কোভিড ১৯ রচনা বাংলা | করোনা ভাইরাস রচনা

কোভিড ১৯ রচনা বাংলা

প্রিয় বন্ধুরা কেমন আছেন সবাই? আশাকরি সবাই ভাল আছেন। ২০১৯ সালে চীনের উহানে একটি নতুন ভাইরাস (কোভিড-১৯) করোনা সনাক্ত করা হয়েছিল। নতুন একটি ভাইরাস যা আগে কখনো মানুষের মধ্যে দেখা যায়নি। আজকে আমরা এই কোভিড ১৯ রচনা বাংলা সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করব।

কোভিড ১৯ রচনা বাংলা
কোভিড ১৯ রচনা বাংলা

এছাড়া যারা পরিক্ষার জন্য করোনা ভাইরাস রচনা খুজছেন তাদের জন্য আমাদের আজকের এই পোষ্ট। যারা অনলাইন ইনকামে আগ্রহী অর্থাৎ Online Income BD তে আগ্রহী তারা আমাদের এই পোষ্টটি পড়তে পারেন বাংলাদেসশের সেরা ই-কমার্স সাইট এ আয় করুন

  কোভিড ১৯ রচনা বাংলা   

ভূমিকাঃ

ভাইরাসের একটি শ্রেণিকে করোনা ভাইরাস বোঝায় যা স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং পাখিদেরকে আক্রান্ত করে। মানুষের মঝে করোনা ভাইরাস শ্বাসনালীতে সংক্রমণ ঘটায়। এই সংক্রমণের লক্ষণ কম হতে পারে, যা সাধারণ সর্দি-কাশির ন্যায় মনে হয়,কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে তা অন্যান্য মারাত্মক ভাইরাসের জন্য হয়ে থাকে যেমন সার্স, মার্স এবং কোভিড-১৯।

অন্যান্য প্রাণিকূল প্রজাতিতে এই লক্ষণের তারতম্য দেখা যায়। যেমন মুরগির ক্ষেত্রে এটা ঊর্ধ্ব শ্বাসনালীর সংক্রমণ ঘটায়, গরু ও শূকরের ক্ষেত্রে এটি ডায়রিয়া হিসাবে কাজ করে। তবে করোনা ভাইরাস দ্রুত সংক্রমণকারী ভাইরাস। আক্রান্ত ব্যাক্তির হাচি কাশি বাতাসের মাধ্যমে এটি দ্রুত থেকে ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস। সেজন্য করোনা ভাইরাস থেকে বেঁচে থাকতে হলে আমাদের পরিষ্কার মাস্ক পরিধান করা এবং মানব দূরত্ব বজায় রাখা উচিত। সেই সাথে যত দ্রুত সম্ভব সকলের ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে হবে।

ইতিহাসের পাতায় মহামারীঃ 

বিশ্বজুড়ে মহামারীর এই ইতিহাস অত্যন্ত নির্মম এবং বেদনাদায়ক। কখনো মহামারী এসেছে কলেরা রূপে, কখনো বা নেমে এসেছে ভয়ানক কৃষ্ণমৃত্যু বা প্লেগের অভিশাপ, কখনো জিকা ভাইরাস, কখনো ইবোলা, আবার কখনো এসেছে স্প্যানিশ ফ্লু। আর এই তালিকায় সর্বাধুনিক সংযোজন করোনা ভাইরাস। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে, পৃথিবী জুড়ে বিভিন্ন স্থানে নানাধরনের মহামারী হানা দিয়ে প্রাণ কেড়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষের। সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে জনসংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই মহামারীর প্রকোপ আরো তীব্রভাবে অনুভূত হবার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।

করোনা ভাইরাস অনুচ্ছেদ রচনা বাংলাদেশ
করোনা ভাইরাস অনুচ্ছেদ রচনা বাংলাদেশ

নামকরনঃ 

করোনাভাইরাস‘ নামটির উৎপত্তি হয় ল্যাটিন শব্দ ‘করোনা’ থেকে যেটির অর্থ হচ্ছে ‘মুকুট’। করোনা শব্দটি গ্রিক থেকে এসেছে যার অর্থ ‘মালা‘। ভাইরাস জীবগোষ্ঠীর অন্তর্গত নাকি জড়, সে ব্যাপারে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিস্তর মতপার্থক্য আছে। তাই ভাইরাসকে একটি রোগ বহনকারী বীজাণু রূপে ধরে নেওয়াই বাঞ্ছনীয়।অন্যদিকে, আমাদের আলোচ্য ভাইরাসটির নাম করোনা হওয়ার কারণ হল এর আকৃতি। ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ এ পর্যবেক্ষিত এই ভাইরাসটির শরীরজুড়ে খাজকাটা অসংখ্য কন্টক একে আপাতভাবে একটি রাজমুকুটের আকার দেয়। এই ভাইরাসটি ভাইরাসগোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যদের তুলনায় আয়তনে বেশ খানিকটা বড়। এটি ডায়ামিটারে ০.০৬ মাইক্রন থেকে ০.১৪ মাইক্রন বা গড়ে ০.১২৫ মাইক্রন পর্যন্ত হয়ে থাকে। 

আরও পড়ুনঃ  পড়ুন বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা | বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা ২০ পয়েন্ট

পড়ুনঃ 

ইতিহাসঃ 

করোনাভাইরাস এর উৎস সম্পর্কে পৃথিবীজুড়ে আজও সমূহ বিতর্ক বিদ্যমান। কারোর মতে এই ভাইরাস কৃত্রিম উপায়ে গবেষণাগারে তৈরি; আবার কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ মনে করেন এই ভাইরাসের উৎস হলো বাদুড়। তবে কোন মহলই এই ব্যাপারে ঐক্যমতে পৌঁছতে পারেননি।যে একটি ব্যাপারে মোটামুটি সকলেই নিশ্চিত তা হল এই ভাইরাসের গ্রাউন্ড জিরো। অর্থাৎ এর সংক্রমণ সর্বপ্রথম কোথা থেকে শুরু হয়েছিল। কোভিড-১৯ মহামারীর জন্য দায়ী ছিল করোনাভাইরাস। এটি একটি সংক্রামক রোগ যা লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করেছে। মহামারীটি বিভিন্ন উপায়ে সারা বিশ্বের মানুষকে প্রভাবিত করেছে। এটি 2019 সালে চীনের উহানে প্রথম আবিষ্কৃত হয়। তবে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এটিকে 2020 সালের মার্চ মাসে মহামারী ঘোষণা করে, দাবি করে যে এটি দাবানলের মতো বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। মহামারী লক্ষাধিক মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। যারা সংক্রামিত হয়েছিল তাদের জন্য ভাইরাসটির নেতিবাচক পরিণতি ছিল, যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী ব্যাধির বিকাশ।

করোনা ভাইরাসের ব্যাপকতাঃ 

শ্বাসতন্ত্রের অন্যান্য অসুস্থতার মতো এই ভাইরাসের ক্ষেত্রেও সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা এবং জ্বরসহ হালকা লক্ষণ দেখা দিতে পারে । কিছু মানুষের জন্য এই ভাইরাসের সংক্রমণ মারাত্মক হতে পারে। এর ফলে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট এবং অর্গান বিপর্যয়ের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। তবে খুব কম ক্ষেত্রেই এই রোগ মারাত্মক হয়। এই ভাইরাস সংক্রমণের ফলে বয়স্ক ও আগে থেকে অসুস্থ ব্যক্তিদের মারাত্মকভাবে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। যে কোন বয়সের মানুষই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। তবে একটি বিষয় লক্ষ্যণীয় যে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। প্রধানত: আগে থেকে অসুস্থ বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাস মারাত্মক হতে পারে। তবে শহরাঞ্চলের দরিদ্র শিশুদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে। এসব প্রভাবের মধ্যে রয়েছে বিদ্যালয় বন্ধ থাকা। 

করোনা ভাইরাস অনুচ্ছেদ রচনা বাংলা class 10
করোনা ভাইরাস অনুচ্ছেদ রচনা বাংলা class 10

কোভিড-১৯ এর সহ-রোগগুলির মধ্যে আমরা সবচেয়ে বেশী দেখতে পাই ডায়াবেটিস; এছাড়াও বিবিধ রোগের তালিকায় রয়েছে উচ্চরক্তচাপ এবং হৃদরোগ, কিডনীর রোগ, হাঁপানি এবং ক্যান্সার। আমাদের শরীর যখন কোন ভাইরাস হাইজ্যাক করে, তখন আমাদের দেহকোষ থেকে এক ধরণের রাসায়নিক নির্গত হয়, যার নাম ইন্টারফেরন্স। এই রাসায়নিক আসলে শরীরের অন্যান্য অংশ এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য একধরণের সতর্কবার্তা। কিন্তু করোনাভাইরাসের এক দারুণ ক্ষমতা আছে এই রাসায়নিক সতর্কবার্তাকে থামিয়ে দেয়ার। যার ফলে এই ভাইরাসটি আপনার শরিরে বাসা বাধলেও প্রাথমিকভাবে কোন লক্ষণ পরিলক্ষিত হয় না বা কোণ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় না। সাধারণভাবে ধারণা করা হয় করোনা ভাইরাসের সুপ্তকাল ১৪ দিন। একটি সময় যখন ভাইরাসটি আপনার শরীরে ছড়িয়ে পড়ে তখন বিভিন্ন সিমটম দেখা দিতে শুরু করে।

আরও পড়ুনঃ  বাংলা রচনাঃ ছাত্রজীবন অথবা, ছাত্র জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রাথমিক লক্ষণঃ

জ্বর, অবসাদ, শুষ্ক কাশি, বমি হওয়া, শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যথা, মাথা ব্যথা, পেটের সমস্যা, মুখ ও নাকের স্বাদ হারিয়ে যাওয়া, পায়ের পাতায় র্যাস হওয়া, হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ে, শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে উপর্যুক্ত সকল উপসর্গ দেখা গেলেও জ্বর থাকেনা।

পড়ুনঃ 

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবঃ 

২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাসের একটি প্রজাতির সংক্রামণ দেখা দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভাইরাসটিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ‘২০১৯-এনসিওভি’ বা নোভেল করোনা ভাইরাস নামকরণ করে। নেকেই অনুমান করছেন নতুন এ প্রজাতিটি সাপ অথবা বাদুড় থেকে এসেছে যদিও অনেক গবেষক এ মতের বিরোধীতা করেন। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় ৮ই মার্চ ২০২০ সালে। এর পর ১৯ মার্চ সত্তরোর্ধ্ব এক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি অ্যামেরিকা প্রবাসী একজনের সংস্পর্শে এসেছিলেন। কয়েক দিন পরে আরো একজন সত্তরোর্ধ্ব ব্যক্তি মারা যান, যিনি বিদেশি কারো সংস্পর্শে আসেননি বলে দাবি তার স্বজনদের। এভাবেই বাংলাদেশে বিস্তার লাভ করে করোনা ভাইরাস এর প্রকোপ।

করোনাভাইরাসের বিস্তার কমাতে করণীয়ঃ 

ইতিপূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে কোভিড-১৯ এর নির্দিষ্ট চিকিৎসা বলে কোন কিছু নেই। উপসর্গ অনুযায়ী এর চিকিৎসা হয়ে থাকে। তাই এই ভাইরাস থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হল ভ্যাক্সিনেশন বা টিকাকরণ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। নিয়োমিত এবং পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আপনার দুই হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন ( কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে) বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে আপনার হাত পরিষ্কার করুন। কারণ, সাবান জল দিয়ে বা অয়ালকোহল ভিত্তিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার আপনার হাতের ভাইরাসকে মেরে ফেলে। হাচি কাশি শিষ্টাচার মেনে চলুন। কাশি বা হাচি দিচ্ছে এমন ব্যাক্তির থেকে নিজেকে ১ মিটার কিংবা ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন। কারণ যখন কেউ কেউ কাশি বা হাচি দেয় তখন তাদের নাক বা মুখ থেকে ছোট ছোট তরল ফোটা ছড়িয়ে পড়ে যার মধ্য ভাইরাস থাকতে পারে। যদি আপনি খুভ কাছাকাছি থাকেন, তবে আপনিও ঐ ব্যাক্তির থেকে কোভিড ১৯ এ আক্রান্ত হতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ  ১৫ আগস্ট সম্পর্কে রচনা | জাতীয় শোক দিবস
করোনা ভাইরাস অনুচ্ছেদ রচনা বাংলা pdf
করোনা ভাইরাস অনুচ্ছেদ রচনা বাংলা pdf

চোখ, নাক এবং মুখ স্পর্শ করা এড়িয়ে চলুন। কারণ হাত অনেক জিনিস স্পর্শ করে এবং তাতে ভাইরাস হাতে আসতে পারে। নিশ্চিত হোন যে আপনি এবং আপনার আশে পাশের মানুষরা হাচি কাশি শিষ্টাচার মেনে চলছেন।

আপনার শরীর অসুস্থ লাগলে আপনি বাড়িতেই অবস্থান করুন। আপনার যদি সর্দি, জ্বর-কাশি হয় কিংবা শ্বাস নিতে সমস্যা হয় তাহলে তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিনএবং আগে থেকেই যোগাযোগ করুন। স্থানীয় স্বাস্থ কর্তৃপক্ষের নির্দেশাবলী অনুসরণ করুন। সর্বশেষ কোভিড ১৯ সংক্রমণের হটস্পট গুলি সম্পর্কে সচেতন থাকুন। সম্ভব হলে ওইসব যায়গা থেকে ভ্রমণ এড়িয়ে চলুন।

উপসংহারঃ 

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এর সর্বশেষ তথ্য সম্পর্কে অবগত থাকুন। সচেতনতাই একমাত্র উপায় সুস্থ থাকার। আমরা সকলেই নিয়মিত মাস্ক পরিধান করবো। শারিরীক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করবো। স্বাস্থ বিভাগের নির্দেশনা মেনে চলবো। যত দ্রুত সম্ভব নিজে ভ্যাক্সিন নেবো এবং পরিবারের সকলকে ভ্যাক্সিন নিতে আগ্রহী করে তুলবো। ভাইরাস কখনো শেষ হবার নয়, তাই বলে পৃথিবী থেমে থাকবে না। একটা সময় ভাইরাসকে সঙ্গি করেই আমাদেরকে বেচে থাকতে শিখতে হবে। তাই সকলে মিলে সুন্দর একটি প্রথিবী গড়ার প্রত্যয়ে স্বাস্থ সচেতনতা মেনে চলি।

শেষকথাঃ

কেমন লাগলো আমাদের আজকের এই আয়োজন কোভিড ১৯ রচনা বাংলা। যারা পরিক্ষার জন্য করোনা ভাইরাস রচনা খুজছিলেন। তাদের জন্য আজ আমরা লিখেছি এই করোনা ভাইরাস রচনা pdf। সবাই এই রচনাটি পড়ে খাতায় নোট করে ফেলুন। এতে করে আপনি তারাতারি রচনাটি আয়ত্ত করতে পারবেন। এছাড়া আপনি চাইলে আমাদের অন্যান্য রচনাগুলি পড়তে পারেন। ধন্যবাদ সবাইকে সাথে থাকার জন্য। 

পড়ুনঃ 

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these

Share via
Copy link