পরের অনিষ্ট চিন্তা করে যেই জন নিজের অনিষ্ট বীজ করে সে বপন ভাব সম্প্রসারণ

পরের অনিষ্ট চিন্তা করে যেই জন নিজের অনিষ্ট বীজ করে সে বপন ভাব সম্প্রসারণ

আমাদের পরিক্ষা প্রায় কাছেই চলে এসেছে। আর আপনাদের পরিক্ষা সহজ করতে নিয়ে এলাম পরের অনিষ্ট চিন্তা করে যেই জন নিজের অনিষ্ট বীজ করে সে বপন ভাব সম্প্রসারণ। যা আপনারা এখান থেকে শিখে পরিক্ষায় ভালোভাবে লিখতে পারবেন। যার ফলে পেয়ে যাবেন ভালো একটি নাম্বার। আর তাই নিচের আর্টিক্যাল পড়ুন মন দিয়ে।

পরের অনিষ্ট চিন্তা করে যেই জন নিজের অনিষ্ট বীজ করে সে বপন ভাব সম্প্রসারণ

পরের অনিষ্ট চিন্তা করে যেই জন নিজের অনিষ্ট বীজ করে সে বপন


মূলভাবঃ

যে ব্যাক্তি অন্যের ক্ষতি করার চেষ্টা করে পরিণামে তাকেই অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। প্রকৃতি সবসময় ভারসাম্য রক্ষা করে বলেই মানুষকে এই বাস্তবতার সম্মুখীন হতেই হয়।


সম্প্রসারিত ভাবঃ

বিশ্বের সব ধর্মশাস্ত্রে অন্যের মঙ্গল কামনাকারীর কীর্তন করা হয়েছে। যারা অন্যের ক্ষতি করে, তারা দুষ্কৃতিকারী। নিজেদের অপকর্মের ফল নিজেদেরকেই ভােগ করতে হয়। যে অন্যায় করে, সে তার নিজের বিবেকের কাছে অপরাধী হয়ে ওঠে। অতএব, তার অন্তরে আত্মগ্লানিরূপ নরকানল সর্বদা প্রজ্বলিত থাকে। মুহুর্তের জন্যও তার জীবনে স্বস্তি আসে না। বাস্তবেও আমরা এর প্রতিফলন দেখতে পাই। অনিষ্টকারীকেও এর পরিণাম ভােগ করতে হয়। মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত। পরের ক্ষতি সাধনের মতাে কোনাে গর্হিত কাজ করার চিন্তা থেকে মানুষের দূরে থাকা উচিত। প্রতিটি মুহূর্তেই মানুষকে স্মরণ রাখতে হবে, অপরের ক্ষতির চিন্তা করা মহাপাপ। যে কাজে অন্যের ক্ষতি হবে, সেই কাজ করা কোনাে সুবিবেচকের কাজ নয়।

আরও পড়ুনঃ  ভাবসম্প্রসারণ: পাপীকে নয় পাপকে ঘৃণা কর | সকল শ্রেনীর জন্য

সুতরাং ভালো কর্মসম্পাদনে আমরা আমাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করব। অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া মানুষের মহৎ গুণাবলির একটি। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানাের চেষ্টা করা সবার কর্তব্য। সমাজকে শান্তিময় করে তুলতে হলে অন্যের অভান-অনটন, দুঃখ-দুর্দশা দূর করতে হবে। কিন্তু আমাদের সমাজে এক শ্রেণির মানুষ আছে, যারা অন্যের কল্যাণ তাে করেই না, বরং ক্ষতি সাধনে সর্বদা উদগ্রীব থাকে। কিন্তু তাদের বিপদ যে তারা নিজেরাই ডেকে আনছে, তা তারা জানে না। সুতরাং নিজের এবং অপরের স্বার্থে তথা সার্বিক স্বার্থে প্রতিটি মানুষের উচিত পরের অনিষ্টের কথা চিন্তা না করে বরং পরের কল্যাণে কাজ করা।


মন্তব্যঃ

সবসময় অন্যের উপকারের কথাই ভাবা উচিত। এর মধ্যেই মানবজীবনের প্রকৃত সার্থকতা ও সুখ নিহিত।

আরও পড়ুনঃ  পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি ভাবসম্প্রসারণ | পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি ভাবসম্প্রসারণ সহজ

ভাব সম্প্রসারণ ২

মূলভাব:

পরের ক্ষতি সাধনের পরিণাম ভালো নয়। আর এটি করে মূলত নিজের ক্ষতিই করা হয়। এমনকি পরের অনিষ্ট সাধনের চিন্তার মধ্যেও নিজের অনিষ্ট সাধন জড়িয়ে রয়েছে।

সম্প্রসারিত ভাব:

মানুষ সামাজিক জীব। সমাজকে কল্যাণকামী ও সর্বাঙ্গসুন্দর করার জন্য প্রত্যেকটি মানুষের উচিত অন্যের মঞ্চাল কামনা করা। প্রকৃতপক্ষে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রেরণা থেকেই সমাজের বিকাশ লাভ। পরোপকার করার মানসিকতা যদি নাও থাকে, অন্যের ক্ষতি করবার প্রবণতা থাকা উচিত নয়। অন্যের অনিষ্ট সাধন শুধু সমাজ গর্হিত কাজই নয়, ধর্মীয় ও নৈতিক বিচারেও বড় অন্যায়। মানুষ হিসেবে পরের জন্য নিজ স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেওয়াই মূল আদর্শ। তারপরেও যারা অন্যের অনিষ্ট সাধনের কথা ভাবে তারা যে খুব লাভবান হয় তা নয়। মূলত তারা নিজের ক্ষতিই সাধন করে। ধ্বনি যেমন প্রতিধ্বনির জন্ম দেয় তেমনি কুচিন্তা মানুষের জন্য বিপদের সৃষ্টি করে। যে অন্যের অনিষ্ট চিন্তা করে সে নিজের অজ্ঞাতে আপন অনিষ্টেরই বীজ বপন করে। কারণ অশুভ চিন্তার পরিণাম অশুভই হয়ে থাকে। আর কেউ যদি অন্যের ক্ষতি করে তাহলে সে নিজের শত্রু ও প্রতিপক্ষ তৈরি করে। আপন কর্মের প্রতিদান যরূপ একদিন তাকে মারাত্মক পরিণামের মুখোমুখি হতে হয়। অন্যায় আর অকল্যাণ দুর্ভোগেরই জন্ম দেয়। ব্যক্তিগত সততা আর কল্যাণ চিন্তা মানুষের জন্য বয়ে আনে নিরাপত্তা ও স্বস্তি। এটা সামাজিক অগ্রগতি ও শান্তির পূর্বশর্ত।

আরও পড়ুনঃ  ভাব সম্প্রসারণ: জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভালো

মন্তব্য:

পরের অনিষ্ট সাধন থেকে বিরত থাকা আমাদের সবারই কর্তব্য। পরের অনিষ্ট চিন্তা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারলে নিজের অনিষ্টও হবে না।

আরও পড়ুনঃ

  1. ভাবসম্প্রসারণ: পাপীকে নয় পাপকে ঘৃণা কর
  2. পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি ভাবসম্প্রসারণ
  3. আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস রচনা ২০ পয়েন্ট

এই ব্লগের শেষ কথা,

বন্ধুরা পরের অনিষ্ট চিন্তা করে যেই জন নিজের অনিষ্ট বীজ করে সে বপন এই ভাব সম্প্রসারণ প্রায় পরিক্ষাতেই এসে থাকে। আর পরিক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে হলে অবশ্যই আপনার সিলেবাসে থাকা সবগুলি পড়া উচিত। আর তাই আপনাদের পড়া সহজ করে দেয়ার জন্যই আজকের এই আর্টিক্যালটি লেখা। যদি আপনাদের উপকার হয়ে থাকে তবে অবশ্যই শেয়ার করবেন বন্ধুদের সাথে।

About the Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like these

Share via
Copy link