dhirendranath,ভাষা আন্দোলনের পটভূমি,ভাষা আন্দোলন,বাংলাদেশের ইতিহাস ও সভ্যতা,বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস,মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস,ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ব্যাখ্যা। 

Thank You All

About the Author

One thought on “ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত কে ছিলেন ও ভাষা আন্দোলনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ভূমিকা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these

Share via
Copy link