আমাদের গ্রাম রচনা ক্লাস 7 | আমাদের গ্রাম রচনা ক্লাস 6 | আমাদের গ্রাম রচনা

আমাদের গ্রাম রচনা
আমাদের গ্রাম রচনা

আমাদের গ্রাম রচনাটি ক্লাস , , , এর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি রচনা। শহরে বসবাস করা অনেক শিক্ষার্থীদের নিজ চোখে গ্রামের সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগই হয় না। কিন্তু যারা গ্রামে গেছে, গ্রাম দেখেছে তাঁরা খুবই সহজে আমাদের গ্রাম রচনাটি নিজেই লিখে ফেলতে পারবে।

প্রবন্ধ রচনা আমাদের গ্রাম

ভূমিকা: 

আমাদের গ্রামের নাম তারাটি। ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলা শহর থেকে মাত্র ১ কি. মি. উত্তর দিকে আমাদের গ্রামটি অবস্থিত। প্রতিটি মানুষের কাছে তার জন্মভূমি খুবই প্রিয়। তাই কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর নিজ মাতৃভূমির কথা বলতে গিয়ে কবির গ্রামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নদীর পানিকে মায়ের দুধের সাথে তুলনা করেছেন। আমার কাছেও আমার গ্রাম পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র ও মনোরম।

“তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,

গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়;

মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি

মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি,

মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভাইয়ের স্নেহের ছায়,

তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়” – জসীমউদ্দিন


গ্রামের অবস্থান: 

আমাদের গ্রামের নাম রতনপুর। এটি ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার অন্তর্গত। এর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ইছামতী নদী। নদীর দুপাশের প্রাকৃতিক শােভা এ গ্রামকে অপূর্ব সৌন্দর্য দান করেছে। ঢাকা থেকে সড়ক পথে খুব সহজেই আমাদের গ্রামে আসা যায়। 


গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য: 

আমাদের গ্রামখানি ছবির মতাে। আম-জাম, কাঁঠাল-লিচু, নারিকেল-সুপারি, শিমুল-পলাশ, তাল-তমাল আর নানাজাতের গাছপালায় সুসজ্জিত আমাদের এই গ্রাম। ঝােপঝাড় লতাপাতার নিবিড় ঘনিষ্ঠতা সবার মন কেড়ে নেয়। পাখপাখালির কলকূজনে সব সময়ই মুখর থাকে গ্রামখানি। দিগন্তবিস্তৃত ফসলের মাঠ, ধান-কাউনের হাতছানি, নিঝুম দুপুরে বটের ছায়ায় রাখালের বাঁশি উদাস করে মনপ্রাণ। দিঘী-ডােবা, বিল-ঝিল- কী এক অপূর্ব সৌন্দর্যের সঞ্চয়! 

“ছোট্ট হলেও গ্রামটা মোদের সকল গ্রামের সেরা,

সোনা দিয়ে তৈরী এ গ্রাম

মায়া-মমতায় ঘেরা!

সবুজ ঘাসেতে ভরা মাঠ-ঘাট

দেখতে লাগে বেশ,

গ্রাম-বাংলার রূপ যে কভু

দেখা হয়না শেষ!”- গ্রাম-বাংলার স্মৃতি

-সৈয়দ শরীফ-


গ্রামের মানুষ: 

আমাদের গ্রামে মুসলমান, হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মের মানুষ বাস করে। তাদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক কোনাে ভেদাভেদ নেই। প্রত্যেকেই প্রত্যেকের ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই সব মানুষ এখানে সুখে-শান্তিতে বসবাস করে। 

আরও পড়ুনঃ  আমার প্রিয় ঋতু বর্ষাকাল রচনা | প্রিয় ঋতু বর্ষাকাল রচনা

আমাদের সাইটের আরও রচনা পড়ুনঃ

আমাদের দেশ রচনা ক্লাস ৫ | আমাদের দেশ রচনা ক্লাস 4

বাংলা রচনা শেখ রাসেল | আমার বন্ধু শেখ রাসেল

মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার – প্রবন্ধ রচনা

মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতা ও মানবিক মূল্যবোধ রচনা | রচনা মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতা ও মানবিক মূল্যবোধ

শঙ্খ ঘোষ প্রবন্ধ রচনা | শঙ্খ ঘোষ প্রবন্ধ রচনা class 12

করোনা ভাইরাস অনুচ্ছেদ রচনা বাংলা | করোনা ভাইরাস রচনা

স্বপ্নের পদ্মা সেতু রচনা ১২০০ শব্দ | পদ্মা সেতু রচনা ১০০

বঙ্গবন্ধুর জীবনী বাংলা রচনা ১০০০ শব্দ | বঙ্গবন্ধুর জীবনী ও কর্ম রচনা | বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ রচনা

ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য – রচনা 

গ্রামের মানুষের জীবিকা: 

আমাদের গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। এছাড়া কিছু জেলে এবং তাঁতিও এখানে রয়েছে। কিছু মানুষ লেখাপড়া শিখে শহরে চাকরি করে। তবে সে সংখ্যা নিতান্তই কম। এছাড়া কিছু মানুষ দিনমুজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করে। 


গ্রামের অর্থনৈতিক উৎস: 

বাংলাদেশের বেশিরভাগ গ্রামের মানুষই কৃষির উপর নির্ভরশীল। তবে আমাদের গ্রামের চিত্র একটু ভিন্ন। গ্রামের বেশিরভাগ পরিবারেরই একজন করে দেশের বাইরে থাকে। তাদের পাঠানাে। বৈদেশিক মুদ্রা এ গ্রামের মানুষের আর্থিক অবস্থাকে মজবুত করেছে। গ্রামের আয়ের আরেকটি বড় উৎস কুটির শিল্প। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই নকশীকাঁথা, উলের তৈরি গালিচা, পাটের তৈরি নানা গৃহসজ্জার পণ্য তৈরি হয়। এগুলাে শহরে বিক্রি করে গ্রামের মানুষ প্রচুর অর্থ আয় করে। এছাড়া কৃষিজাত পণ্য যেমন : ধান, পাট, গম ও নানা ধরনের সবজি তরকারি বিক্রি করেও গ্রামের মানুষ অর্থ রােজগার করে। প্রতি বুধবার গ্রামে হাট বসে। হাটে শহরের লােকজন এসে সরাসরি গ্রামের কৃষকদের কাছ থেকে কৃষিজাত পণ্য সংগ্রহ করে।

গ্রামের প্রতিষ্ঠান: 

আমাদের গ্রামে একটি প্রাথমিক ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এ ছাড়া একটি কামিল মাদ্রাসা রয়েছে। আরাে রয়েছে একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও দুটি বেসরকারি অফিস। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটি মসজিদ, একটি মন্দির ও একটি গির্জা রয়েছে। গ্রামের শেষ প্রান্তে রয়েছে একটি পােস্ট অফিস। 


গ্রামের সংস্কৃতি: 

সাংস্কৃতিকভাবে আমাদের গ্রাম খুবই উন্নত। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এখানে নানা ধরনের মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়। যেমন : চৈত্র মাসের শেষে চৈত্রসংক্রান্তির মেলা, বৈশাখ মাসে বৈশাখি মেলা, অঘাণ মাসে নবান্ন অনুষ্ঠান, পৌষ মাসে পিঠার অনুষ্ঠান ইত্যাদি। গ্রামের মুসলিম ও হিন্দু বিয়েতে লােকজ গান, নাচ ও খাবারের আয়ােজন করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দিবসে স্কুলে অনুষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবেও লােকজন নানা অনুষ্ঠানের আয়ােজন করে থাকে। 

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ রচনা ২০ পয়েন্ট | বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ রচনা


গ্রামের সামাজিক উৎসব:

আমাদের গ্রামের সবচেয়ে বড় ঐতিহ্য হচ্ছে বহুবছরের প্রচলিত বিভিন্ন সামাজিক উৎসব সমূহ। আমাদের গ্রামে এখনো প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে মেলা বসার প্রচলন রয়েছে। তাছাড়া, পিঠা উৎসব, নৌকা বাইচ, ঘুড়ি উৎসব, শীতের রাতে বাড়ির উঠোনে পালা গান, কীর্তন আমাদের গ্রামের সংস্কৃতির অংশ৷ আমাদের গ্রামের উৎসব আমাকে একটি বিখ্যাত উক্তিটি মনে করিয়ে দেয়-

“একটি সংস্কৃতির মহত্ত্ব প্রকাশ পায় তার উৎসবের মাধ্যমে।”


স্বাধীনতা সংগ্রামে গ্রামের অবদান: 

মহান মুক্তিযুদ্ধে এ গ্রামের মানুষের অবদান অনেক। এ গ্রামের মানুষের সাহসিকতা ও বীরত্বে পাকিস্তানি বাহিনী এ গ্রামে প্রবেশের খুব একটা সুযোগ পায়নি। মুক্তিযুদ্ধের সময় এ অঞ্চলের দুজন আঞ্চলিক কমান্ডার এ গ্রামে থেকেই যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন। পাকিস্তানি বাহিনীর গতি রােধ করার লক্ষ্যে এ গ্রামের এক ছেলে ব্রিজ ধ্বংস কতে গিয়ে শহিদ হয়েছেন। তার এবং মুক্তিযুদ্ধে আরাে যারা শহিদ হয়েছেন তাদের স্মরণে গ্রামে একটি শহিদ মিনার স্থাপন করা হয়েছে। 

গ্রামের চিকিৎসা ব্যবস্থা:

আমাদের গ্রামের চিকিৎসা ব্যবস্থা এখনো গ্রাম্য ডাক্তারের উপর নির্ভরশীল। যারা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল তারা সদরে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে পারলেও যাদের সামর্থ্য নেই তাদের শেষ ভরসা ঐ পল্লী চিকিৎসক। একসময় ঔষুধের জন্যও সদরে ছুটে যেতে হতো। তবে, বর্তমানে গ্রাম্যহাটে দুই একটা ফার্মেসি রয়েছে। গ্রামে যে ছোট ক্লিনিক রয়েছে সেখানে প্রসূতি মায়ের সেবা ও জ্বর কাশির চিকিৎসা ছাড়া আর তেমন কোন স্বাস্থ্য সেবা মেলেনা।

গ্রামের শিক্ষার হার:

আমাদের গ্রামের অনেকেই এখনো শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। এর প্রধান কারণ হচ্ছে দারিদ্রতা। সুকান্ত ভট্টাচার্য বলেছেন, “ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।” আমার গ্রামের শিক্ষার হার মাত্র ৫৭%। আমাদের গ্রামে ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি উচ্চ বিদ্যালয় ও ১টি মাদ্রাসা রয়েছে। বাল্যবিবাহ, কুস্ংস্কারের কারণে আমাদের গ্রামের অনেক মেয়েরা এখনো শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। তবে, বর্তমানে শিক্ষিত তরুণেরা গ্রামবাসীর মাঝে শিক্ষার সচেতনতা তৈরির ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছে। গ্রামের বিত্তশালীরা যদি এগিয়ে আসে তবে আমাদের গ্রাম একদিন নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে। এম. এফ মুঞ্জাযের বলেছেন-

“সম্পদ কোনোদিনই দারিদ্রতা নিরসন করতে পারে না। দারিদ্রতা নিরসনের জন্য দরকার শিক্ষা।”


গ্রামের একাল-সেকাল:

এক সময় আমাদের গ্রাম ছিল ধানে -মৎসে ভরা। আর এ পরিপূর্ণতার প্রধান শিল্পী ছিল কৃষকেরা। অনেকটা কবির কবিতার মত-

আরও পড়ুনঃ  পিতা মাতার প্রতি কর্তব্য রচনা | পিতা মাতার প্রতি কর্তব্য

“সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা,

দেশ মাতারই মুক্তিকামী, দেশের সে যে আশা।

দধীচি কি তাহার চেয়ে সাধক ছিল বড়?

পুণ্য অত হবে নাক সব করিলে জড়।

মুক্তিকামী মহাসাধক মুক্ত করে দেশ,

সবারই সে অন্ন জোগায় নাইক গর্ব লেশ।”

-রাজিয়া খাতুন চৌধুরাণী

কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে গোলা। এখন ঢেঁকিতে ধান ভাঙ্গা শুধু গল্পেই সীমাবদ্ধ। দারিদ্রতার সাথে লড়াই করে কৃষকদের বাঁচতে হয়৷ তাঁতী, কামারেরা পূর্ব পুরুষের পেশা ছেড়ে দুমুঠো অন্নের জন্য বেছে নিয়েছে দিনমজুরি। আগে ছিল গ্রাম অন্ধকারাচ্চন্ন। এখনো ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ। গ্রামের মেঠো পথের রূপ পরিবর্তিত হয়ে হয়েছে পিচঢালা পথ৷


উপসংহার: 

আমাদের গ্রাম একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও সমৃদ্ধ গ্রাম। গ্রামবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক ও ভ্রাতৃভাব বিদ্যমান। তারা উৎসবে-পার্বণে, বিপদে-আপদে একে অন্যের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। এমন একটি গ্রামে জন্মেছি বলে আমি সত্যি গর্ব অনুভব করি।

আমাদের ছোটো গ্রাম মায়ের সমান,

আলো দিয়ে বায়ু দিয়ে বাঁচাইছে প্রাণ।

মাঠভরা ধান আর জলভরা দিঘী,

চাঁদের কিরণ লেগে করে ঝিকিমিকি।

আমগাছ জামগাছ বাঁশ ঝাড় যেন,

মিলে মিশে আছে ওরা আত্মীয় হেন।

সকালে সোনার রবি পূব দিকে ওঠে

পাখি ডাকে, বায়ু বয়, নানা ফুল ফোটে।

বন্দে আলী মিঞা

আমাদের সাইটের আরও রচনা পড়ুনঃ

আমাদের দেশ রচনা ক্লাস ৫ | আমাদের দেশ রচনা ক্লাস 4

বাংলা রচনা শেখ রাসেল | আমার বন্ধু শেখ রাসেল

মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার – প্রবন্ধ রচনা

মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতা ও মানবিক মূল্যবোধ রচনা | রচনা মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতা ও মানবিক মূল্যবোধ

শঙ্খ ঘোষ প্রবন্ধ রচনা | শঙ্খ ঘোষ প্রবন্ধ রচনা class 12

করোনা ভাইরাস অনুচ্ছেদ রচনা বাংলা | করোনা ভাইরাস রচনা

স্বপ্নের পদ্মা সেতু রচনা ১২০০ শব্দ | পদ্মা সেতু রচনা ১০০

বঙ্গবন্ধুর জীবনী বাংলা রচনা ১০০০ শব্দ | বঙ্গবন্ধুর জীবনী ও কর্ম রচনা | বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ রচনা

ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য – রচনা 

TAG: আমাদের গ্রাম,প্রবন্ধ রচনা আমাদের গ্রাম,প্রবন্ধ রচনা,আমাদের গ্রাম রচনা for class7,আমাদের গ্রাম রচনা ক্লাস ৪,আমাদের গ্রাম রচনা সপ্তম শ্রেণী,আমাদের গ্রাম রচনা class 6,আমাদের গ্রাম রচনা ২০০ শব্দ,আমাদের গ্রাম রচনা ক্লাস ৩,আমাদের গ্রাম কবিতা,রচনা আমাদের গ্রাম,আমাদের গ্রাম সম্পর্কে ১০টি বাক্য,আমাদের গ্রাম কবিতা প্রশ্ন উত্তর,আমাদের গ্রাম কবিতা ক্লাস 2,আমাদের গ্রাম কবিতার মূলভাব। 

Thank You All

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these

Share via
Copy link